প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৩
পেইন্টার

মনোভাব ব্যক্ত করিতেই সদা জলরঙে ডুব দাও,অঁাকি ঝুকি করো দেখবে একদিন পেইন্টার হিসেবেই রূপ নিবে”
আমি চাটুকারিতা। আবাদ নগর তলানিদে হঠকারি ফাস্ট আর্টিস্ট কোম্পানিতে চাকুরী করি।প্রতি বছর আমাদের কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আর্ট সম্পর্কে জানার জন্য ভ্রমণের ফ্রী টিকিট দেয়া হয়।এবং ভ্রমণে যেসব জিনিস দেখে থাকে তা থেকে নিখুঁত ভাবে প্রাণশক্তিপূর্ণ আর্ট করে বাহিরের রাষ্ট্রে র সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয় ও এগুলো বিক্রি করে অর্থ আয় করা হয়।তবে যে গুলো গ্রামীণ দৃশ্য সেগুলো থেকে বিশেষ অর্থ অর্জন করা হয়।কারণ গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথ,নবান্নের সোনালী ধানের ক্ষেত,আবার বর্ষায় সবুজের সমারোহ,শীতের আমেজে খেজুরের রস সংগ্রহের এমন অনেক দৃশ্য চিহ্নিত থাকে।প্রতিবারের মতো সকলের মধ্যে এবার আমি পেয়েছি ভ্রমণের টিকিট।সে সাথে কোম্পানি থেকে একটা কার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে করে যেকোনো স্থানে ২০% ডিসকাউন্ট প্যাকেজ মিলবে।আমি বাসায় এসে আগামীকালের জন্য লাগেজ গুছানো শুরু করলাম।রাত্রি প্রায় ১১ টা বাজে তখন গুছানো শেষ করে আমার রুমের পাশে লাগেজ গুলো দাড় করালাম।সব মিলিয়ে দুটো লাগেজ হয়েছে। আর যেখানে যাব সেখানে আমার সাথের এগুলো বহন করার মতো একজন লোক থাকবে তাই আর এতো চিন্তা হচ্ছে না।এবার বলি লাগেজ গুলো তে কীকী দিয়েছি।
প্রথম লাগেজ- আর্ট বোর্ড ৫০ টি,সরু পেন্সিল, স্কেল,এ ফোর সাইজের কাগজ,ইঞ্চি যুক্ত টেপ,গাম,আইকা,কসটিভ,পনেরোটি রঙের বাক্স, নাট যুক্ত চেয়ার,
অফিস থেকে আকঁা কিছু দৃশ্য। প্রথম লাগেজের মালামাল গুলো খুব সাবধানে রাখতে হবে তাই আমি ফোমের সাহায্য নিয়ে ভালোমতো কসটিভ দিয়ে পেকিং করে নিয়েছি যাতে নষ্ট না হয়ে যায় আর নাট যুক্ত চেয়ারের সুবিধা হলো এটা হাতে ছুটিয়ে আমি বড় ছোট করতে পারবো ও ঘুরাঘুরি সময় যেকোনো স্থানে পরিস্থিতি সহজ করে আর্ট করতে পারব।কারণ একজন আর্টিস্টের বসে আর্ট করার মতো তৃপ্তি আর দ্বিতীয়টি হতে পারে নাহ।
দ্বিতীয় লাগেজ-যেহেতু আমাদের কোম্পানির অনেক বড় নাম সে সূত্রে ঘুরাঘুরি সময় অনেকে সামনে থেকে পেইন্টিং দেখতে চাইবে তাই এ লাগেজ পুরোটা আর্ট করা পেইন্টিং নিয়েছি।
তৃতীয় লাগেজ- আমার পরিধানের জন্য কিছু জামা-কাপড়, বিছানার চাদর,কারন আমি আমি আবার অন্যের ব্যাবহার করা চাদরে ঘুমতে পারিনা।সে সাথে কিছু শুকনো খাবার,এবং ডিভাইস যুক্ত কিছু ক্যামেরা। যেগুলোতে আমি ডেটা এড করে কোম্পানিকে ফিরে এসে দেখাতে পারবো।তখন রাত্রি প্রায় তিনটা।আমি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে একটা ঘুম দিলাম। আর সকাল আটটায় আমাকে নিতে আসবে।এমন নীরব রাতে পাখিরা খুব সুন্দর করে গুনগুন করে কী যেনো বলতেছে।যেনো রবের ইবাদতে তারা মশগুল।রাতে যে জেগে থাকে,সে বুঝতে পারে আসলে প্রকৃতি কতোটা মধুময় ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। পাখিদের এমন গুনগুন করে ডাকার সূরে মুগ্ধ হতে বেশ ভালোই লাগতেছে।আমি ভেবে রেখেছি তাদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নিয়ে একটা পেইন্টিং আকব।এগুলো ভাবতে ভাবতে কখনো যে নিদ্রার দেশে পারি জমিয়েছি বুঝতেই পারিনি।পরের দিন আমার দরজায় কে যেনো চাটু সাহেব বলে ডাকতেছে।আমার বাড়ির সামনে একটা সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলাম।