প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৩:১৬
পাঠক ফোরামের কবিতা

আবদুর নূর রাজ্জাক টাইগ্রিসের স্মৃতিলিপি
আদিমকাল হতে
তুমি আমি ভেবেছি
কাক্সিক্ষত রাতের জোনাকিজীবন
বিভোর বিহঙ্গের মতো কাটিয়ে দেব।
অতি-যাপনের নেশায়
বিস্ময় আর বিবিধ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে
প্রতিদিন বড় হয়ে উঠেছে
আমাদের যাপিত সময়।
আর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে
আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি।
কতকাল ধরে নীরবে চেয়েছি
এমন মধুর দিন।
দেখেছি মেসোপোটেমিয়া হতে
এশিয়ার তৃণভূমি;
আমরা পা ফেলেছি
বিস্তীর্ণ সরোবরে।
কতদিন সেখানে ছিলাম
মৃত্যুর আকাক্সক্ষা নিয়ে।
ভালোবেসে যে সাগরমন্থন শেষে
মানুষ একদিন চলে যায়।
একদিন দেখি—তোমার চোখে টাইগ্রিস।
দক্ষিণ হাওয়ায় দুলছো তুমি,
মাথাভর্তি কেশ
পা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
মুখ ও মুখের গড়নে
প্রাচীন কোনো ছাপ নেই,
স্মরণেও নেই
কোনো আদিম সুর।
তবু কোথাও থেমে থাকে না সময়Ñ
শুধু নদী বয়ে যায়
আর মানুষ হারায়
নিজের মুখ ও মুখের গড়ন
ভুলে যায় উৎসের শব্দ।
আসাদ আরিয়ান
মোবাইল ফোনমোবাইল নামটি শুনে মাত্রই,
চোখে কিছু উঠে ভেসে?
হ্যাঁ ঠিক তাই,
ছোট্ট একটি যন্ত্রের ছবি মনে আসে।
উদ্ভাবন তার হয়েছিল, মানব কল্যাণের জন্য।
বর্তমানে সেই বস্তুই আজ,
করছে মগজশূন্য।
চোখের ক্ষতি, মস্তিষ্কের ক্ষতি,
সাথে সময় নষ্ট।
কোথায় রাখি বলো তোমরা,
এত ক্ষতির কষ্ট।
ঝুঁকে থেকে মোবাইল চেপে, মেরুদণ্ড যাচ্ছে বেঁকে।
কিভাবে রক্ষা পাবে মানবজাতি,
প্রযুক্তির করাল গ্রাস থেকে?
শিউলী আচার্য্য
বীর সন্তানভাষার জন্যে যারা দিয়েছো প্রাণ
হে মোর বীর সন্তান।
সালাম জানাই তোমাদের সালাম।
মাতৃভাষার দাম দিলে
বুকের রক্ত দিয়ে।
মহান তোমরা মহান।
কোন মূল্যে শোধ হবে না
তোমাদের রক্তের দাম।
চিরঋণী আমরা বাঙালি জাতি
তোমাদের কাছে।
হে মোর বীর সন্তানেরা।
ভুলবো না আমরা
তোমাদের ভুলবো না।
হে বিজয়ী বীর
আপন রক্তে এঁকেছো
যে ভাষার আলপনা
ভুলবো না তা ভুলবো না।
ছবি-২৭
ইকরা পাঠান
ডানাহীন স্বপ্ন
হতাম যদি এক পাখি,
ডানা মেলে ভেসে যেতাম নীলিমায়;
কিন্তু হায়! হয়ে গেলাম মানুষ,
রয়ে গেলাম চারি দেয়ালের বন্ধনায়।
যেই বন্ধনে নাই কোনো সুখ,
নাই কোনো শান্তি
আছে কেবলই অশান্তি আর অস্বস্তি।
তাইতো প্রতিনিয়তই ভাবি,
কেনো এত হতাশা আর নিরাশায়
ডুবে আছে মানবজাতি!







