সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৬:০৪

কচুয়ায় খেলতে গিয়ে বারবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাশ হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
কচুয়ায় খেলতে গিয়ে বারবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাশ হচ্ছে!

গত ১০ জুন ২০২৬ (বুধবার) দুপুরে কচুয়া উপজেলার ১৩২নং বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন হোসেন তামিম টিফিন বিরতিতে সহপাঠীদের সাথে খেলার সময় স্কুলের পাশে নির্মাণাধীন ভবনের ধসে যাওয়া দেওয়ালে চাপা পড়ে নিহত হয়। তার দাফনকার্য ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন এমপির পক্ষে তামিমের পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান রাসেল।

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি কচুয়ার তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী সামিয়া বিদ্যালয় মাঠে খেলতে নেমে ময়লার আগুনের স্তূপে পড়ে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারায়। এজন্যে ৮জন শিক্ষককে দায়িত্বহীনতার জন্যে বরখাস্ত করা হয়। তারপর নানা শাস্তি পেয়ে চাকুরিতে পুনর্বহাল হয়। দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এমন ঘটনার স্মৃতি মন থেকে মুছে না যেতেই এক বছর ৪ মাস ১৯ দিনের মাথায় কচুয়ার তামিম নামে আরেকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী স্কুল মাঠে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারালো, যেটা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। নির্মাণাধীন ভবনের দেওয়াল ধসে তামিমের মৃত্যুর জন্যে শিক্ষকবৃন্দ না ভবন মালিক দায়ী সেটা উপরোল্লিখিত সংবাদে উল্লেখ নেই। কথা হলো, তামিমের মৃত্যুর ব্যাপারে থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না। দাফনকার্যের ব্যয় মেটাতে সরকারি তহবিলের ২৫ হাজার টাকায় পরোক্ষভাবে তামিমের অপমৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা পড়ে কিনা সেটা পর্যবেক্ষণের বিষয়। আমরা মনে করি, তামিমের অভিভাবক তথা তার পিতা/মাতা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ চাপের মুখে তামিমের মৃত্যুর জন্যে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে মাফ করে দিতে পারেন। এমতাবস্থায় কচুয়ার মতো আরো অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কারো ভবন কিংবা বিদ্যালয়ের নূতন ভবন নির্মাণকালে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্যে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সে ব্যাপারে সতর্কতা জারির বিষয়টিও যেনো ধামাচাপা না পড়ে। আগুনে সামিয়ার মৃত্যুতে যেভাবে চঁাদপুর জেলার এগারো শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়, আর শিক্ষকদের অসতর্কতার জন্যে শায়েস্তা করা হয়, কচুয়ায় দেওয়াল ধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্যে ভবন মালিক বা দায়ী অন্য কারো বিরুদ্ধে অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হোক-সেটা আমাদের দাবি। এতে মাঠে খেলতে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অপমৃত্যু শুধু কচুয়ায় নয়, পুরো জেলায়, এমনকি সারাদেশে হ্রাস পাবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়