সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

অপরাধী আমার ছেলে হলেও কোনো ছাড় নয়

......... এম এ হান্নান এমপি

প্রবীর চক্রবর্তী।।
অপরাধী আমার ছেলে হলেও কোনো ছাড় নয়
ফরিদগঞ্জ উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ হান্নান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও কোনো সন্ত্রাসীর স্থান ফরিদগঞ্জের মাটিতে হবে না। আমি রাতের ভোটে বা প্রশাসনের সহযোগিতার ভোটে এমপি হইনি। জনগণের ভোটে এমপি হয়েছি, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফরিদগঞ্জ উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করবো। প্রশাসন ও পুলিশকে জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে অপরাধী যদি আমি বা আমার ছেলেও হয়, তার কোনো ক্ষমা নেই। ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন যেমন তাঁর ছেলেকে গুলি করে মেরেছে, আমিও অপরাধ দমনে তেমনি পিছপা হবো না। এতোদিন কী হয়েছে, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনো অন্যায়কারীকে প্রশয় দেয়া চলবে না। কোনো অবৈধ তদবির চলবে না। আপনারা সকলে মনে রাখবেন, আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়া আমার পরিবারের আর কেউ নেই। তাই আপনারা নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করুন। আর যদি মনে হয়, আপনারা পারবেন না, তাহলে চলে যান, কোনো সমস্যা নেই। ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চিহ্নিত ৩০/৩৫জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে , এদের নির্মূল করতে পারলে উপজেলা অনেকাংশে মাদকমুক্ত হবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ফরিদগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

তিনি আরো বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কী ঘটেছে, তা অনেকেই দেখেছেন। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। সরকারি কাজে কেউ বাধা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। কেনো নেয়া হলো না, তা প্রশ্নই রয়ে গেলো। পুলিশ প্রশাসনকে বলছি, অপরাধী না হলে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করা যাবে না। ওয়ারেন্ট থাকলে তাকে ৪৮ বা ৭২ ঘন্টা সময় দিয়ে জামিন নিয়ে আসতে বলবেন। তা যদি না হয়, তাহলে মাটির নিচে থাকলেও তাকে ক্ষমা করা যাবে না। আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হলেও একই ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করুন। আমার যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে , তাহলে নির্ভয়ে এরকম সভায় উপস্থাপন করুন। যাতে আমি ভুল শুধরে নিতে পারি। একইভাবে আমিও আপনাদের ভুলগুলো সরাসরি বলবো। আমি যা বলি সামনাসামনি বলি, পেছনে বলি না। আমি যদি এখানে ব্যর্থ হই, তবে সংসদে বলবো। ফরিদগঞ্জবাসীর উন্নয়নে কোথায় কী করতে হবে, বলবেন। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। সর্বশেষ গত ১ বছরে ২৫ কোটি টাকার কাজ এনেছি। এর আগে আমি ২শ' কিলোমিটার রাস্তা করেছি। যা কোনো জনপ্রতিনিধিও পারেনি। আমি আমার দিক থেকে কাজ করে যাবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, এইচ এম হারুনুর রশিদ, শাহ আল শেখ, বেলায়েত হোসেন, মহসিন হোহেসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়