প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪
মে দিবসের জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় দেশসেরা তৃতীয় চাঁদপুর সরকারি কলেজের সামিরা

মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় শ্রমিকের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে লেখা তাঁর গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণমূলক রচনা বিচারকদের উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে। ফলাফল প্রকাশের পর জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও জেলার জন্যে গৌরব বয়ে আনেন।
এ উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামিরা বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। লেখালেখি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আবৃত্তি, বক্তৃতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে একজন মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এর আগে তিনি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বাংলা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, নির্ধারিত বক্তৃতা এবং জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাসহ উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সামিরা মেহনাজ নুসরাত বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “এই অর্জনের পেছনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের অক্লান্ত উৎসাহ, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।”
সামিরার এ সাফল্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও জেলাবাসী আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং চাঁদপুরের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যেও একটি গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য। তাঁর এ অর্জন নতুন প্রজন্মকে মেধা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীল চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে।








