বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯

‘কৃষিকণ্ঠে’ পথচলার ১১ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
‘কৃষিকণ্ঠে’ পথচলার ১১ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত

২২ জানুয়ারি, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ; ৯ মাঘ, ১৪২১ বঙ্গাব্দ; বৃহস্পতিবার। সেদিন ছিলো ‘কৃষিকণ্ঠে’র প্রথম প্রকাশ। এর আগে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের অফিস স্টাফদেরকে নিয়ে মাসিক মিটিং হয়। সেখানে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত বললেন, কৃষি বিষয় নিয়ে একটি পাতা বের করতে চাই, তার নাম হবে ‘কৃষিকণ্ঠ’। আর এটির দায়িত্ব পালন করবেন মো. আবদুর রহমান গাজী। আমি সবে মাত্র ১০ বছর পত্রিকায় কাজ করছি। তখন কৃষি বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিলো না। প্রধান সম্পাদকের পরামর্শ নিয়ে কৃষক কৃষাণীর বিভিন্ন সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনার খবর খুঁজতে চাঁদপুরের বিভিন্ন প্রান্তে চলা শুরু করলাম। শুরুতেই ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা ইউনিয়নের প্রেক্ষাপটে গ্রাম বাংলায় হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ ও রস আহরণ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন এবং তার পাশাপাশি নিজের এলাকায় কলা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন নাসির আখন্দের ওপর একটি প্রতিবেদন পরিবেশন করি প্রথম সংখ্যায়। এভাবেই চলছিল ‘কৃষিকণ্ঠে’র পাতার কাজ। মাঝে ‘কৃষিকণ্ঠে’র পাতা বের করতে গিয়ে থমকে গিয়েছিলাম।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে এক অভিষেক অনুষ্ঠানে তৎকালীন সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদ (বর্তমানে মরহুম) চাঁদপুরের বিভিন্ন পত্রিকার নিউজের ওপর গঠনমূলক সমালোচনা করলেন। আর এই সময় বলে উঠলেন, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে একটি বিভাগীয় পাতা বের হয় ‘কৃষিকণ্ঠ’। সেখানে চাঁদপুরের কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেটি সত্যিই প্রশংসনীয়। সেদিন তাঁর এই বক্তব্যে আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত হই। আর মাঝে মাঝে তো ঝিমিয়ে গেলে প্রধান সম্পাদকের শাসনে চাঙ্গা হই। আর যখন ‘কৃষিকণ্ঠে’র পাতায় গঠনমূলক লেখা হতো, তখন মাঝে মাঝে অনেকে আমাকে শাইখ সিরাজও বলতেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাশ্বের ইউনিয়নে দরিদ্র কৃষকদের কোরবানি উপলক্ষে চর এলাকা থেকে গরু চুরি বেড়েই চলছিলো। এমন একটি প্রতিবেদন ‘কৃষিকণ্ঠে’ ছাপা হয়। এটি নজরে আসে জেলা পুলিশের। পরবর্তীতে তার সফলতা পান ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বিষ্ণুপুরের আনোয়ারা ছাগল হারিয়ে কাঁদছিলোই। এমন প্রতিবেদন দেখে এক দানবীর ওই মহিলাকে ১০ হাজার টাকার অনুদান দেন।

শাহরাস্তির সূচীপাড়ায় সরদার বহুমুখী ফার্মের সাফল্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম--বায়োগ্যাসের বিদ্যুৎ দিয়ে জ্বলছে ২০ পরিবারের আলো। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষার বিভিন্ন কথা শুনতে হয়েছে আমার। কারণ সরদার বহুমুখী ফার্মের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মতিন সরদার ছিলেন বিএনপি ঘরানার। কেন তাকে এতো হাইলাইট করলাম, সেটাতেই ছিলো তাদের যতো ক্ষোভ।

তারপরও আমি থেমে ছিলাম না। শীত-গ্রীষ্ম উপেক্ষা করে মাঠে ব্যস্ত কৃষকের পাশে যাই। হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের কৃষক আনিস পাটোয়ারীর আগাম সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন নিয়ে লিখি। তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের ব্রয়লার মুরগি পালনে স্বাবলম্বী মসজিদের ইমাম জসিম উদ্দিনকে নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমাম বাছাই পর্বে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ইমাম হয়ে যান, আর বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। ‘মতলব দক্ষিণে হোয়াইট হাউজে ২ হাজার কবুতরের বসবাস’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন মানুষ ওই বাড়িতে সেটি দেখতে ভিড় জমান। মতলব উত্তরে কৃষিকাজে পানির হাহাকার ও ক্যানেলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি পাচ্ছে না কৃষক--এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত কৃষকের নাগালে পানি পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেয়। ‘কচুয়ায় ধান কর্তনে পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন লেখার পর প্রশাসন বিভিন্নভাবে শ্রমিকদের ব্যবস্থা করে ধান কর্তন করে দেয়। হাজীগঞ্জে ফসলি জমির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখলে সেখানেও খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেয় প্রশাসন। হাইমচরে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পানের বরজ পচে যাচ্ছে--এমনটি লিখলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। এভাবেই চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ও ইউনিয়নে গ্রাম-গঞ্জের কৃষক-কৃষাণীর সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মাসিক আয়োজন ‘কৃষিকণ্ঠ’।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়