মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০০:২৬

এককালের চুন্নু মিয়া মসজিদ এখন পাঁচতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার মিলনস্থল চাঁদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ

ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার মিলনস্থল চাঁদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ
কবির হোসেন মিজি

চাঁদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদটি চাঁদপুর শহরের শিক্ষা, ইতিহাস ও ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যেটি চাঁদপুর সরকারি কলেজ পুকুরের পূর্ব পাড়ে নাজির পাড়া এবং বিপণীবাগ সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় এটি চুন্নু মিয়া মসজিদ নামে পরিচিত ছিলো। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করা এই মসজিদটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক রূপ পেয়েছে এবং বর্তমানে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি সুপরিকল্পিত ভবনে রূপ নিয়ে মুসল্লিদের জন্যে প্রশান্ত ও পরিপাটি ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৯ সালে। সেই সময় এলাকার কয়েকজন দানশীল ব্যক্তির উদ্যোগ ও জমি দানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন মরহুম খলিলুর রহমান (নাজির) এবং মরহুম লুৎফুর রহমান (চুন্নু মিয়া)। ভূমি দানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মরহুম খলিলুর রহমান (নাজির), যিনি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দান করেন এবং মরহুম শাহ আমিরুদ্দিন (বাহার), যিনি ২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁদের এই দানই আজকের বিশাল মসজিদের ভিত্তি গড়ে দেয়।

স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের ভূমিদান ও উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদ পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজের তত্ত্বাবধানে আসে। ১৯৮৬ সালে পাকা মসজিদ নির্মাণ এবং ২০১৯ সালে পুনঃনির্মাণের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান রূপ লাভ করে। সময়ের প্রয়োজনে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ফলে এখন এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাঁচতলা ভবন, যেখানে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদের দীর্ঘসময়ের ইমাম ও খতিব হচ্ছেন হাফেজ মাওলানা নিজামুল হক। এর আগে তাঁর বাবা ছিলেন এই মসজিদের ইমাম।

বর্তমান ভবনের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে। নকশা অনুযায়ী চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশলের একাধিক প্রকৌশলীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবনের মূল ফাইলিং ও ফাউন্ডেশন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত মুসল্লিদের অনুদানে। এতে এই মসজিদটি সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

মসজিদের ভেতরের পরিবেশ বেশ পরিপাটি ও নান্দনিকতাপূর্ণ । প্রশস্ত নামাজ কক্ষ, সারিবদ্ধ সিলিং ফ্যান, ঝাড়বাতির আলো এবং পরিচ্ছন্ন মেঝে মুসল্লিদের ইবাদতে মনোযোগী হতে সহায়তা করে। মসজিদের মেহরাব অংশটি পরিমিত ও মার্জিত নকশায় সাজানো। দেয়ালের নান্দনিক টাইলস ও আলো-ছায়ার সংযত ব্যবহার মসজিদের ভেতরে এক ধরনের শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। নামাজরত মুসল্লিদের সারিবদ্ধ অবস্থান এই স্থানের ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও পবিত্রতাকেই তুলে ধরে।

মসজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে রয়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক সেলিম হোসেন। তাঁর নেতৃত্বে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, নামাজের পরিবেশ ও ধর্মীয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বর্তমানে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে গড়ে ৫ থেকে ৬শ' মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। জুমার দিনে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। শুধু কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই নন, আশপাশের এলাকার সাধারণ মুসল্লিরাও নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে জুমা ও রমজানে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি ইতিহাস, শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐক্যের এক জীবন্ত নিদর্শন। আধুনিক স্থাপত্য, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই মসজিদ চাঁদপুর শহরের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে আছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়