বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১

একাধিক মসজিদ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন হাসান আলী ভূঁইয়া

ইসলামী কণ্ঠ প্রতিবেদক
একাধিক মসজিদ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন হাসান আলী ভূঁইয়া

ধর্মীয় অনুরাগ, সততা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মো. হাসান আলী ভূঁইয়া। যিনি দীর্ঘ ৩৯ বছরের ব্যাংকিং জীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নিজ এলাকায় একাধিক মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে একজন নিবেদিতপ্রাণ দ্বীনসেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি আজও ‘ম্যানেজার সাহেব’ নামে সম্মানিত।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন ‘ইসলামী কণ্ঠ’ বিভাগে তাঁর জীবনের নানা দিক, ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসলামীকণ্ঠের প্রতিনিধি।

ইসলামীকণ্ঠ : আপনার শৈশব, পারিবারিক জীবন ও ধর্মীয় চর্চার সূচনা সম্পর্কে বলুন।

হাসান আলী ভূঁইয়া : আমার জন্ম ১৫ মার্চ ১৯৫৫ সালে। চাঁদপুর শহরের উপকণ্ঠে ষোলঘর তরপুরচণ্ডী গ্রামে আমার শৈশব ও পারিবারিক জীবন কেটেছে। আমার পিতা মরহুম মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া এবং মাতা মরহুমা জিন্নত বেগম। আমার বড়োভাই মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। ভাইয়ের মৃত্যুর শোকে মা অসুস্থ হয়ে ১৯৯২ সালে ইন্তেকাল করেন এবং বাবা ২০০৬ সালে ইন্তেকাল করেন।

আমার মা-ই ছিলেন আমার প্রথম শিক্ষক। তাঁর কাছ থেকেই ধর্মীয় অনুভূতি ও দ্বীন পালনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ছোটবেলা থেকেই নফল রোজা, শবে বরাত, মহরম এবং মাহে রমজানের রোজা মায়ের সঙ্গে রাখতাম। এভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করে আসছি।

ইসলামীকণ্ঠ : ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ চাকরি জীবনে সততা ও আমানতদারিতা কীভাবে বজায় রেখেছেন?

হাসান আলী ভূঁইয়া : আমি ১৯৭৫ সালে সোনালী ব্যাংকে চাকরিতে যোগদান করি এবং টানা ৩৯ বছর দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণ করি। চাকরি জীবনে সততা ও আমানতদারিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। ইসলামী নীতি-নৈতিকতা আমাকে সবসময় সঠিক পথে চলতে সহায়তা করেছে। আমি চেষ্টা করেছি যেনো আমার দায়িত্ব পালনে কখনো কোনো অনিয়ম না হয়।

ইসলামীকণ্ঠ : ব্যাংকে কাজ করতে গিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ধরে রাখতে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন কি?

হাসান আলী ভূঁইয়া : আলহামদুলিল্লাহ, আমি সবসময় ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যাংকের নিয়মনীতি মেনে চলেছি এবং কখনো কোনো অনিয়ম বা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি।

ইসলামী কণ্ঠ : একাধিক মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা হয়েছে?

হাসান আলী ভূঁইয়া : ছোটবেলা থেকেই মসজিদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। এলাকাবাসীর আস্থার কারণে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মসজিদের পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছি। প্রায় ৩৫ বছর ধরে ৫টি মসজিদের পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলাম। বর্তমানে বয়সের কারণে দুটি মসজিদ এবং ছারছীনা পীর সাহেবের খানকায়ে ছালেহিয়া মোহেব্বীয়া কমপ্লেক্সের দায়িত্ব পালন করছি।

মসজিদের উন্নয়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সার্বিক তত্ত্বাবধানসহ সব বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। চাঁদপুর জেলা জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সভাপতি মাওলানা মো. সাইফুদ্দিন খন্দকার সাহেব আমাকে মসজিদের খেদমতে উৎসাহিত করেছেন।

ইসলামীকণ্ঠ : বর্তমান সমাজে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ও দাওয়াত কার্যক্রম কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?

হাসান আলী ভূঁইয়া : বর্তমান সময়ে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন যোগ্য ও আদর্শ ইমাম সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নবী-রাসূল, সাহাবী ও সালফে সালেহীনদের অনুসৃত পথ অনুসরণ করে ইসলামের সঠিক দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কেন্দ্র।

ইসলামীকণ্ঠ : তরুণ প্রজন্মকে মসজিদমুখী করতে কী উদ্যোগ নেয়া উচিত?

হাসান আলী ভূঁইয়া : তরুণ প্রজন্ম জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও মসজিদ উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকদের উচিত ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মসজিদমুখী করা এবং ইসলামী শিক্ষা প্রদান করা। পাশাপাশি মসজিদে নিয়মিত কোরআন শিক্ষা, ইসলামী আলোচনা ও নৈতিকতা বিষয়ক কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। ইমাম ও আলেমদের তরুণদের উপযোগী ভাষায় দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

ইসলামী কণ্ঠ : এলাকাবাসী আপনাকে ‘ম্যানেজার সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন—এটি আপনার সামাজিক দায়িত্ববোধকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

হাসান আলী ভূঁইয়া : এটি আমার জন্যে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। এই সম্বোধন মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন। এটি আমার সামাজিক দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি।

আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার কাজ ও দায়িত্ববোধের মধ্যে নিহিত।

ইসলামী কণ্ঠ : ভবিষ্যতে আপনার ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্বপ্ন কী?

হাসান আলী ভূঁইয়া : আমি বর্তমানে আমেরিকার গ্রীন কার্ডধারী এবং দেশে-বিদেশে বসবাস করি। আমার স্বপ্ন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আদর্শে একটি পূর্ণাঙ্গ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যেই ছারছীনা পীর সাহেবের খানকায়ে ছালেহিয়া মোহেব্বীয়া কমপ্লেক্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের কাছে দোয়া চাই।

ইসলামী কণ্ঠ : দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকদের জন্যে আপনার বার্তা কী?

হাসান আলী ভূঁইয়া : দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ একটি জনপ্রিয় ও সম্মানিত পত্রিকা। ইসলামীকণ্ঠ বিভাগে আমাকে স্থান দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আমি চাই, এই বিভাগের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর ইতিহাস ও কার্যক্রম তুলে ধরা হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বীনের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়