প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১১:১৪
শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে শিশুকণ্ঠ

চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন শিশুকণ্ঠের আজ ৭০০তম সংখ্যা। এই বিশেষ সংখ্যায় বহু লেখক নিয়মিতভাবে লিখছেন। শিশুকণ্ঠের এই পাতায় শিশু-কিশোর, নবীন-প্রবীণ ও সাহিত্যপ্রেমীরা তাদের লেখা প্রকাশ করে থাকেন।
শিশুকণ্ঠে লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানো। এটি শিশুদের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম। লেখালেখির মাধ্যমে শিশুরা তাদের কল্পনা, ভাবনা, অনুভূতি ও ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে। এছাড়া শিশুকণ্ঠে লেখার মাধ্যমে ভাষাগত জ্ঞান ও চিন্তার শক্তি বৃদ্ধি পায়, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
আসলে কিছু প্রতিভা জন্মগতভাবে আসে, আবার কিছু প্রতিভা চর্চা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বিকশিত হয়। একসময় আমার মনে হতো, আমি হয়তো কোনোদিন লিখতে পারবো না। সবাই কতো সুন্দর কবিতা, গল্প ও লেখালেখি করতে পারে। আমি কবে পারবো, সেই চিন্তাই করতাম। শুদ্ধভাবে ও ধারাবাহিকভাবে লিখতে পারবো কিনা সেই ভয়ও কাজ করতো।
আমার চোখের সামনেই ছোট-বড় অনেকেই শিশুকণ্ঠে লিখতেন। তখন নিজেকে প্রশ্ন করতাম, তারা লিখতে পারে, আমি পারবো না কেন? একদিন সাহস করে শিশুকণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক সোহাঈদ খান জিয়া কাকাকে বললাম, “আমি একটা লেখা লিখবো, আপনি ঠিক করে দেবেন। যদি মনে হয় লেখাটি পত্রিকায় দেওয়ার মতো, তখনই প্রকাশ করবেন।” কাকা বললেন, “আচ্ছা, তুমি আগে লেখো।”
পরে যেদিন শিশুকণ্ঠ প্রকাশ হওয়ার কথা, সেদিন জিয়া কাকাকে জিজ্ঞেস করলাম, “লেখাটি কি যাবে?” তিনি বললেন, “লেখাটি সম্পাদনার জন্যে প্রধান সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তখন কিছুটা ভয় কাজ করছিলো। কিন্তু পরদিন যখন নিজের লেখাটি ছাপা অবস্থায় দেখলাম, তখন মনের ভেতর এক অন্যরকম তৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাস জন্ম নিলো।
এরপর ধীরে ধীরে নিজের মনের ভাব ও চিন্তাগুলো কাজে লাগিয়ে শিশুকণ্ঠে ছড়া ও ছোট গল্প লেখা শুরু করি। তারপর থেকে মাঝে মাঝেই শিশুকণ্ঠে লেখালেখি করছি। শুধু তাই নয়, শিশু কণ্ঠে প্রকাশিত আমার প্রথম সংখ্যাতেই দুটি ছোট গল্প ছাপা হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘কোরবানি’। পরে পত্রিকার বিশেষ পাতায় পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে দুটি ভ্রমণকাহিনীও লিখেছিলাম। এসবই সম্ভব হয়েছে শিশুকণ্ঠে লেখার সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে।
আসলে কোনো কিছু করতে হলে ছোট থেকেই শুরু করতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে চর্চার মাধ্যমে বড়ো কিছু করা সম্ভব হয়। আর সেই সুযোগটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করে দিচ্ছে চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন শিশুকণ্ঠ।
শিশুকণ্ঠ শুধু একটি পাতা নয়, এটি যেন একটি জ্ঞানের ভাণ্ডার ও সাহিত্যচর্চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চাঁদপুরের অনেকেই শিশুকণ্ঠে লেখালেখির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে লেখক, কবি ও গবেষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাদের সাহিত্যচর্চার শুরুটাও হয়েছিল এখান থেকে।
প্রতিটি সংখ্যায় শিশু কণ্ঠ শিশুদের সুন্দর মনন, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার চেষ্টা করেছে। শিশুদের হাসি, কল্পনা ও প্রতিভার রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে এর প্রতিটি আয়োজন। ৭০০তম সংখ্যার এই বিশেষ মুহূর্তে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই সকল পাঠক, লেখক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের। ভবিষ্যতেও শিশুদের জন্যে সুন্দর, শিক্ষণীয় ও আনন্দময় আয়োজন নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন শিশুকণ্ঠ তার পথচলা অব্যাহত রাখবে--এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে নতুন নতুন লেখক তাদের সৃজনশীলতা আরও বিকশিত করবে। চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন শিশুকণ্ঠ বহুদূর এগিয়ে যাক সমাজ পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায়।







