প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৫
খোকন মজুমদারের কবিতা

তুলনা
চোখ তার বিস্ময়ের গহ্বর
মুখ তার সুন্দরের তুলনা,
কেমনে প্রকাশি তারে
হয় যদি আধেক ছলনা।
পবনে উড়ছে কেশ
কপোলে টোলের তটরেখা,
পুঞ্জ পুঞ্জ গোধূলি বর্ষে
গল্পে গল্পে রংধনু লেখা।
জারুলের থোকা পারুলের ঝাঁক আবিরের রঙে গাঁথা,
কাঁপানো ঢেউয়ে সাজানো অধর
হলদে করবির পাতা।
উপমার আধিক্য সে যে
বর্ননার ক্ষীণ দীপ্তি
হেরিনু রূপ সুধা তার
পেনু অনন্তের তৃপ্তি।***
অগ্নুৎপাত
একটা অস্থিরতার লাভা
অবিচলিত চঞ্চলতা ধাইছে আমার দিকে।
এভারেস্ট কিংবা আরও অধিক উচু একটা ভাবনা
আমায় যেন ঘিরে ধরেছে।
নিতান্তই অসহায় আমি
তীব্র শক্তিতে করছি আর্তনাদ
তবু পড়ছে না চোখের পলক
অশ্রু ঝরে পড়বার পূর্বে শোষিত
মুখ গহ্বরের অতলে।
নোঙর করেছে জিহবা,
প্রশ্বাসে বেরুচ্ছে উষ্ণ স্ফুলিঙ্গ
যেন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত।
তথৈবচ আমিÑ
হয়ত হয়ত সহস্র যোজন দূরে
কিংবা এ মুহূর্ত আমি
আমার সুপ্ত বিস্ফোরণ।***
উদ্দেশ্য
চাঁদ নেই কাছে তবু আছে আলো
হাওয়ায় শুনি মনহরনের গান,
জানি না কেন লাগছে ভালো
পুলকে জাগিয়া মাতিছে প্রান।
খানিক আলো খানিক কালো ছড়ানো আঁধারের মেলা,
হৃদয় মাঝে সুধা ঢালো ত্বরায় ফুরাবে বেলা।
ধন্য হইনা পুন্য চাই না
সুন্দরের পূজা ধরি,
ভালবাসার অর্ঘ্য দিয়ে
মানুষের মন ভরি।
করুণ হাসি অরুণের আলো
বরুণের সাথে কথা কই,
কালো আর ভালো আমার সহচর
আলো আঁধারের সাথে রই।
ফিরিনা আমি ফিরাইনা তবু
ছুইনা অলক্ষরে,
বাঁধি না আমি বাঁধাইনা কভু
মোর দুই বাহু বক্ষরে।