তাই আমাকে লোকে বেশির ভাগ চাটু বলে ডাকে।আমি ঘুমঘুম চোখে এসে দরজা খুলে দিলাম।দেখলাম একজন বয়স্ক মানুষ দঁাড়িয়ে আছে। বয়স আনুমানিক ষাটোর্ধ (ষাটের মতো).আমি বল্লাম জ্বী চাচা বলুন।তিনি বল্লেন আমি “রমিজ আলী”।আপনার কোম্পানি থেকে আমাকে পাঠিয়েছেন এই যে আমার হাতের কাগজে লেখা ঠিকানায় পেঁৗছে দিতে বলেছেন।আমি কাগজটা হাতে নিলাম আর চাচাকে ভিতরে এসে বসতেবল্লাম।ঠিকানার নাম হলো”প্রদোষন্ধার ললোপায়মান”শরহেপুর।বাসায় কফি ছিলো আমি চাচাকে বল্লাম,চাচা আপনাকে কফি বানিয়ে দেই?তখন উনি বল্লো না চাটু সাহেব আমি এসব খেতে পারিনা। আপনি বরং তৈরি হন আমি বসে অপেক্ষা করি।চাচা’কে বেশি অপেক্ষা না করিয়ে আমি দ্রুত এক কাফ কফি ও তিন পিজ পাউরুটি খেয়ে তৈরি হয়েছি এবং তিনটা লাগেজ আমি একাই দোতলা থেকে নামিয়ে ফেলেছি।কারন রমিজ চাচা এ বয়সে এমন শরীরে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠেছে আমার কাছে মনে হয় এতটুকুই যথেষ্ট। রমিজ চাচা একটা লাল টেক্সী নিয়ে আমাকে নিতে এসেছেন। আমি লাগেজ গুলো গাড়ির (ডিকিতে)রেখে আবার দোতলায় গেলাম। কেননা রমিজ চাচা সেখানে আমার জন্য অপেক্ষায় বসে আছে। আমি দোতালায় গিয়ে বল্লাম চলেন চাচা এবার যাওয়া যাক তাহলে। উনি বল্লো সাথে কিছু নিবেননা চাটু সাহেব?আমি বল্লাম কী নিব?কারন চাচাকে একটু খুশি করার জন্য আমি এটুকুই খুশির আশর তৈরি করেছি।তখন বলাম চাচা আমি সব মালামাল গাড়িতে নিয়ে গেছি।এটা বলার সাথে সাথে চাচার চোখে মুখে যে হাসির চিহ্ন দেখেছি লাগেজ গুলো নামাতে যে কষ্ট হয়েছিল তা একেবারে ভুলে গেছি। একটা সময় সব গুছিয়ে নিয়ে দরজায় তালা লাগাতে যাওয়ার মুহুর্তটা কেমন বেদনাদায়ক হয়েছিল প্রকাশ করা অসম্ভব।অনেক মায়ায় আবদ্ধ ছিলো গোটা ঘরের চারপাশ।এমন মহামায়া যুক্ত দরজা,জানলা,চায়ের কাপ,পরিচিত সকল কিছুতে এভাবে শক্ত প্রাচীরে তালা লাগাতে হৃদয়ে হাহাকার আর চক্ষু জোড়ে অশ্রু ফোয়ারা গড়াগড়ি খাচ্ছে।পুনরায় আবার চাটু সাহেব! আমি তড়িঘড়ি করে চোখের জল মুছে তালাটা অঁাটকে দিয়ে চাবিটা নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে গাড়ির কাছে এসে দাড়ালাম।বিসমিল্লাহ বলে ডান পা দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম।তখন রমিজ চাচা অনুমতি নিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করলো।আমি গাড়ির জানলার কাচ গুলো নামিয়ে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলাম আর মনে মনে বলতে লাগলাম,আমি যদি স্মরণীয় স্মৃতি গুলোকে বাক্সে বন্ধী করে নিয়ে যেতে পারতাম।এই যেমন-এই যেমন৷ বাড়ির সামনে সাত বছর বয়সে পিছলে পড়ে কঁাচে হাত কেটে যাওয়ার অনূভুতি,ছোট বেলার চকলেট ভর্তি মুখে আনন্দের হাসি,মা’য়ার অঁাচলের ছায়া,যে রাতে প্রতিবেশি নির্মলা আন্টির হাজবেন্ট উনাকে মেরেছিল সে রাতের আত্মনাদের ছাপ,এমন আরো অনেক মুহূর্ত কিন্তু কিছুই সময়ে না নতুন করে কিছু শুরু করতে হলে প্রিয়দের বিদায় জানাতে হবেই।এখন এ মায়া কাননের মায়ায় শুধু মনে হচ্ছিল যদি আমি এ শহরে না থাকি
সূর্য কী আগের মতো রশ্মি ছড়াবে?
বসন্তের কোকিল কীডাকাবন্ধ হয়ে যাবে?
এ আবাদ নগর তলাদির সমুদ্র সৈকত কী আমার অপেক্ষায় বসে থাকবে?খেয়া নায়ের মাঝি কী আমার অপেক্ষায় কিনারায় বসে থাকবে?
এমন হাজারটা কৌতূহল মনে থাকা সত্বে ও বলতে হচ্ছে, বিদায় আমার প্রিয় শহর,
বিদায় আমার প্রিয় প্রহর,বিদায় আমার ঘুম ভাঙানো উষ্ণ সকাল,বিদায় আমার সকল সুন্দর ভালোবাসার মুহূর্ত, বিদায় তোমায়.......!
