বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৮

রেলওয়ে লেকের পাড়ের আবর্জনায় মিললো তিন বস্তা কোরআন শরীফ।। ক্ষোভ ও উদ্বেগ

কবির হোসেন মিজি
রেলওয়ে লেকের পাড়ের আবর্জনায় মিললো তিন বস্তা কোরআন শরীফ।। ক্ষোভ ও উদ্বেগ

চাঁদপুর শহরের মিশন রোড রেলক্রসিং সংলগ্ন শাহী জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত রেলওয়ের লেক এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে তিন বস্তা পবিত্র কোরআন শরীফ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মিশন রোড শাহী জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে লেকের পাড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় তিনটি বস্তার সন্ধান পান। পরে বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ পবিত্র কোরআন শরীফ রাখা রয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাদের দেওয়ান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শাহী জামে মসজিদ কমিটির সদস্য মো. সফিকুল আলম খান জানান, উদ্ধার হওয়া তিনটি বস্তায় প্রায় এক থেকে দেড়শ' পবিত্র কোরআন শরীফ রয়েছে। তারা জানান, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়দের সহায়তায় কোরআন শরীফগুলো উদ্ধার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শাহী জামে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য কাজ। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এ সময় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিমও ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার পথে বিষয়টি পরিদর্শন করেন এবং এ ঘটনা অত্যান্ত নিন্দনীয় বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। উদ্ধার করা পবিত্র কোরআন শরীফগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলেম সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা হবে। পাশাপাশি যারা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেছে, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়