বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই, ২০২৫  |   ৩০ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৫, ০০:৪৫

পদ্মা-মেঘনায় নেই রূপালী ইলিশ!

চাঁদপুরে হতাশ জেলেরা, দাদনের দেনা শোধ নিয়ে চিন্তিত শত শত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
পদ্মা-মেঘনায় নেই রূপালী ইলিশ!
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে বিক্রেতার হাতের ইলিশটির দাম চাওয়া হয় ২৫০০ টাকা কেজি।

চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জেলেরা জাল ফেলে রূপালী ইলিশ পাচ্ছেন না। ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে নৌকা নিয়ে তীরে ফিরে আসছেন। এতে শত শত জেলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী জেলে পল্লীর জেলেরা জানান, দিন রাত মেঘনা নদীতে এবং পাশের পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে তেমন আশানুরূপ মাছ তারা পাচ্ছেন না। জেলে পরিবারের আশা ছিলো, এ বছর তুলনামূলক বেশি ইলিশ তাদের জালে ধরা পড়বে।

লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার থেকে শুরু করে চাঁদপুরের হাইমচর হতে মতলব উত্তরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষিত।

শরীয়তপুর জেলার তারাবুনিয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের জেলে শাহ আলম বেপারী জানান, “অনেক আগেই দাদন ও ঋণের টাকা খরচ করেছি। মাছ ধরার জন্যে জাল নিয়ে নদীতে যাই। মনে হয় এবার নদীতে মাছ ধরতে পারবো। জালে মাছ ধরা পরলে সব দেনা দিয়া দিমু।”

চাঁদপুর সদর উপজেলার আখনেরহাট গ্রামের একাধিক জেলে জানান, “সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমরা নদীতে মাছ আহরণ করি নি। সরকার যেটুকু সহযোগিতা করেছে তা দিয়ে কোনো মতে পরিবার চালাইছি।" কিন্তু এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না।

হাইমচরের চরভৈরবী ও সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড় পদ্মা নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়তো সবসময়। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

মৌসুমের শুরুতে নদীতে মাছ না থাকায় পেশাদার জেলেদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় এখন আর ইলিশের সমারোহ নেই।

রাজরাজেশ্বরের বাঁশগাড়ি, দুলারচর, কাচি কাটা, ফরাজী কান্দি, সফরমালি, আনন্দবাজার, সাখুয়া, দোকানঘর বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর, গোবিন্দিয়া, আখনেরহাট, আলুর বাজার, চর মনিপুর, কাটাখালী, মাঝেরচর, হাইমচরের ঈশানবালা, আমতলী ও চরভৈরবী ঘাটে ইলিশের তেমন কোনো সরবরাহ নেই।

ইলিশের আড়তদাররা মাছের জন্যে অপেক্ষা করছেন। জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না।

চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাটে বুধবার (২ জুলাই ২০২৫) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সামান্য ইলিশের ক্রয়-বিক্রয় দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।

১ কেজি ও তার উপরে সাইজের বড় ইলিশের কেজি এখন ২৫০০ টাকা। ১ কেজির নিচে ১৭/১৮ শ' টাকা। আর তিনটায় এক কেজি এমন ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।

সাগর বা নামার ইলিশও এখন আর আগের মতন চাঁদপুর ঘাটে আসছে না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির পরিচালক খালেক বেপারী জানান, “সাগরে সিগন্যাল থাকায় গেলো তিনটি জো মাইর গেছে। সামনে ইলিশ ধরা পড়বে কিনা আল্লাহ জানেন।"

ইলিশের দুষ্প্রাপ্যতার এমন পরিস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি।

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়