মনোরালয়ে শোকের ছায়া ছিটকাইয়া (অন্য)এক সুখের গন্তব্যে এগিয়ে গেলাম।নিজের ভালো একটা পজিশন দঁাড় করানোর লক্ষ্যে অচেনা শহরে পা বাড়িয়ে দিলাম(ইন্না.। বিন্নোওতএকটা হাদিস বসবে)
এমন নীরবতায় রমিজ আলী চাচা আমাকে জিগ্যেস করলেন চাটু সাহেব আপনার কী মন খারাপ?চুপচাপ হয়ে বসে আছেন যে!আমি তো শুনেছি আপনি কথা না বলে থাকতেই পারেননা।এখন আমি একটু আশ্চর্য হয়ে বল্লাম,আরে চাচা আমার বেপারে এমন (বক্তব্য)ধারনা কার কাছ থেকে শুনে পেশ করলে আর কার থেকে শুনলেন চাচা।তিনি বল্লেন আপনার বস আমাকে আপনার বেপারে সব কিছু বলেছে আর কোথায় পেঁৗছে দিব সেটাও বলেছে।প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর একটা চায়ের দোকান দেখতে পেলাম।আমি চাচাকে বলে গাড়ি থামিয়ে আমার সাথে নিয়ে গেলাম চা খাওয়াতে।দোকানদার আমার আগমন দেখে কেশ থেকে বেড়িয়ে নিজের কঁাধের গামছা দিয়ে যত্ন করে লম্বা একটা টেবিল মুছতেছিল।ততক্ষণে আমি গিয়ে উপস্থিত হলাম।দোকান বল্লো সাহেব বসুন।আমি একটু অবাক হয়ে বসলাম আর মনে মনে বলতে লাগলাম আমাকে কেন সাহেব বলে ডাকলো?এটা জিগ্যেস করব ভাবছি কিন্তু আমার দর্শন পাওয়াতে উনার চোখো মুখে খুশির চিহ্ন ভেসে উঠল সেটা নষ্ট করতে চাইনি।আমার পাশে রমিজ চাচা দাড়িয়ে আছেন।আমি জিগ্যেস করলাম চাচা বসেননা কেন?উনি একটু ঘাবড়ে গিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দঁাড়িয়ে থেকে ঠেঁাট দু’টো আলতো করে নেড়ে বল্লেন আপনার পাশে? আর আপনার সাথে এক টেবিলে কীভাবে বসি? আপনি তো সাহেব চাকুরি করা মানুষ। আমি হেঁসে বল্লাম আরে চাচা এতোকিছু ভাবতে হবেনা আপনার ছেলের মতোনইতো আমি বসে পড়ুন।আর আপনি টেক্সি চালক হয়েছেন তো কী হয়েছে আপনি তো একজন আদর্শ বাবার মতো দায়িত্ব আমার গন্তব্যে পেঁৗছে দিবেন।এমন এমন দু’চার লাইন বলাতে চাচার চোখ জোড়া ভিজে একাকার। আমি দঁাড়িয়ে নিজের হাতে চোখের জল মুছে দিয়ে আমার পাশে বসালাম। এবার বল্লাম, চাচা কী খাবেন বলুন।উনি বল্লেন আপনি দেন কিছু একটা আমি খেয়ে নিবো সাহেব।আমার এমন সহানুভূতির আচরণ দেখে দোকানদার তৈলে জ্বালানো স্টপ কমাতে ভুলে গেছে।এদিকে অতি অগ্নির তাপে কেতলি থেকে দুধ উপছে পড়ে পোড়া গন্ধ ছড়াচ্চে।দোকানদারের চোখ দু’টো লজ্জায় কেমন যেনো করতেছে।উনি মুখ লুকাতে ও পারতেছেননা।উনি হয়তোবা মনে মনে ভাবতেছেন এটা আমি কী করলাম!পরোক্ষনে কী যেন ভাবতে লাগলেন আমি একটু আন্দাজ মতো উনার কথার অনুবাদ করতেছি,উনি ভাবতেছেন শহরের বাবু,আবার চাকুরি ওয়ালা তার উপর এতো মনোমুগ্ধকর মায়ায় মানুষ উনাকে বাড়ি থেকে নতুন দুধ এনে চা খাওয়ালে আমার শান্তি হবেনা।আপনারা হয়তোবা বলবেন আমি কীভাবে বুঝেছি,তাহলে শুনুন দোকানদার আমাকে বলে সাহেব আপনি কী খাবেন বলুন।আমি জিগ্যেস করলাম কীকী আছে বলুন।তবে আমিতো দেখতে পাচ্ছি দোকানে কীকী
আছে।কিন্তু উনার মুখ থেকে শুনতে ব্যাপারটা এক অন্য রকম অনুভূতি দিবে।উনি গড়গড় করে বলতে লাগলেন,কেরেলার খাজ,জরমুজ,ছানার সন্দেশ, তিলের বিসকুট, বাশের ছাকনা দিয়ে বানানো তুলতুলে মুসবা,আদা দিয়ে খঁাটি গরুর দুধ চা। আর সাহেব বলে রাখতেছি দুধে কোন ভেজাল নাই আমাদের দুটো গাভী আছে।রোজ পিতলা কলসে এক কলস দুধ দোহন করে আমার স্ত্রী। এগুলো থেকে আমরা কিছু নিজেদের জন্য রাখি আর অবশিষ্টাংশ গুলো দিয়ে দোকানের খাওয়ার জিনিস গুলো তৈরী করি যেগুলো এতক্ষণ আপনাকে আমি বল্লাম। তবে এই যে বঁাশের কি যেন একটা মুসবা বল্লেন এটা বুঝিনি। এগুলো আমার স্ত্রী বানায়। বঁাশ কেটে চিকন করে এক রকম ছঁাকনি বানায়।তারপর এ ছাকনিটা পাতিল ভর্তি পানির উপরে বসিয়ে তার উপর বড় বড় পাতা দিয়ে খোপ বানিয়ে এগুলো তৈরী করে।চাটু সাহেব তখন বল্লো বাহ্ চমৎকার। তবে এগুলো করতে অনেক কষ্ট হয় মনে হচ্ছে। হ্যঁা কষ্ট তো একটু হয়।তবে আমার স্ত্রীকে কাজের প্রশংসা করলে সে সব কষ্ট ভুলে যায়।সাহেব আমার স্ত্রীর নাম হলো “আমরোপালি” এবার বলুন কী খাবেন।আমি খাবার গুলোর দিকে তাকিয়ে কেন জানি মনে হল সব গুলো একটু করে খেয়ে নেই।আর আমরা মানুষ তো দু’জন আর দোকানদারের বউ এতো যত্ন করে তৈরী করেছেন নিশ্চয়ই সব কিছু খেতে খুব সুস্বাদু হবে।এতে করে তঁার স্ত্রীর প্রশংসা ও হয়ে যাবে।দোকানদারকে বল্লাম সব গুলো পেকেট থেকে দু’টো করে দেন।দোকানদার একটা কাসের থালায় করে সাজিয়ে পানি সহ সামনে এনে দিলেন।আমি আর রমিজ চাচা একটু একটু করে খাচ্ছি আর বলতেছি বাহ্ খুব দারুণ খাবার তৈরি করে আপনার স্ত্রী।