বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই শাহরাস্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে প্রার্থীরা
  •   কচুয়ায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩

একটি আম গাছের আর্তনাদ ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দীনতা

সুনির্মল দেউরী
একটি আম গাছের আর্তনাদ ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দীনতা

আম গাছটি চাইলেই গর্বের সাথে ভাবতে পারতো তার অবস্থানের মাহাত্ম্য। বহু নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের কলকাকলীতে মুখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী বিদ্বান শিক্ষকদের পদচারণায় ধন্য একটি বড়সড় ক্যাম্পাসের কোল ঘেঁষে তার বেড়ে ওঠা। সে বড়ো হয়েছে প্রত্যেক দিন জাতীয় সংগীতের সুমধুর সুর শুনে শুনে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। যখন জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হতো তখন তার কচি সবুজ পাতাগুলো কেঁপে উঠতো আবেগে। কবিগুরু বুঝি তারই কোনো পূর্ববংশীয়ের প্রতি মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন “ওমা অঘ্রাণে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে----।” এই চরণটি মনে করতেই আমগাছটি যেন চুপসে যায়। পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে দেয়। কেননা শুধু অগ্রহায়ণ নয়, বারমাস-ছয়ঋতু তার চারপাশ থেকে এখন ছড়িয়ে থাকে মাদকের উৎকট গন্ধ! হয়তো সকালের দিকে ইয়াবা, দুপুরের দিকে বিড়ি-সিগারেট, বিকেলে গাঁজা আর রাতে মদ-ফেনসিডিল বা নাম না জানা উত্তেজক পদার্থ। উপরন্তু নিচের মাটি থেকে নির্গত হয় ইউরিক অ্যাসিডের ঝাঁঝালো গন্ধ, যা মূলত ঐ মাদকসেবীদেরই নিঃসৃত মূত্রের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়া’র শপথ শুনে শুনে আম গাছটির শাখা প্রশাখার বৃদ্ধি ঘটে। অথচ আজ সার্বক্ষণিক এই মাদকের বিশ্রী গন্ধে অতিষ্ঠ গাছটি যেন রোগা হয়ে যাচ্ছে। মধ্য বয়সে অবস্থান করা গাছটি কী করে তার মালিককে বোঝাবে তার বিরক্তির কথা? কিন্তু তার মালিক কে? গাছটি আবার ভুগছে মালিকানা সংকটেও।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের চৌহুদ্দি বৃদ্ধির জন্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখল করে। দখল পাকাপোক্ত করার জন্যে সরকারি বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ চারা রোপণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারই মধ্যে একটি সৌভাগ্যবতী চারা রূপে ছিলো আজকের দুঃখ বিলাপকারী এই আম গাছটি। যা হোক, কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ছিলো পরবর্তীতে জায়গাটুকু কিনে নেবে। কিন্তু জমির মালিক রাজি না হওয়ার প্রেক্ষিতে গাছ না লাগিয়েই গাছগুলোর মালিকানা পেয়ে যান তিনি। গাছগুলো পড়ে যায় উভয় সংকটে। তারা অযত্নে বড়ো হয়। মানুষ বেঈমান হতে পারে, তাই বলে বৃক্ষ তো বেঈমানি করতে পারে না। তাই জমির মালিক কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয়ের অবহেলার জবাব দেয় নিজেদের ফুল-ফল দিয়ে। আর সেই সুমিষ্ট ফলের স্বাদ আস্বাদন করে আবার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাই। ও হ্যাঁ, বলে রাখা ভালো, আম গাছটির তিন দিকে রয়েছে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আর একটি তো বুঝতেই পারছেন, বর্ণিত কলেজ। আর এক দিকে রয়েছে উন্মুক্ত ফসলের মাঠ। স্কুল ও কলেজের ভবনের সামনে যথেষ্ট বড়ো খেলার মাঠের পরেই আমগাছটির অবস্থান। তাই মুক্ত আকাশে একদম গম্বুজাকৃতিতে সদর্পে ডালপালা মেলে দিয়ে আম গাছটি তার অবস্থান জানান দেয়। তার পাশে তার ক’টি জাতভাইসহ রয়েছে একটি অন্য প্রজাতির গাছ। তাই ভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষটিকে আম গাছটি তার ডালস্বরূপ বাহুলতায় জড়িয়ে নিয়েছে আষ্ঠেপৃষ্ঠে। সামান্য ভিন্ন মতাদর্শের মানুষগুলো এখন একই মঞ্চে অবস্থান করতে না পারলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষদ্বয়ের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান অনুসরণ যোগ্য। প্রকৃতিগতভাবে গাছটির জন্যে আলো, বাতাস ও পানির অভাব কোনোদিনও হয় নি। ফলে গাছটি স্বাধীনভাবে বিস্তার লাভ করে। দূর থেকে দেখলে আম গাছটির সৌন্দর্য ও বিশালতা উপভোগ করতে পারে যে কেউ। কিন্তু তার হৃদয়ের ক্ষত দেখার মতো, তার দুঃখ অনুভব করার মতো কাউকে পায় না।

