প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩
মব সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের জাস্টিস অব দ্য পিসের কড়া নির্দেশনা
প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

অপরাধী আটকের নামে বেআইনি মারধর, হেনস্তা ও কথিত মাদক প্রদর্শনের মতো ‘মব সন্ত্রাস’ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে তিনি এ আদেশ দেন।
|আরো খবর
আদেশে বলা হয়, ‘weeklyhajigonj’ নামের একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়—হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এক প্রবীণ ব্যক্তির মুদি দোকানে ঢুকে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছে। এ সময় এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ মাদক দেখা যায় এবং তা দেখিয়ে সে মুঠোফোনে পুলিশ কর্মকর্তাকে সংবাদ দিচ্ছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ভিডিওর কথোপকথন থেকে জানা যায়—হেনস্তার শিকার ওই প্রবীণ ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী। তবে ঘটনার সময় সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
বিষয়টি বিশ্লেষণ করে জাস্টিস অব দ্য পিস বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিককে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটকের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। উচ্ছৃঙ্খল তরুণরা প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারায় অপরাধজনক অনুপ্রবেশের অপরাধ করেছে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করায় দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কোনো সন্দেহভাজনকে নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে মারধর করা নিকৃষ্টতম ‘মব কালচার’ ও সামাজিক নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ, যা সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত প্রবীণ ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আদেশে উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল তরুণদের মাধ্যমে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড বিচারিক প্রক্রিয়ায় দমন করা না গেলে জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা চরম হুমকির মুখে পড়বে। তাই আইনের শাসন ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে কিশোর গ্যাং ও মব কালচারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তকরণ, তাদের বিস্তারিত ঠিকানা ও সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে ওই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা-ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