সাথে সাথে দোকানদার বল্লো সাহেব আমার ঘর এখান থেকে তিন রাস্তার মোড়ের ডানদিকের ঠিক উত্তর কোনায়।আমি ঘর থেকে দোহন করা নতুন দুধ নিয়ে আসি।কারন আপনাকে ঘরের দোহন করা নতুন দুধ দিয়ে চা না খাওয়ানো পর্যন্ত আমার শান্তি হচ্ছে না।সাথে আপনি যে প্রশংসা করছেন আমার স্ত্রী কে ও শুনিয়ে আসি।আমি এক দৌড়ে যাব আরেক দৌড়ে আসব।এই-যে ছেপ মানি দিয়ে গলায় দিলাম শুঁকিয়ে যাওয়ার আগেই চলে আসব।এই বলে দোকানদার পড়নের কাপড় টা অদ্ভুত ভাবে গুঁজে বাতাসের মতো ছুটেগেল।আমি আর রমিজ চাচা কথার ফঁাকে ফঁাকে কেরেলার দু’টো খাজ খেয়ে নিয়েছি।এখন দোকানদার আসতে আসতে বাকী গুলা খাব।আর আগে যে বলেছিলাম দোকানদার আমাকে তঁাজা দুধের চা না খাওয়ালে শান্তি হবেনা এ কথাটা মিলে গেল।কারণ উনার চোখেমুখে লেপ্টে ছিলো আমাকে আপ্যায়নের ধীরতা।
আমি যে ধারণা করেছিলাম তা দেখলাম মিলে গেল। দোকানদার তো সত্যিই তাজা গরুর দুধ আনতে গিয়েছে তার বাড়ি। এমন দু চারটা লাইন নিয়ে নিজে নিজে কথা বলতে বলতে দোকানদার চলে আসলো। আর তঁাজা দুধ কেথলিতে গরম করে আদার রস দিয়ে আমাকে আর চাচাকে দিল।চায়ের কাপগুলো সামনে আসতেই সুন্দর সুবাস ছড়াতে লাগলো। মনে হচ্ছিল এই বুঝি পিঁপড়ার দল এমন মিঠালো চা খাওয়ার জন্য সারি সারি করে দল বেধেঁ চলে আসবে। আমি খুব স্বাদ মতন চা একটু একটু করে খাচ্ছি । এদিকে কুসুম গরম ছাড়িয়ে ঠান্ডা হওয়ার পথে চা। কেননা সচরাচর মানুষ দোকানে এক কাপ চা খাওয়ার জন্যই আসে আমি যদি দু কাপ খাই তাহলে কেমন দেখায়! আর তার ওপর দোকানদার সাহেব বলে ডেকেছে তাই কোন ভাবে নিয়ম ভাঙ্গা যাবে না।
মান সম্মান নয় তো ধুলোয় মিশে যাবে। এমন সময় দোকানদার বলল সাহেব ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আপনি চা।আপনি যদি কিছু না মনে করেন তাহলে আপনাকে আরো এক কাপ চা খাওয়াতে চাই আমি। এটার খুচরা পয়সা ধরতে হবে না। আমি প্রথমে না করলাম কারণ এটা ভদ্রতা। সাথে সাথে হা বলে দিলে উল্টাপাল্টা ভাববে ব্যপারটা দেখে চলে যাবে। দোকানদার দু তিনবার বলার পর আমি বললাম আচ্ছা তবে এটাই শেষ আর খাব না। কারণ বরাররই এক কাফ চা খেতেই দোকানে আসে মানুষ।এ কথাটার সহমত করানোর জন্য চাচাকে যুক্ত করলাম যে কাকা ঠিক বলছি না আমি?চাচা উত্তরে হ্যঁা চাটু সাহেব আপনি একদম ঠিক বলেছেন। তবে আমার তো দ্বিতীয়বার খাওয়ার কিংবা পুরো কেটলির চা একা খেয়ে নিতে ইচ্ছে করছে, চাচার ও কি এমন মনোভাব? কথাবার্তার ফঁাকে কেরালার খঁাজ,জরবুঝ, ছানার সন্দেশ, বিস্কুট, বাসের ছাকনা দিয়ে বানানো তুলতুলে মুসবা এগুলো খাওয়া শেষ হল।পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট দোকানদারকে দিলাম।দোকানদার বলে সাহেব আপনার তো ৭৫ টাকা হয়েছে। এত বড় নোট! আমার কাছে খুচর নেই।চাট্টু সাহেব বলে নাহ্ আমাকে দিতে হবে না সবটা আপনি রেখে দেন। আর ঐ যে দোকানের পেছনের জানালাটদ ভাঙ্গা এটা ঠিক করে নিয়েন।তাছাড়া আপনি তো ক্যাশ বাক্সে বসেন সেক্ষেত্রে নিজে আলাদা বসার জন্য একটা চৌকি বানিয়ে নিয়েন।দোকানদার অভাব দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি যে কথাগুলো বলছি উনার বোধ হয় বিশ্বাস হচ্ছে না।তিনি স্থির থাকা দুটো পায় এগিয়ে আমার দিকে এলেন আর আমাকে বললেন,সাহেব আমি স্বপ্ন দেখছি নাতো?আমি কিছু মনে করব না আমাকে একটা চিমটি কাটবেন?চাটু সাহেব এক গান হাসি দিয়ে বলে আপনার বউকে বলবেন তার সকল বানানো আইটেম গুলো অসাধারণ হয়। দোকানদার হুট করে বলল সাহেব আইটেম কী? এই যে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরি করেন এগুলো কে আমি আইটেম বলেছি। দোকানদার বলল ওহ বুঝেছি সাহেব। আমি আর চাচা রওনা হলাম আমার গন্তব্যে চলতেছে গাড়ি। আমি ভাবতেছি দোকানদারের বউকে যদি নিজে গিয়ে প্রশংসা করে আসতে পারতাম আর তার সাথে আরো কিভাবে খাবার তৈরি করে সে স্থানটা দেখা হতো শিখতে পারতাম কিছু রেসিপি। আমি ভাবতে ভাবতে চোখে একটু তন্দ্রা লাগলো। গাড়ির জানলার গ্লাসটা খোলা ঘুম ঘুম চোখে ব্যাগ থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে মুড়ো দিয়ে কখন যে ঘুমের ঘোরে ডুবে গেলাম জানা নেই। বেলা ফুরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে এল দোকানের পাশে ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম গতবারতো নিজেই এগিয়ে গিয়েছিলাম এবার দেখি দোকানদার নিজে ডেকে নেয় কিনা!দোকানদার দেখতেছি তার দোকানের চার কোণে চারটি মোমবাতি জ্বালিয়ে যেই ভিতরে প্রবেশ করবে তখনই আমার চোখে চোখ পড়ল। আনন্দে অতি ভদ্রতার লক্ষণ দেখিয়ে বলল সাহেব আপনি এখানে?