প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২৯
চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোচনা ও দোয়া
নবীজির প্রতিটি কর্মকে অনুসরণ করে তাঁর আদর্শকে লালন করতে হবে
---------জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম বলেছেন, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নবীজির প্রতিটি কর্মকে অনুসরণ করে তাঁর আদর্শকে আমাদের লালন করতে হবে। আদর্শবান মানুষ গড়তে এবং মহান আল্লাহকে পেতে হলে, পরকালে তথা জান্নাত পেতে হলে আল্লাহ এবং রাসুলের পথে হাঁটতে হবে। আর এ পথ পেতে হলে কোনো ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে যেতে হয় না। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে, এসব বলে বেড়ায় তাদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। এরা ধোঁকাবাজ। তিনি বলেন, জান্নাতে কে যাবেন, কে যাবেন না, সেটি মহান আল্লাহই জানেন।
|আরো খবর
জেলা পরিষদের প্রশাসক বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসায় আয়োজিত আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ মজুমদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান গাজী।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, রবিউল আউয়াল মাসে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ ( স.) জন্ম নিয়েছেন। নবীর জন্মদিন ১২ রবিউল আউয়াল এবং মহানবীর জন্মের এ মাস আমাদের কাছে অনেক অনেক মূল্যবান এবং রহমতের মাস, গুরুত্বপূর্ণ মাস। তিনি বলেন, আমাদের এই আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে অনেক আন্তরিক একজন মানুষ। তিনি এখানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছেন। আগামীতে তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরও উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। আপনারা এমপি মহোদয়ের জন্য দোয়া করবেন।
তিনি বলেন, গভর্নিং বডি, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জনে কাজ করতে হবে এবং একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। এই আহমাদিয়া ফাজিল মাদরাসা একটি ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য প্রয়াত আহম্মদ উল্লাহ পাটওয়ারী, হাবিবুল্লাহ পাটওয়ারীসহ যাঁরা মাদরাসার জন্য করে গেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁরা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন, শিক্ষানুরাগী হিসাবে এরকম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান করে গেছেন। আমরা চাই, এখান থেকে ভালোভাবে পড়াশোনা করে শিক্ষার্থীরা দেশ এবং দেশের বাহিরে সুনাম কুড়াবে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজের দেশকে গড়বে। একজন আদর্শ মানুষ হবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যতে আমি আমার পরিষদ থেকে যেটুকু করণীয় তা করে যাবো।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক আবদুল হামিদ, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। ছাত্রদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মো. মাহাদি হাসান ও মো. আশিকুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সুলতানা আক্তার ও শেফাতুন নাহার, প্রভাষক মীর হোসেন, মোহাম্মদ উল্লাহ, নূর মোহাম্মদ, বোরহান উদ্দীন, সহকারী শিক্ষক মো. শহীদুল্লাহ্, আমিনুল ইসলাম, মাহাবুবুর রহমান, নাসিমা আক্তার, সিরাজুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দিন, মো. আহসান, শামসুন্নাহার, রাশিদা আক্তারসহ সকল শিক্ষক। পরে কোরআন খতম ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করায় ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন খতম, হাদিস পাঠ এবং দোয়ায়ে ইউনূস পাঠ হয়।কোরআন তেলাওয়াত করেন ছাত্র মো. সাইফুল্লাহ।
নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন ছাত্র মো. মোন্তাসিরুল ইসলাম। যৌথ কণ্ঠে নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন ছাত্রী সুফিয়্যা ইসলাম ও নুসরাত জাহান।