হঠাৎ একদিন এক পরিব্রাজক কলেজ আসেন। তিনি কয়েক দিনের জন্য কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করার অনুমতি লাভ করেন অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছ থেকে। তিনি তাঁর নির্দিষ্ট কার্যসাধনের পাশাপাশি লক্ষ্য করলেন, আম গাছটির প্রতি ঐ এলাকার কিশোর ও যুবকদের এক অদ্ভুত ভালোবাসা (!) রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাতেও আমগাছটি ঘিরে তাদের আনাগোনা পরিব্রাজককে কৌতূহলী করে তুললো। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, কয়েকটি দলে বিভক্ত কিছু ছেলে নিয়মিত আমগাছটির কাছে আসে। এরপর তারা গাছটিতে উঠে যায়। গাছটির ঘন সবুজ পাতার আড়ালে তারা সময় কাটায়, তবে গাছের ডালে কীভাবে বসে ও কী করে তা দূর হতে দেখা যায় না। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তারা বাদুড় ঝোলার মতো করে গাছ থেকে নেমে চলে যায়। কখনো গাছের ছায়ায় বসে মোবাইলে চ্যাটিং অথবা গেম খেলে সেটা অনুমান করতে পারা যায়। এমনকি প্রকৃতির ডাকের ছোট কাজটিতে সাড়া দেয় ঐ গাছের নিচেই। এভাবে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পরে পরিব্রাজকের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। বিশেষ করে যখন তিনি দেখলেন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকার্যক্রম চলাকালে স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত ছেলেরা আম গাছটিকে আলিঙ্গন করে করে উপরে উঠে যায় আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেয়। একদিন যখন বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের আমগাছে চড়তে দেখলেন, তখন তিনি দু প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে যোগাযোগ করে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে মোট দুজন স্টাফকে আমগাছটির কাছে পাঠালেন। দু প্রতিষ্ঠানের দুজন স্টাফ পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিলো, তারা যেন নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে পারেন (যদি থাকে)। তারা গিয়ে দেখলো, ঐ মুহূর্তে আমগাছে পাঁচজন কিশোর আড্ডা দিচ্ছে, যার মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী দু জন। অন্য তিনজন এলাকার যুবক, যারা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্পর্শে নেই অর্থাৎ বাউণ্ডুলে। তারা তিনজন গাছ থেকে নেমে তাদের মতো করে চলে গেলো। কিন্তু শিক্ষার্থী দুজনকে কব্জা করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদ্বয়ের নিকট আনা হলো। ধৃত শিক্ষার্থী দুজনেই কাঁপছে, হয় তো ভয় পেয়েছে অথবা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। তাদের চোখ লাল টলমল করছে, ঠোঁট ফোলা, মুখ থেকে লালা ঝরছে। সহজেই অনুমান করা যায় যে কোনো ধরণের নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করেছে তারা। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে নেশা গ্রহণের বিষয়টি তারা অস্বীকার করে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কেন আম গাছে অবস্থান করতেছিল? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া গেলো না কারো কাছ থেকে। তবে তারা যে ভুল করছে, তা স্বীকার করে নেয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের তলব করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেয়া হয়। ঘটনার বর্ণনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে পরামর্শ প্রদান করে অভিভাবক মায়েদের মুচলেকা নিয়ে আপাতত বিষয়টির সমাপ্তি ঘটানো হয়। পরিব্রাজক এই ঘটনা প্রবাহ দেখে-শুনে হতাশ হলেন এজন্যে যে, এই ঘটনায় ছাত্র দুটিকে কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক এমনকি তাদের মায়েরা কোনোরূপ শাসন করেলন না, বেত্রাঘাত বা চড়-থাপ্পর তো দূরের কথা। তখন পরিব্রাজক শুধু নিজের কৈশোরকালীন শাসনের কথা মনে করে তাঁর শিক্ষাগুরুদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেন, স্মরণ করলেন তাঁর মা-বাবার কঠোর অনুশাসন। ঐ দুজন শিক্ষার্থীর একজন অষ্টম শ্রেণির অন্যজন নবম শ্রেণির। ভাবা যায়! এই বয়সে স্কুল ক্যাম্পাসে বসে ইয়াবা বা সমরূপ নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছে। যাদের একজন পিতৃহারা অন্য জনের পিতা প্রবাসে। তাদের পরিবারের বিস্তারিত তথ্য আর না জানালেও পাঠক মাত্রই অনুমান করতে পারছেন পরিবার দুটির সার্বিক দুরবস্থা। যাই হোক, পরিব্রাজকের পরামর্শে অধ্যক্ষ মহোদয় চায়ের দাওয়াত দিলেন সেই আম গাছের জায়গায় মালিককে। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি আম গাছটির কিছু ডালপালা ছাঁটাই করতে অনুরোধ করলেন। যাতে গাছটি যে আড়াল সৃষ্টি করেছে তা বিনষ্ট হয়। যে ডালগুলো কাটা হবে তা লাকড়ি হিসেবে ঐ মালিকই যেন নিয়ে নেয় এবং ডাল ছাঁটাইকারীর জন্যে প্রয়োজনীয় পারিশ্রমিক বা মজুরি যেন অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছ থেকে নেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন অধ্যক্ষ মহোদয়। জমির মালিক কিছুটা ক্ষোভের সাথে ঐ জায়গা সম্পর্কে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য এবং কলেজে তাদের অবদানের অবতারণা করলেও আম গাছটির ডাল কাটার ব্যাপারে সম্মত হলেন। পরিব্রাজক মনে মনে খুশি হলেন এই ভেবে যে, তাঁর পর্যবেক্ষণ পরবর্তী একটি উদ্যোগে সমাজের ছোট্ট একটি অন্ধকার স্থানে আলো পৌঁছাতে যাচ্ছে।

