প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৫
‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’: ক্লিন চাঁদপুরের অভিনব উদ্যোগ অব্যাহত

ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভিনব এক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর'। আবর্জনা জমা দিলেই হাতে হাতে মিলছে চাল, আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন তরকারি ও সবুজ গাছের চারা। চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেয়া এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে শহরের বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে পুরাণ বাজারে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মধ্য শ্রীরামদী এলাকায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আয়োজিত হয় এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির ছিলো তৃতীয় পর্ব।
|আরো খবর
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরাণবাজার ২নং ওয়ার্ডের মধ্য শ্রীরামদী এলাকায় নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা-আবর্জনা মূল রাস্তার ওপর ফেলে রাখতেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্যও মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছিলো। দীর্ঘদিন ধরে ক্লিন চাঁদপুর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও চারা বিতরণের এমন উদ্যোগ এবার স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও সচেতনতা জাগিয়েছে। এলাকার গৃহিণী পারুল বেগম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকে ডাস্টবিনের বাইরে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতেন। ক্লিন চাঁদপুর মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে। তবে বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেয়ার উদ্যোগটি সত্যি অসাধারণ। আমিও জমাকৃত ময়লা দিয়ে প্রয়োজনীয় শাক-সবজি ও খাদ্য পেয়েছি।
উদ্যোগটি সম্পর্কে ‘ক্লিন চাঁদপুরের’ প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই ক্লিন চাঁদপুর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষকে সচেতন করে চারপাশ পরিষ্কার রাখা আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ। তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতেই আমরা এই ‘বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও গাছ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আজ তৃতীয়দিনেও আমরা সাধারণ মানুষের চমৎকার সাড়া পেয়েছি। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা প্রতি সপ্তাহে একদিন চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করবো।
ক্লিন চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা মনে করেন, বর্জ্যকে শুধু ফেলে দেয়া আবর্জনা হিসেবে না দেখে সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে দ্রুত সুফল মিলবে। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শহরের মানুষ যেমন নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাসে অভ্যস্থ হবে, তেমনই তরকারি ও চালের সহায়তায় সাধারণ মানুষের উপকার হবে এবং রোপণ করা চারাগাছে শহরের সবুজের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।







