প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪১
কারুকার্যখচিত ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ

‘রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ’, যার মূল নাম বা অফিসিয়াল নাম ‘মসজিদে নূর’। যদিও এই নামে কেউ চিনে না। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজারে অবস্থিত ‘মসজিদে নূর’। ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারদের পারিবারিক কবরস্থানের পাশে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুন্দর কারুকার্যখচিত মসজিদটি প্রায় ২০০ বছর পূর্বে নির্মাণ করেন জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী।
মেঘনা পাড়ের বৃহত্তর জমিদারি যিনি প্রতিষ্ঠা করেন, তিনিই ‘মসজিদে নূর’ মসজিদটি ১২৮৪ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন। মসজিদ গেটের পাশেই শ্বেত পাথরে ফার্সি ভাষায় লেখা রয়েছে নির্মাতার নাম ও নির্মাণকাল। মসজিদটির আয়াতন ৪৭/৪০ ফুট। এর সামনের অংশে রয়েছে ৫৩/৩০ ফুট দেয়ালবেষ্টিত চত্বর। মসজিদটির ছাদের সামনের অংশে রয়েছে ৩টি বড়ো গম্বুজ। মার্বেল পাথরের ঢালাই করা সুশোভিত মসজিদটিতে রয়েছে ছোট-বড় মোট ৩৯টি গম্বুজ। অনিন্দ্য সুন্দর, শৈল্পিক আঁচড়ে তৈরি মসজিদটি তৎকালীন বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো।
মসজিদের পশ্চিম পাশে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি দিঘি রয়েছে। সে দিঘিতে মুসল্লিদের জন্যে ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। চাহিদার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে মূল মসজিদ অক্ষুণ্ন রেখে তৃতীয় বারের মতো আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে আনুমানিক ৫০০ শ' মুসল্লি একসাথে নামাজ পড়ে। তবে রমজান মাসে ২/৩ শ’ মানুষ আরো বেশি হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবদুর রহমান। মসজিদের দেখাশোনা বা দায়িত্ব পালন করছেন জমিদারদের উত্তরসূরি ‘মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী।