এতোদিন কি অধ্যক্ষ মহোদয় কিংবা কলেজের কোনো শিক্ষক বা স্টাফের কাছে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় নি? এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যক্ষ মহোদয় তাঁর অসহায়ত্বের যে করুণ বর্ণনা দেন তা তুলে ধরলে গল্পের নামে ‘আমগাছ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘অধ্যক্ষ’ বসাতে হবে। তারপরও পাঠকের কৌতূহল মেটাতে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায় যে, আমগাছে কিশোর-যুবাদের আনাগোনার বিষয়ে স্কুল ও কলেজের সকলেই কম-বেশি অবগত। কিন্তু তাদের প্রতিরোধ করার মতো সাহস কারো নেই। এটা করতে গেলে প্রতিষ্ঠানের জানালার গ্লাস, দরজা, সিঁড়ির রেলিং ইত্যাদি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি প্রতিষ্ঠানে না আসার হুমকি পর্যন্ত শুনতে হয়। তাই কোনোমতে চাকুরি, সম্মান ও জীবন বাঁচাতে প্রদীপের নীচে অন্ধকার রেখেই তাঁরা জ্ঞানের আলো জ্বালানোর চেষ্টা (!) চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমন কথা শুনে পরিব্রাজকের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা পড়লেও এর একটা শেষ দেখে নেওয়ার জন্যে মনে মনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেন। দুদিন পরেও যখন আমগাছের ডাল ছাটাই করা হলো না তখন পরিব্রাজক নিজেই গেলেন আমগাটির ছায়াতলে। কিন্তু এই ছায়া সুনিবিড় আম্রকাননে যে কতোটা বিস্ময় লুকিয়ে আছে তা তার এতো দিনের পর্যবেক্ষণে কিছুই উঠে আসে নি। আমগাছটির কাণ্ড বন্ধনীতে যে নারিকেল গাছটি রয়েছে, এ দুয়ের মাঝখানে ডালের ওপর কাঠের তৈরি পাটাতন বিছিয়ে চমৎকার বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। যেটা গাছের নিচে না গিয়ে দূর থেকে দেখা যায় না। সেই মাচায় অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় তিন যুবক নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবনে মগ্ন। তাদেরকে কয়েকবার করে ডেকে নিচে নামাতে সক্ষম হলেন পরিব্রাজকের সঙ্গে আসা একজন অধ্যাপক। অধ্যাপক মহোদয় তাদের কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলেন। এই মাচা কে বা কারা তৈরি করেছে সে বিষযে তারা কিছুই জানে না। তবে বললো, শুধু হাওয়া বাতাস খাওয়ার জন্যে তারা এখানে আসে। পরিব্রাজক মনে মনে হাসে আর বলেন, হ্যাঁ, হাওয়াই তো খাচ্ছিলে তোমরা, ধোঁয়া আর হাওয়া তো প্রায় একই কথা! পরিব্রাজক মাচাসহ আম গাছটির ছবি তুলে তার সাময়িক আবাসে ফিরে আসতে শুরু করলেন। আসার পথে তিনি যেন শুনছিলেন আম গাছটির আর্তনাদ-- “আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও, এই মাদকাসক্ত অসুস্থ সমাজ থেকে আমাকে মুক্তি দাও, আমাকে কেটে ফেলো, আমাকে কেটে ফেলো, আমি এখন মরেলই বাঁচি!”

