প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৫:৪৮
শাহরাস্তিতে ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও মাকে মারধরের অভিযোগে ইমাম কারাগারে

শাহরাস্তিতে মায়ের ভরণ-পোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক ইমাম ও কথিত ইউটিউব বক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) চাঁদপুরের বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে উপজেলার চেড়িয়ারা পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আবু ইউছুফ পাটোয়ারী (৩৫) উপজেলার চেড়িয়ারা এলাকার মৃত হাফেজ আহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু ইউছুফ পাটোয়ারীর মা রোকেয়া বেগম (৬০) অভিযোগ করেন, তাঁর বড়ো ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভরণ-পোষণ, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন না। বরং বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আবু ইউছুফ পাটোয়ারী তার মাকে ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে রোকেয়া বেগম প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় রোকেয়া বেগমের মেয়ে হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বসতঘরের দরজা-জানালা, শোকেস ও আলমারি ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
ঘটনার পর রোকেয়া বেগম ও তাঁর মেয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।"








