প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫
শিক্ষকদের বিদায়কালে এমন সম্মান মর্যাদাপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক

মতলব উত্তর উপজেলায় ৩৯ বছর চাকরি জীবনের শেষদিনে এক প্রধান শিক্ষককে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। সুসজ্জিত প্রাইভেট কারে তঁাকে বাড়ি পেঁৗছে দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে এভাবে বিদায় জানাতে দেখা যায়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) দীর্ঘ ৩৮ বছর ৮ মাস ২০ দিনের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪নং নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাস। কর্মজীবনের শেষদিনে তঁাকে দেয়া হলো এই ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায়। ফুলে সজ্জিত প্রাইভেট কারে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তঁাকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পেঁৗছে দেন। এমন সম্মানজনক বিদায়ের দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যে সুখরঞ্জন বিশ্বাসও শিক্ষকতা জীবনের সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানশেষে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে বাড়ি পেঁৗছে দেয়া হয়। পথজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাত নেড়ে এবং ফুল ছিটিয়ে তঁাকে বিদায় জানান। বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তে অনেকের চোখেই ছিলো অশ্রু। সহকর্মীরা বলেন, সুখরঞ্জন বিশ্বাস শুধু একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আদর্শ মানুষ। তঁার সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের জন্যে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যক্তিগত জীবনে সুখরঞ্জন বিশ্বাস স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড়ো ছেলে ব্যাংকার, মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছোট ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকাকে চাকুরি থেকে তঁার অবসর গ্রহণশেষে জঁাকজমকপূর্ণ বিদায় দেয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা মন থেকে মুছে না যেতেই মতলব উত্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে যে রাজকীয় বিদায় দেয়া হলো, সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক, মর্যাদাপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক। চঁাদপুর শহরের পুরাণবাজারস্থ ২নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ধ্রুবরাজ বণিককেও অতি সম্প্রতি চাকুরি থেকে তঁার অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ যে ব্যাপক আয়োজন করেছে, সেটাও ছিলো দেখার মতো।
আমাদের সমাজে সকল শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাস ও ধ্রুবরাজ বণিকের মতো হন না। সত্যি কথা বলতে কি, শিক্ষকতাকে যারা নিতান্তই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে ব্রত মনে করেন না, তারা সুখরঞ্জন বিশ্বাস ও ধ্রুবরাজ বণিকের মতো হতে পারেন না। এ দুজন শিক্ষকসহ অন্য যে সকল শিক্ষক শিক্ষকতাকে পেশার পাশাপাশি ব্রত হিসেবে নিয়েছেন বা নেবেন, তঁারা সম্মানিত না হয়ে পারেন না। আমরা এমন শিক্ষকদের চাকুরি জীবনশেষে রাজকীয় তথা মর্যাদাপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক আরো বিদায় অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি চাই। কেননা এর ফলে শিক্ষকগণ পেশায় মনোযোগী, আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে আদর্শ শিক্ষকে পরিণত হবার তাগিদে ভুগবে। আর সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবার মতো শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়বে। এতে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে।






