সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫২

৩০ হাজার টাকায় দত্তক দেয়া সেই শিশু লামহা ফিরলো মায়ের কোলে

স্বামীর পরামর্শেই সন্তান দত্তক দেয়ার দাবি স্ত্রীর

কবির হোসেন মিজি
স্বামীর পরামর্শেই সন্তান দত্তক দেয়ার দাবি স্ত্রীর
ক্যাপশন : চাঁদপুর শহরে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দত্তক দেয়া শিশু লামহাকে অবশেষে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লামহারা চার বোন। ছবিতে বড় বোনের কোলে লামহা।

চাঁদপুর শহরে ‘মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সন্তান হারানোর’ অভিযোগের পর অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এবার শিশুটির মা শিউলী বেগম দাবি করেছেন, স্বামীর পরামর্শেই তিনি সন্তানকে অন্যের কাছে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্যদিকে শিশুটির নানী পারুল বেগম জানিয়েছেন, আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেয়া শিশুটিকে শনিবার রাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং দত্তক নেয়া দম্পতির কাছ থেকে নেয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর ভাঙারপোল এলাকার বাসিন্দা শিউলী বেগমের ৬ মাস বয়সী শিশু লামহাকে শহরের জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী কামরুল ইসলাম দম্পতি আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেন বলে জানা গেছে। তবে শিশুটিকে দত্তক দেয়ার বিষয়ে নতুন অভিযোগ তুলে শিউলী বেগম বলেন, তার স্বামী লিটন খান ঠিকমতো কাজ করেন না এবং বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িত। সংসারের আর্থিক সংকটঋণগ্রস্ততার কারণে স্বামীই তাকে সন্তানকে অন্যের কাছে দিয়ে টাকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

শিউলী বেগম বলেন, আমার স্বামী ঠিকমতো কাজ করে না। সে বিভিন্ন নেশা করে। সে-ই আমাকে সন্তান বিক্রি করে টাকা দেয়ার কথা বলেছে। এখন সে সবকিছু অস্বীকার করছে। তবে শিউলী বেগমের এ অভিযোগের বিষয়ে তার স্বামী লিটন খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, স্ত্রী কিস্তির টাকা তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং শিশুটিকে অন্যের কাছে দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

এদিকে শিউলী বেগমের মা পারুল বেগম জানান, শনিবার রাতে তার নাতনি লামহাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলো। আমরা তাদের ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। পরে আমার নাতনিকে নিয়ে এসেছি।

শিশুটিকে কী প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেয়া হয়েছিলো এবং পরে কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এর আগে এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার শিশুটির মা থানায় এসে তার সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশের একটি দল বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন। এক পর্যায়ে শিশুটির মা স্বীকার করেন, তার সন্তানকে জেসমিন আক্তার ও কামরুল ইসলাম দম্পতি আদালতের মাধ্যমে দত্তক নিয়েছেন।

ঘটনার শুরুতে শিশুটিকে মলম পার্টির সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিলো, পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেয়ার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে শিশুটিকে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্তে কার ভূমিকা ছিলো, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি কীভাবে হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেয়ার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিলো কি না এবং পরে শিশুটিকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়