আমার দোকানে আসেন তঁাজা গরুর দুধের চা খেতে আসেন।আর আপনি যে টাকাটা দিয়েছিলেন সেটা দিয়ে জানালা ও চোকি বানিয়েছি আর আমার স্ত্রী “আম্রপালি” কে গঞ্জেরহাট থেকে গজের একটা শাড়ি কিনে দিয়েছি। সে সাথে এক জোড়া চটি নিয়েছি। সে তো খুব রাগ করেছে আমার জন্য কিছু নেইনি বলে।সে বলেছে কিছু যেতেতু কিনিনি আমার জন্য তাই চটি জোড়া ভাগ কর পড়তে।একদিন আমি একদিন সে। তবে সে এ ও বলেছে আমি দোকানে চালাই আমাকে খালি পায়ে দেখলে কেমন দেখায় সে তো বাড়িতেই থাকে।আমি তাদের এমন মুগ্ধতর বন্ধন দেখে একটু অবাক হয়েছি।বিয়ে মানে যে একটা বন্ধন, দুজন দুজনের শ্রদ্ধা,দু’টি মনের মিলন,ছঁায়া হয়ে সারাজীবন পাশে থাকা, আমৃত্যু অব্দি সঙ্গী হওয়া তারা সেগুলো খুব ভালোভাবে পালন কর করে তাদের জীবন চালিয়ে নিচ্ছে। দোকানদার তৎক্ষনে চায়ের কাপ আমার সামনে দিয়ে বলে সাহেব চা খেয়ে নেন। আর এবার যত ইচ্ছে ততবার চা খেতে পারবে। কারণ আমাদের একটা গাভী নতুন বাছুর দিয়েছে!আমি শখ করে বাছুর টির একটি নাম দিয়েছি।আমি বললাম তাই নাকি। তা কি নাম দিয়েছেন বলেন। দোকানদার চট করে বলে ফেলল মেহেরবান। আমি তো একটু অবাক হয়ে মনে মনে ভাবতে লাগলাম বাছুরের নাম কিভাবে মেহেরবান হয়! আমার প্রশ্ন মাথা থেকে মুখে আসার আগেই দোকানদার বলল সেদিন যে আপনি সাহায্য করেছিলেন তার ঠিক পরের
বাচুর টি হয়েছে। তাই মেহেরবান রেখেছি।আমি বললাম তাই নাকি। আসলে উপরওয়ালা কাকে কখন,কিভাবে কার মাধ্যমে সাহায্য পাঠান সেটা তিনি ভালো জানেন।দোকানদার গাভীর বাচ্চার কথায় ডুবে গিয়ে তার স্ত্রী আম্রপালির কথা একবারের জন্য মুখে আনতেছে না । আর আমার কেমন জানি এ অচেনা শহরে উনার নাম একবার শোনার পড়ে মনে অঁাটকে আছে। নামটা একটু আজাব তবুও ভুলিনি আমি। আমি চার কাপ চা খাওয়ার পর দোকানদার তার স্ত্রী আম্রপালির কথা বলেছে।যদিও আমি আগে বলেছি এক কাপ চা খেতে আসে মানুষ কিন্তু আমি স্বাদের ঘোরে চার কাপ খেয়েছি আর এবারের যাত্রায় দোকানদার বলেছে যত ইচ্ছে ততই খেতে পারব।তখন রাত প্রায় এগারোটা বেজে গেছে আশেপাশে তেমন কোন সারা শব্দ নেই। ঝিঁঝিপোকার ডাক কানের মত ঝনঝন করতেছে ইতিমধ্যে নীল চোখের কিছু দেখা যাচ্ছে রাস্তার ওপাশটায়।কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পর দেখতে পেলাম কুকুর।আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি দোকান থেকে দোকানদারের স্ত্রীর হাতের বানানো কেরেলারখাজ আর জরবুঝ নিয়ে সামনে গেলাম। অচেনা মানুষ দেখলে তো
চিৎকার করে ডেকে জিজ্ঞেস করার কথা যে কোথা থেকে এসেছো? এটা তো তোমার গ্রাম না বা এর আগে তো তোমাকে এখানে দেখি, ঘেউ...ঘেউ...ঘেউ!এমন কিছু জিজ্ঞেস না করে সবগুলো কুকুর আমার আশ পাশ ঘিরে নিয়ে আমাকে চায় ছাটতে লাগলো।যেনো অতি কাছের আমি! কত যুগ ধরে আমাকে চিনে।আর বহুদিন বাদে আমাকে ফিরে পাওয়ার খুশিতে আদর ছিটাচ্ছে। আমি রাস্তার পাশে থেকে কদম গাছ থেকে কিছু পাতা ছিড়ে খাবার গুলো দিয়েছি। তারা মনের আনন্দে খেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দোকানদার দোকান বন্ধ করে আমার কাছে আসতেছে। সে আসতে আসতে কুকুরগুলোর খাবার শেষ হলো। কাছে এসে দোকানদার বলল সাহেব আমি চাচ্ছি আপনি আজ রাতটা আমার ঘরে থাকবেন।তার সাথে আমার স্ত্রী আম্রপালি কে ও বলব খাবার গুলো যেভাবে বানায় আপনাকে শিখিয়ে দিতে।আমি তো উনার এমন প্রস্তাবে রাজি হওয়ারই কথা কারণ আম্রপালিকের সামনাসামনি প্রশংসা করতে না পারলে আমার শান্তি হবে না।আমি বল্লাম না থাক পাশেই আমার বাসা। দক্ষিণের গলি ধরে গেলে প্রথমে যে বাসাটা পড়বে সেটাই আমার।ওহ আচ্ছা।তবে আজকে আপনাকে যেতেই হবে।আমি কোন রাস্তা না পেয়ে হা বলতেই হলো।তবে আপনি যে দোকান বন্ধ করে দিলেন আজ কত টাকা হয়েছে বলেননি যে?দোকান দার বল্লো আজকে একশত টাকা হয়েছে। তবে এখন না দিলেও সমস্যা হবেনা।চাটু সাহেব বলে না..না...না... কী যে বলেন আপনি।আমি বাকী কেন রাখবো আচ্ছা আমি দিয়ে দিচ্ছি এখন একটু দঁাড়ান। পকেট থেকে টাকাটা বের করার সময় কোম্পানি থেকে ২০% ডিসকাউন্ট দেওয়া কার্ডটি মাটিতে পড়ে গেল।আমি দ্রুত উঠিয়ে পকেটে নিয়ে নিলাম।যদি দোকানদার জিগ্যেস করে বসে আছি কী জবাব দিব!ভাগ্য ভালো দোকানদার কিছু ই বুঝেনি আর কিসের কার্ড জিগ্যেস ও করেনি।তিনি টাকাটা তার কোমড়ে লুঙ্গির সাথে গুঁজে নিলেন।আমি যদি এভাবে টাকা রাখতাম কখন যে পড়ে যেত টের ই পেতাম না।আচ্ছা উনার কী টাকাটা পড়ে যাবে?
