প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯
বর্ষার খিচুড়ি

সকাল বেলাই সন্ধ্যের আকাশ। বর্ষা চলছে পুরোদমে। অবশ্য এখন আর বর্ষা হয় না, হয় নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত। আর প্রচণ্ড বাজ। তারমধ্যেই কাল যাপন। জল থৈ থৈ চারদিক কিছুটা বৃষ্টি হতেই। তবু এসি অফ করার কথা ভাবতে পারেন না সুখময় বাবু। যা গরম!
অবশ্য তিনি নামেই সুখময়। জীবনে যে সুখ ঠিক কাকে বলে তা আজও অনুভব করতে পারলেন না।
সকাল থেকে অঝোর ধারা। চা এর টেবিলে বসে সুখময় মধুর স্বরে স্ত্রীকে বললেন- গিন্নি, আজ একটু জমিয়ে খিচুড়ি করো দেখি, অনেক দিন তোমার হাতে খিচুড়ি খাইনি। তারপর এত বৃষ্টি। আজ খিচুড়িই চাই।
-খিচুড়িই চাই মানে?
না আছে ইলিশ না তার ডিম!
আর বৃষ্টি পড়লেই খিচুড়ির পোঁ। বায়না ধরলেই হল? ভাঁড়ারে কি আছে না আছে জানার দরকার নেই!
-আরে ইলিশ বাদ দাও। অনেক গুলো ডিম আছে ডবল ডিমের অমলেট করো।
আর কি চাই বলো না, ব্লিংক কিট থেকে আনিয়ে দিচ্ছি।
-কেন?
রাস্তার জমা জলে শুধু বুঝি তোমারই কষ্ট হয়?
আর যে ছেলেগুলো ডেলিভারি দিতে আসবে তারা ভিজবে না?
এটা শুনে খারাপ লাগল সুখময় বাবুর।
চুপ করে গেলেন! সত্যিই তো বাইকে এলেও তাদেরও তো ভিজে ভিজে আসতে হবে। তারওপর কত জায়গায় জল জমে গেছে তার কোন ঠিক আছে?
ধুত্তোর খিচুড়ি। মাসের সবে কুড়ি, এরই মধ্যেই ভাঁড়ারে ডাল বাড়ন্ত?
যাক গিয়ে না হয় ভাত, তরকারিই খাবেন।
যদি পাঁপড় থাকে, বিকেলে না হয় দুটো নিজেই সেঁকে নেবেন, চা খাবার সময়।
গিন্নির গজগজ থামলে জানলার সামনে চেয়ার টেনে বসে বৃষ্টির শোভা দেখতে লাগলেন। জানলা দিয়ে রাস্তার অনেকটা দেখা যায়। সেরকম না হলেও জল একটু জমেছে বটে। মনে মনে স্ত্রীর প্রশংসাই করলেন। যত রুক্ষমূর্তি দেখাক না কেন, সুজাতার মনটা বড় পবিত্র, বড় উদার। না হলে এমন করে পরের ছেলেদের কষ্টের কথা কে ভাবে? এখন নাকি সব মাঝ রাতে, ভোর রাতে অর্ডার দেয়। দশ মিনিটের বেশি হলে চোটপাট করে! আজকের ছেলেমেয়েরা টাকাটাই উপার্জন করতে শিখেছে, মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারেনি।
ছোটবেলায় বৃষ্টি হলেই খাতার পাতা ছিঁড়ে নৌকো করে অপেক্ষা কতক্ষণে জল জমবে?
আর গরম গরম এক থালা খিচুড়ি না হলে কি বর্ষাকাল মানায়! বৃষ্টিপড়াই বৃথা হয়ে যায়। দেখলেন সামনের কদম গাছে ঝেঁপে ফুল এসেছে। দুটো শালিক নিজেদের মধ্যে কচকচ করছে এই বৃষ্টিতেও। বোধহয় তার স্বামীও খিচুড়ির বায়না ধরেছে। নিজের ভাবনার রসিকতায় নিজের মনে হেসে ওঠেন সুখময়। বর্ষার ভিজে হাওয়া, ছাই আকাশ আর শালিকের খুনসুটিতে ডুবে মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে গেল।
-আঃ তুমি না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে?
এই দেখো কখন থেকে ডেকে চলেছি। আরে ওঠ ওঠ। খাবার বেড়েছি, বর্ষার হাওয়ায় সব ঠাণ্ডা হয়ে গেল।
স্ত্রীর হাঁক ডাকে ঝটকা ভাঙে সুখময় বাবুর।
-লজ্জিত ভঙ্গিতে বলেন, চোখ টা লেগে গেছিল।
-সুজাতা হেসে বলে, শুধু লেগে নয়, নাক ও ডাকছিলে।
নাও এখন চোখে মুখে জল দিয়ে খেয়ে নাও।
-খাবার টেবিলে বসে সুখময় অবাক!
কত কী করেছে সুজাতা। খিচুড়ি,কষা আলু, পাঁপড় ভাজা, ডবল ডিমের অমলেট আবার টমেটোর টক-ঝাল-মিষ্টি চাটনি।
আরে তুমি করেছ কি! আমি তো শুধু একটু খিচুড়ি খেতে চেয়েছিলাম। মনে মনে অপ্রস্তুত হন সুখময়, বললেন আমাকে একটু ডাকতে পারতে...হাতে হাতে।
-নাও নাও, অনেক হয়েছে।
এখন খেয়ে উঠে আমি নাক ডেকে ঝিমোব, তুমি বিকেলের চা করে আমাকে ডেকে খাওয়াবে হি হি হি।
-নির্ভার হয়ে গেল সুখময়ের মন। আর কি চাই। সত্যিই সে সুখময়।
বললেন আচ্ছা বেশ বেশ তাই হবে, এখন এসো খেয়ে নিই।