পরিব্রাজক কি পারবেন আম গাছটিকে মুক্তি দিতে? এই প্রশ্ন রেখে গল্পটি শেষ করলে এটি ছোট গল্পের বৈশিষ্ট্য কিছুটা হলেও ধারণ করতো। কিন্তু এটা তো কোনো ছোট গল্প নয়। এটা তো অস্থির সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থার দীনতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার বাস্তবতা। তাই তো পরিব্রাজক আমগাছটির আর্তনাদ উপেক্ষা করতে পারলেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, বৃহত্তর কোনো সমাজ বা পুরো দেশ নয় অন্তত এই শিক্ষাঙ্গনটিকে মাদকের বিষবাষ্প হতে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষাকে কলুষমুক্ত না করতে পারলে তার মনের প্রশান্তি মিলবে না। তাই তো পরের দিনই তিনি সেই মাদকমঞ্চ ভাঙ্গার ব্যবস্থা করলেন। কর্তন করালেন আম গাছটির বেশ কিছু শাখা প্রশাখা, যাতে আর অনুরূপ মঞ্চ করার সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি অন্তত দিনের বেলায় কেউ গাছটিতে উঠলে সহজেই যেন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। যে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের স্বাভাবিক অঙ্গহানি কষ্টদায়ক হলেও কাণ্ড হরানো আম গাছটি যেন হেসে হেসে যন্ত্রণা উপভোগ করছে আর বলছে, “হে পরিব্রাজক, এতোদিন কোথায় ছিলে?”

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়