তখনই দোকানদার বলল চলেন সাহেব। আস্তে আস্তে এগুতে লাগলাম তার সাথে।সেদিন যে বলেছিল তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা আমি সেই মোতাবেক মিলাচ্ছি। একটা সময় চলে আসলাম ডান দিকের ঠিক উত্তর কোনায় একটা ঘর দেখা যাচ্ছে মোমবাতি জ্বালানো।দূর থেকে যেন আগুনের ফুলকির মত দেখা যাচ্ছে। ঘরের কাছে এসে আম্রপালি বলে তিনবার ডাক দেওয়ার পর একটি গরম পানির গামলা একটা গামছা নিয়ে আসলো।
সাথে আমাকে দেখে আম্রপালি একটু লজ্জা পেল আর সাথে সাথে মাথা ভর্তি ঘুমটা টা আরো টেনে দিল। গামলার পানি দিয়ে আমি হাতমুখ ধুয়ে আসলাম এসে দেখি খুব সুন্দর করে বিছানা তৈরি আছে। আমি হাতমুখ ধোয়ার সময় বোধহয় এসব ঠিক করে নিয়েছে। আবার উনুনে পানি গরম হওয়ার শো-শো শব্দ শোনা যাচ্ছে। মনে হয় দোকানদারের জন্য আবার পানি বসিয়েছে। আমি বিছানায় বসলাম চারপাশে তাকের মত করে বঁাধা কয়েকটা খাজ রাখা।আবার একটা কোনায় কি যেন ঝলমল করতেছে। আমি এগিয়ে গেলাম দেখালাম পিতলের ঘটি”। ঘরটা ছোটখাটো হিসেবে অনেক গুছানো। মনে হচ্ছে দোকানদারের বউ খুব গুণবতী।তাহলে তো এতকিছু সামলানো সহজ হতো না।দোকানদার একটা কাসের থালা করে
জামরুল, সন্দেশ আর পানি আনল।কাসের থালাটা ঠিক দোকানে যেমনটা দেখেছিলাম সেরকম। দোকানদার বলল সাহেব খাবারগুলো খেয়ে নেন আর কিছুক্ষণ পর আকাশে চঁাদ উঠবে চাইলে চা খেতে খেতে জামরুল,সন্দেশ,কেরালার খাস,কীভাবে বানায় শিখে নিতে পারবেন। আমার ঘরের এমন তাক দেখে আপনি অবাক হচ্ছেন এটা আমি বুঝি।এগুলো আম্রপালি দিয়েছে তবে খুব মজবুত এগুলো সাহেব।এগুলোকে শীল গাছ বলা হয় এগুলো দেখতে লম্বা আকৃতি ঝোপেঝাড়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে লতাপাতার মতো লম্বা হতে থাকে। এগুলো তাক বঁাধতে বা বাহিরে কাপড় শুকাতে কাজে লাগে আর ওই যে ঘরের কোনে একটা ঘটি চকচক করতেছে দেখলেন এটা পিতলের। এটা দিয়ে শীতকালে খেজুরের রস বাজারে বিক্রি করি।আমার স্ত্রী যেখানে দোকানের জিনিসপত্র বানাই সেখানে এই গাছটি আছে।সে রোজ পানি দেয় গাছের গোড়ায় খুব যত্ন করে গাছটার। আমার মায়ের শেষ স্মৃতি এই খেজুর গাছ আর পিতলের ঘটি।এই যে দেখেন আমার পায়ে একটা বড় দাগ গত বছরের আগের বছর কুয়াশায় ভেঁজা গাছ থেকে খেজুরের রস নিয়ে নামতের সময় পা পিছলে আমি পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক সময় লেগেছিল এটা ঠিক হতে।খানিকটা কইতে পারেন রক্ত পূজের মতন হয়ে গিয়েছিল। আমাগো গ্রামের পরের গ্রামে হইমন্তি নামে এক আয়ুর্বেদিক বুড়িমা আছেন তিনি অনেক ভড়ি দিয়েছিলেন আমায় । আর আমার স্ত্রীও অনেক সেবা করেছে একটা সময় রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে শুকিয়া যায় আর এ দাগটা পড়ে যায়। আচ্ছা সাহেব অনেক কথা বলে
ফেলেছি আপনি খেয়ে নেন।আবার আপনাকে নিতে আসবো দেখি আমার স্ত্রী কতটুকু কাজ শেষ করেছে। খাবারগুলো খেয়ে বিছানায় একটা বালিশ রাখা ছিল শুয়ে ছিলাম।আর একজন মায়ের শেষ স্মৃতি বুকে আগলে রেখে বেঁচে আছে সেটাই ভাবতেছি। কিছুক্ষন পর দোকানদার এলো আর আমি তার সাথে বাহির হলাম। বাহিরে গিয়ে দোকানদারের স্ত্রীর সাথে আলাপ হল!তিনি দুহাতে দুকাপ চা এনেছেন।দোকানদার মনে হয় আগেই বলে দিয়েছে যে আমি চা বেশি খাই। খাওয়ার পর আমার হাতে একটা খঁাজ এনে দিল আর দোকানদার এক বালতি দুধ এনেছে আমাকে দোকানদারের স্ত্রী আম্রপালি উপাদান বলতেছেন আর আমি মিশাচ্ছিলাম। এমন সময় কানে এত তীব্র আওয়াজ আসছে আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম। আর দেখতে পেলাম অনেকগুলো বাচ্চা গাড়িটাকে দেখে খেলতেছে। গাড়ির আশেপাশে দৌড়াদৌড়ি করতেছে। গ্রামে এমন গাড়ি আসলে ছোট ছেলেমেয়েরা আকঁাআকি করে।আমিও ছোট বেলায় এমন করেছি। যাক এটাই কি তাহলে আমার কোম্পানি থেকে নোটিশ করা সেই জায়গা? কিন্তু আমি তো আম্রপালির কাছে কেরালার খঁাজ, সন্দেশ,জরবঝ বানানো শিখতে ছিলাম। আর শিখে আমার তো তাকে প্রশংসা করার কথা। তাহলে কি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে ছিলাম? এমন সময় রমিজ চাচা বলল চাটু সাহেব চলে এসেছি! আমি উত্তরে হ্যঁা সুচখ সাড়া দিলাম আর মনে মনে ভাবলাম,যে আম্রপালির প্রশংসা আর করা হলো না।