প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫, ০১:০৪
হিজরী সনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

|আরো খবর
হিজরী সনের সূচনা: হিজরী সনের সূচনা হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকে কেন্দ্র করে। খলিফা হজরত উমর (রা.) তাঁর খেলাফতের সময়ে সাহাবিদের পরামর্শক্রমে এই মহান ঘটনাকে মুসলিম সনের সূচনা হিসেবে নির্ধারণ করেন। তিনি চাইলেই নবীজির জন্ম বা ওহি আগমনের দিনকে ভিত্তি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি বেছে নেন হিজরতকে। কারণ হিজরত ছিলো ইসলামী রাষ্ট্র ও সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর। সেখানে ইসলামী সমাজ গঠিত হয়।
হিজরী সনের বৈশিষ্ট্য :
হিজরী সন চন্দ্র মাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত। এটি একদিকে যেমন প্রকৃতির নিয়মে নির্ভরশীল, তেমনি সকল মুসলিম সমাজে ধর্মীয় সময় নিরূপণের ভিত্তি। ঈদ, রোজা, হজ, আশুরা, আরাফাহ ইত্যাদি সব ইবাদতের সময় নির্ধারিত হয় এই হিজরী সনের মাধ্যমে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটিÑআসমান ও জমিন সৃষ্টি হওয়ার দিন থেকেই।” সূরা আত-তাওবা : ৩৬। এতে বোঝা যায়, সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মাসের সংখ্যা বারো এবং তা আল্লাহ নির্ধারিত। ইসলাম এটিকে অপরিবর্তনীয় রূপে মেনে নিয়েছে।হিজরী সনের শিক্ষা ও তাৎপর্য : হিজরী সন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি এক বিপ্লব, এক আত্মত্যাগের ইতিহাস। হিজরতের মধ্য দিয়ে ঈমানদারদের ত্যাগ, ধৈর্য, সাহস, ইমান ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। মুসলমানদের জীবনেও এ শিক্ষা অপরিহার্যÑআদর্শ ও আকিদা রক্ষায় কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়েও দৃঢ় থাকতে হবে।
বর্তমান অবস্থা : দুঃখের বিষয় হলো, আজ মুসলমানদের একটি বড়ো অংশ হিজরী সনকে তুচ্ছজ্ঞান করে থাকে। ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ, অফিসিয়াল কাগজপত্র ও দৈনন্দিন জীবনে হিজরী সনের কোনো স্থান নেই। অথচ ঈমান ও আমলের অনেক বিষয়ই হিজরী সময়ের সাথে জড়িত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন : “যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮। এ রমজান, শাবান, মুহাররমÑসবই হিজরী মাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
হিজরী সন ফিরে পেলে কী হবে? হিজরী সনের পূর্ণ মর্যাদা ও গুরুত্ব মুসলিম জাতিকে ফিরিয়ে আনবে তার ঐতিহ্যে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে নবীজির আদর্শ, সাহাবিদের ত্যাগ ও ইসলামী ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়গুলো। হিজরী সনকে জীবনে ফিরিয়ে আনা মানে, কেবল একটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার নয়, বরং তা হলো মুসলিম পরিচয়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।
আমাদের করণীয় :
স্কুল, মাদরাসা ও পরিবারে হিজরী সন শেখানো। ব্যক্তিগত ডায়েরি ও অফিসিয়াল কাগজে হিজরী তারিখ ব্যবহার।
নতুন হিজরী বছরের শুরুতে আত্মমূল্যায়ন ও ইসলাহী পরিকল্পনা করা।
হিজরী মাসগুলোতে ইবাদত ও দুআ বাড়ানো।
পরিশেষে বলবো, হিজরী সন কোনো পুরানো ক্যালেন্ডার নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও আদর্শিক চেতনার প্রতীক। তাই হিজরী সনকে জানা, মানা এবং ব্যবহার করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। আসুন, আমরা হিজরী সনের মর্যাদা ফিরে পেতে সচেষ্ট হই, যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই গৌরবময় ইতিহাসের সাথে পরিচিত হয় এবং ইসলামি মূল্যবোধে গড়ে ওঠে।
লেখক : সদস্য, সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর।





