রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৯

ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের দু পক্ষের সংঘর্ষ ও কার্যালয় ভাঙচুর, ছুরিকাঘাতে আহত ৬

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি।।
ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের দু পক্ষের সংঘর্ষ ও কার্যালয় ভাঙচুর, ছুরিকাঘাতে আহত ৬

ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের দু গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন মামুন তরফদার (২০) নামের এক ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ফরিদগঞ্জ বাজারের ভান্ডারী মহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মামুন তরফদারকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার বাম পাশের বুকের নিচে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। আহত অপর পাঁচজন—তানজিল গাজী (২৫), জিসান আহমেদ (২৫), ইফাজ (২১), রাশেদ (২০) ও হানজালা রাফি (২১) ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমানের অনুসারী রাহুল ও ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজীর অনুসারী হানজালা রাফির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ শহীদ মিনার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভান্ডারী মহল এলাকায় পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ের সামনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তানজিল গাজীর অভিযোগ, কার্যালয়ে অবস্থানকালে আশিকুর রহমানের ৩০ থেকে ৪০ জন অনুসারী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা মামুন তরফদারকে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে হামলায় নিজের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, "কলেজের ঘটনাটি মীমাংসার কথা থাকলেও রাতে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে মামুন তরফদারকে কে বা কারা আঘাত করেছে, তা আমার জানা নেই।"

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, ঘটনার কথা পুলিশ জেনেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। তাঁরা অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়