তবে আমি সকল কিছু নিয়ে স্থির হলেই আম্রপালির খাবারের জিনিস বানানোর স্থানটা আর তার সাথে দোকানদারের মায়ের হাতের রোপন করা খেজুর গাছটি অঁাকবো। গাড়ি থেকে নামলাম পাশের রমিজ চাচা দঁাড়িয়ে আছেন। দুজন যুবক আমার লাগেজ গুলো গাড়ির ঢিঁকি থেকে নামাচ্ছে। বয়স ২৮ এর মত হবে। তবে একজনের গালের দাড়ি পঁাকা। আগে দেখতাম ৪০ এর এদিকের পর চুল দাড়ি পঁাকে।তঁারা কি বেশি গরম পানিতে গোসল করে,নাকি লবনাক্ত।( বৈজ্ঞানিক তথ্য বসবে)চুলে রাসায়নিক রং,হেয়ার ডাই, শ্যাম্পু ইত্যাদি ব্যবহারের কারণেও এমনটা হতে পারে খাবারে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি ১২ এবং ডি ৩ এর মতো পুষ্টির অভাব চুলের অকাল পাকা হতে পারে। বেশি সূর্যালোকে থাকা, গভীর রাত জেগে থাকা, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, দূষিত বাতাসও এর কারণেও অকালে চুল পাকে
ত্বকে মেলানোসাইট নামে একটি সেল আছে। মেলানোসাইট থেকে মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ বের হয়। মেলানিনের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে ত্বক কালো নাকি সাদা হবে। ঠিক তেমনি চুলের গেঁাড়ায় মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে চুলের রং কালো হয়। আর যদি বয়সের কারণে বা অন্য কোনো কারণে মেলানোসাইট সেল কমে যায় বা মেলানিনের ঘনত্ব কমে যায় তাহলে চুলের রং ধীরে ধীরে সাদা বা ধূসর হয়ে যায়।
বংশগত কারণে অনেকের অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। পরিবারে বিশেষ করে যদি বাবার পরিবারে কারো অকালে চুল পাকার প্রবণতা থাকে তাহলে এমনটা হতে পারে।
চুলের যত্ন না নেওয়ার কারণে চুল পেকে যেতে পারে।
-অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার কারণ।
-ধূমপান বা মাদকাসক্তি, অল্প বয়সে অনেক ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন কিছুর সঙ্গে জড়িত হয়ে যাচ্ছে যার কারণে অকালে চুল পাকতে পারে।
-হরমোনাল বিভিন্ন সমস্যা যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলে অল্প বয়সে চুল পেকে যায়।
-বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত মানসিক চাপের
কারণে শরীরে সেরেটনিন নামক হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে অল্প বয়সে চুল পেকে যায় অনেকের।
এ ছাড়া কেউ যদি ভেজাল খাবার খায়, অতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ এমন এলাকায় থাকে, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খায়, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খায় তাহলে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রোজেরিয়া নামক রোগের কারণে, রক্তশূন্যতা থাকলে, শরীরে অ্যালার্জির পরিমাণ বেশি থাকলে, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা থাকলে অল্প বয়সে চুল পেকে যায়।
কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, অ্যান্টিমেলেরিয়াল বা খিঁচুনির ওষুধ ছাড়াও কিছু ওষুধ সেবনের কারণে চুলের রং সাদা হয়ে যেতে পারে।
থাক তাদের চুল নিয়ে এত দুশ্চিন্তা আমার না করলেও চলবে। কারণ, চুলের দিকে বেশি তাকিয়ে থাকলে তারা লজ্জা পেতে পারে। তারচেয়ে বরং
তাদের সাথে পরিচিত হয়ে নেই।ডিকি থেকে লাগেজ নামিয়ে আমার সামনে এসে সালাম দিল আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। সালামের জবাব দিয়ে তিনবার কোলাকুলি করে নিলাম ( হাদিস বসবে)
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পেঁৗছবে তখন সালাম দিবে। যদি বসতে চায় বসে পড়বে। এরপর যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখনও সালাম দিবে। কারণ প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭০৬; সুনানে
আবু দাউদ, হাদীস ৫২০৮
