বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বোর্ডে শাহরাস্তির রবিউল আলম

অনলাইন ডেস্ক
কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বোর্ডে শাহরাস্তির রবিউল আলম

বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে লাল-সবুজের নাম আরও একবার উজ্জ্বল করলেন বাংলাদেশি গবেষক মো. রবিউল আলম। অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড’ (ইউকিউ)-এর নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ সংস্থা ‘একাডেমিক বোর্ড’-এ পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্টুডেন্ট মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কড়া প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে একমাত্র সংরক্ষিত আসনে জয়ী হয়েছেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এক বছরের জন্য রবিউল আলম এই দায়িত্ব পালন করবেন।

একাডেমিক বোর্ড কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের প্রধান একাডেমিক পরামর্শক সংস্থা। শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে বোর্ডটি সিনেট ও উপাচার্যকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রির শিক্ষার্থী। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৭ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের শীর্ষ ৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি।

রবিউল আলম কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এডুকেশনের পিএইচডি গবেষক ও ক্যাজুয়াল একাডেমিক। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ভাষা ব্যবস্থাপনা, বহুভাষিকতা, ভাষাগত টেকসইতা ও ভাষানীতি। শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দায়িত্বেও সক্রিয় তিনি। এর আগে তিনি স্কুল অব এডুকেশন এইচডিআর রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে ইউনিভার্সিটাস ২১ এডুকেশন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চার্স কমিউনিটি অব প্র্যাকটিসে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিষয়ক গ্র্যাজুয়েট গবেষকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন রবিউল। পাশাপাশি ব্রিসবেনের আয়রনসাইড স্টেট স্কুল কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য ও সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

নির্বাচনে তাঁর প্রতি আস্থা ও সমর্থনের জন্য কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শিক্ষার্থী কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রবিউল। তিনি গবেষণা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শুনতে চান। সেসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর একাডেমিক আলোচনায় তুলে ধরতেও আগ্রহী তিনি। বিশেষ করে গবেষণা প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান, ক্যান্ডিডেচার, একাডেমিক সুযোগ এবং এইচডিআর শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরতে চান রবিউল।

রবিউল আশা করেন, তাঁর এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের—বিশেষ করে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী তরুণদের—বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বৃহত্তর পরিসরে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

রবিউল আলমের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ গবেষক এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় উদ্দীপনা। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে রবিউল বলেন, “উচ্চশিক্ষা মানে কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন করা বা সার্টিফিকেট হাতে নেওয়া নয়। উচ্চশিক্ষার প্রকৃত অর্থ হলো নিজের একটি সুনির্দিষ্ট কণ্ঠস্বর তৈরি করা, দায়িত্ব নেওয়া, অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করা এবং একাডেমিক প্রাঙ্গণে অর্থবহ অবদান রাখা।”

উদ্যম, নিষ্ঠা ও ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে বৈশ্বিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়া যে সম্ভব—রবিউল আলমের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ তারই এক অনন্য দলিল। ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর এই যাত্রা আন্তর্জাতিক শিক্ষামঞ্চে বাংলাদেশের সুনামকে আরও সুসংহত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এই কৃতী গবেষকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায়। তিনি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দৈয়ারা গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর এই অর্জনকে স্থানীয় বাসিন্দারা শাহরাস্তি তথা পুরো বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল গৌরব ও প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়