প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫
রিনির মিনিটা

রিনি আট বছরের এক মিষ্টি মেয়ে। তার চোখে সবসময় কৌতূহলের ঝিলিক, আর মুখে হাসি লেগেই থাকে। রিনির সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হলো তার বেড়ালÑমিনি।
মিনি ছিলো সাদা-কালো রঙের, নরম লোমে ঢাকা, আর চোখ দুটো যেন সবুজ কাঁচের মতো ঝলমলে। রিনি তাকে আদর করতো, খাওয়াতো, আর রাতে নিজের বিছানায় পাশে শুইয়ে ঘুমাতো।
প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে রিনি মিনিকে নিয়ে খেলতো। কখনো লুকোচুরি, কখনো দৌড়ঝাঁপ, আবার কখনো গল্প শোনাতো। মিনি যেন সব বুঝতে পারতো।
একদিন দুপুরে রিনি স্কুল থেকে ফিরে দেখে মিনি নেই। সে খুঁজে খুঁজে অস্থির হয়ে যায়Ñঘরের কোণে, উঠোনে, গেইটের বাইরেÑকোথাও নেই।
রিনি কাঁদতে কাঁদতে মাকে বলে, “মা, আমার মিনি নেই!”
মা তাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দেয়, “ও আবার ফিরে আসবে, মা। বেড়ালরা মাঝে মাঝে বাইরে যায়। চিন্তা করো না।”
বাবা এসে মাথায় হাত রেখে বলে, “আমরা খুঁজে দেখবো। হয়তো পাশের বাড়িতে চলে গেছে।”
বড় ভাই আশ্বাস দিয়ে বলে, “চিন্তা করিস না, আমি খুঁজে নিয়ে আসবো।”
কিন্তু দিন যায়, রাত যায়Ñমিনি আর ফিরে আসে না। রিনির চোখে জল থামেই না।
রিনি প্রতিদিন গেইটের কাছে বসে থাকে। মনে হয়, হয়তো আজ মিনি ফিরে আসবে।
সে মিনির জন্য দুধের বাটি রেখে দেয়, ছোট্ট খেলনা রাখে। কিন্তু বাটি খালি থাকে, খেলনা পড়ে থাকে।
রিনির মন ভেঙে যায়। তবুও সে আশা ছাড়ে না।
একদিন রাত দশটার দিকে হঠাৎ গেইটের কাছে শব্দ শোনা যায় ”মিও...”
রিনি চমকে ওঠে। কান খাড়া করে শোনে। আবার আসে সেই ডাক ”মিও...”
সে দৌড়ে গেইটের কাছে যায়। অন্ধকারে দুটো সবুজ চোখ ঝলমল করছে।
”মিনি!” রিনি চিৎকার করে ওঠে।
মিনি ফিরে এসেছে! তার লোমে ধুলো, চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মুখে সেই মিষ্টি মিউ।
রিনি তাকে কোলে তুলে নেয়। চোখের জল আর হাসি একসাথে মিশে যায়।
মিনি ফিরে আসার পর রিনি তাকে আরও বেশি আদর করে।
সে মিনিকে ভালো করে গোসল করায়, গরম দুধ খাওয়ায়, আর পাশে শুইয়ে ঘুমায়।
রিনি বুঝতে পারেÑবন্ধু হারানোর কষ্ট যেমন গভীর, আবার ফিরে পাওয়ার আনন্দও তেমনি অমূল্য।
রিনি আর মিনি আবার আগের মতো খেলতে থাকে। রিনি শিখে যায়Ñপ্রিয়জনকে হারালে কষ্ট হয়, কিন্তু আশা হারানো উচিত নয়। কারণ ভালোবাসা সবসময় পথ খুঁজে নেয়।