যার গালের দাড়ি দু-একটা পাকা তার নাম বিধান আর সাথের জনের নাম ইমতিহান। তারা বলতেছে এই গ্রামের নাম “শরহেপুর”।ই-মেইলে আপনার সকল ডাটা পেয়েছি আর আজ থেকে আমরা দুজন আপনার দেখাশোনা করব। আপনার প্রয়োজনে জিনিসপত্র জোগাড় করে দিব এখানকার কাজে আপনাকে সাহায্য করবো।আমি রমিজ চাচাকে বল্লাম,চাচা আমার গন্তব্যে আমি এসে পেঁৗছেছি।সে সাথে আপনার সাথে পরিচিত হয়ে সময় কাটিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে।আপনি ভিতরে আসুন আমি একটা চিঠি লিখে দিব অফিসে বসের জন্য। যেহেতু আপনি আছেন তাই আর অযথা ই-মেইল করতে যাবনা।বিধান আর সালেহ আমাদের একটা বাড়িতে নিয়ে গেলো।বাড়িটা তিনতলা আশেপাশ বেশ বড়।বাড়ির চারপাশে লাগানো আছে গোলাপ,গাদা,টগর,নয়নতারা,ঘাসফুল আর বিভিন্ন রকমের ফুল গাছ।ফুল গুলো খুব সুন্দর করে ফুটে আছে।বাড়িটাকে যেনো সূর্যের আলোর সাথে সংযুক্ত হয়ে ফুটিয়ে রেখেছে।গেট খুলে রুমে প্রবেশ করলাম।প্রত্যেকটা রুম চকচক করতেছে।যেনো
আমি আসবো জেনে পরিষ্কার করা হয়েছে। বিধান লাগিজ গুলো নিয়ে রুমে আসল আর দেয়াল যুক্ত আলমারিটা আমাকে দেখিয়ে বল্লো ডান দিকটায় যে তাকটা আছে সেটাতে আমি কাপড় গুলো ভজ করে রেখে যাচ্ছি। আর বা দিকের তাকে আপনি ব্যবহার করে রেখে দিবেন।আমি এসে একদিন পরপর নিয়ে যাব।পাশেই বাজারের কাপড় কাচার দোকান আছে।এ বলে রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে নিচে চলে গেলো।তারপর আমি ফ্রেশ হয়ে চিঠি
যখনি চিঠি লিখতে বসবো এমন সময় চাল হে খাবার নিয়ে আমার রুমের দরজায় নক করল। আমি বললাম ভেতরে আসো। আর কষ্ট করে আনতে গেলে কেন? সবাই মিলে একসাথে নিচে বসে খাব. আমার কথা সালে একটু অবাক হয়ে বলল তাহলে কি খাবার গুলো নিয়ে যাব স্যার. মুচকি হাসি দিয়ে বলে হা সকলে মিলে খাবার খাওয়ার মজাই আলাদা। আচ্ছা খাবার খেয়ে ফিরে এসে আমি চিঠিটা লিখে দিব। কাগজ-কলম গুছিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে কেমন জানি
অনুভব হল, মনে হচ্ছে সিঁড়িগুলো দুলছে পরক্ষণে মনে পরল সারাদিন জার্নি করার কারণে বোধহয় মাথাটা ঘুরছে।নিচে এসে খাবারের আয়োজন দেখে অবাক এত রেসিপি তারা কখন ঠিক করলো পুরো টেবিল জুড়ে হরেক রকমের খাবার।সিদ্ধ ভাত বাসমতি চাওলার ফলাও মলা মাছ
রকমের তরকারি ও ভর্তা তবে একটা পেয়ালার গোলাপের পাপড়ি দেওয়া ঝোল। আমি একটু অবাক হলাম আর জিজ্ঞেস করলাম এগুলো কি গোলাম জামোল জেলি। খেতে ভীষণ দারুন স্যার আপনি একবার খেয়ে দেখেন। আমি রমেশ চাচার সাথে ওদেরও বললাম একবারে তাহলে সবাই মিলে খাওয়া শুরু করি খাবার গুলো সত্যিই দারুন হয়েছে স্বাদমতো আঙুল চেটেপুটে খেলাম আর গোলাপ জামলের ঝোলটা সত্যিই অসাধারণ ছিল
জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে এসব রান্না করে? বিধান বলে প্রথমে পানি ১০ থেকে ১৫ মিনিট জাল করে ভালো করে সিদ্ধ করে লংকা বাটা পেঁয়াজ বাটা লবণ দিয়ে ঘন হয়ে গেলে পাপড়িগুলো দিয়ে উঠিয়ে ফেলা হয়। সত্যি খুব দারুন রেসিপি রানু চমৎকার সকলে এক পোজে খাবার শেষ হলো রমিজ চাচা বলে চাটু সাহেব চিঠি কি আমি নিব নাকি ইমেইলে দিয়ে দিবেন তখনই বলল একটু অপেক্ষা করেন আমি যাব আর আসব তাড়াহুড়ো করে জোয়ানের মত দৌড়ে এসে চিঠি লিখতে বসলাম।
প্রিয় মহোদয়
আশা করি আপনি আর পাখিরা ভালো আছেন ঠিকানায় এনে আমাকে রমিত চাচা পেঁৗছে দিয়েছেন তাহলে এ দুজন আমাকে খুব সুন্দর করে যত্ন নিচ্ছে চমৎকার আশেপাশের দৃশ্যগুলো খুবই সুন্দর পাশাপাশি বাজারও আছে আশাকরি খুব সুন্দর দৃশ্য অঁাকতে পারবো সাথে দৃশ্যগুলো বাজারে পরিবেশন করলে আমাদের কোম্পানির সম্পর্কে জানতে পারবে প্রয়োজনীয় সামগ্রী আশা করি আপনার জন্য চমৎকার পেইন্ট পেইন্টিং নিয়ে যেতে পারবো আর আপনার কোম্পানির শীর্ষে পেঁৗছে দিব আর আমি খুব মুগ্ধ এমন নিজের চরণ রাখতে পেরে। আপনি শুধু দোয়া করবেন আমার
জন্য। আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ
ইতি
চাটু
শরহে পুর
চিঠি লিখে লেখা শেষ করে ৫০ পয়সা সাথে করে এনে চাচাকে দিলাম বললাম পয়সাটা দিয়ে যাওয়ার পথে কিছু খেয়ে নিয়েন।আর এই হল আমার চিঠি মানি টলমল করতেছে এ ধরে বললাম চাচা বলেছিলাম আমি আপনার ছেলের মত বাবা ছেলের সম্পর্কে চোখের পানির দরকার নেই ঠেঁাটে হাসি থাকবে চাটু সাহেব শোকের নয় আচ্ছা তাহলে আমি চলে যাচ্ছি এখানে সাবধানে থাকবেন আর ওরা দুজন বেশ ভালো দেখলাম আপনার খুব যত্ন করবে আপনি যাত্রায় সফল হন।








