প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৭
ফরাজীকান্দি আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তাটির অবস্থা চরম বেহাল!

মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফরাজীকান্দি আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তাটির চরম বেহাল দশা। অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে, যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাব, বড় বড় খানাখন্দ এবং কাদা মাটির কারণে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
|আরো খবর
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি দরবার শরীফ বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক সুফি দরবার। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দরবার শরীফের অধীনে ‘নেদায়ে ইসলাম’ নামের একটি সেবা সংস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে একটি এতিমখানা ও সুবিশাল মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিরই এখন চরম করুণ দশা।
সরজমিনে দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ থেকে শুরু হয়ে রাস্তাটি ফরাজীকান্দি মাদ্রাসার ভেতর দিয়ে ফরাজীকান্দি গ্রামে মিশেছে। কিছু অংশে হেরিং বোন বন্ড (ইটের সোলিং) করা থাকলেও বেশিরভাগ অংশই কাঁচা। পুরো রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খানাখন্দ ও কাদা-মাটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই যাতায়াত করতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাজার অভিমুখী সকলকে। রিকশা বা ভ্যান চলাচলের উপযুক্ত না হওয়ায় পায়ে হেঁটে চলাই একমাত্র ভরসা, যা বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন। ভোগান্তি চরম মাত্রায় পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়। এই কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় কাদার ভয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, রাস্তাটির কিছু অংশ হেরিং বোন বন্ড করা হলেও বাকি অংশ কাঁচা। বৃষ্টি হলে কাদা-মাটির কারণে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে রাস্তাটি দ্রুত পাকা ও সংস্কার করা জরুরি।
ঐতিহ্যবাহী ফরাজীকান্দি ওয়েসিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আতাউর করিম মুজাহিদ বলেন, "রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি হলে গর্ত ও কাদার কারণে চলাচল করা যায় না। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটি পাকা ও সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরোবর আবেদন জানিয়েছি। আশা করি, জনদুর্ভোগ লাঘবে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।"
উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পের মাধ্যমে এটি পাকা ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"







