মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮

খেলাধুলা দলীয় সংহতি, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে, যা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি সম্ভব নয়

--ডিএন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন

সেলিম রেজা
খেলাধুলা দলীয় সংহতি, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে, যা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি সম্ভব নয়

চাঁদপুর শহরের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডি এন (দ্বারকানাথ) হাই স্কুল। এটি শহরের হাজী মহসিন রোডে নতুনবাজার মোড়ের অদূরে অবস্থিত। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন একজন নামকরা শিক্ষক নেতা, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও জেলা স্কাউটস্ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন। সম্প্রতি তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের ক্রীড়াকণ্ঠের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলীয় সংহতি, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে, যা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন আরো অনেক কথা। সেগুলো প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে পত্রস্থ করা হলো :

চাঁদপুর কণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াকে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কতোটা গুরুত্ব দেন? দিয়ে থাকলে কেন?

মোহাম্মদ হোসেন : প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমি শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াকে সমান গুরুত্ব দিই। কারণ, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক গঠন ও মানসিক বিকাশে সহায়ক। এটি তাদের মধ্যে দলীয় সংহতি, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে, যা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি সম্ভব নয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ের তো বড়ো মাঠ নেই। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার তেমন বড়ো আয়োজন করতে পারেন কি? বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়া আন্তঃশ্রেণী ক্রিকেট ও ফুটবল হয় কি?

মোহাম্মদ হোসেন : বড়ো মাঠ না থাকাটা আমাদের জন্যে একটি সীমাবদ্ধতা। তবে আমরা সীমিত পরিসরে ইনডোর গেমস এবং বিদ্যালয়ের ছোট প্রাঙ্গণে কাবাডি, ভলিবল বা ব্যাডমিন্টনের মতো খেলার আয়োজন করি। বড়ো টুর্নামেন্টের জন্যে আমরা স্থানীয় কোনো বড়ো মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিই। বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়াও আমরা প্রতি বছর স্বল্প পরিসরে আন্তঃশ্রেণী ফুটবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক আপনারা ক্লাবভিত্তিক, হাউজভিত্তিক ক্রীড়া চর্চায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপৃত রাখেন কিনা?

মোহাম্মদ হোসেন : হ্যাঁ, আমরা জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা গুরুত্বের সাথে পালন করি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হাউজে ভাগ করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং প্রতিটি হাউজের জন্যে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, যাতে তারা নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে পারে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক আছে কিনা? তাঁর নাম কী? তিনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কতোটুকু দায়িত্ব পালন করছেন?

মোহাম্মদ হোসেন : আমাদের বিদ্যালয়ে একজন দক্ষ ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন। তাঁর নাম মো. আমিনুল ইসলাম । তিনি তাঁর পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি কেবল খেলাধুলাই নয়, শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও শারীরিক কসরতের প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : বিশ্বখ্যাত সাঁতারু অরুণ নন্দী আপনার বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেটা জানেন কি? আপনাদের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সাঁতারে কেমন আগ্রহী? বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারের কোনো ইভেন্ট থাকে কি?

মোহাম্মদ হোসেন : জি, অরুণ নন্দীর মতো কৃতী ব্যক্তিত্ব আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেনÑএটি আমাদের জন্যে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমাদের শিক্ষার্থীরাও সাঁতারে বেশ আগ্রহী, তবে নিজস্ব পুকুর বা জলাশয় না থাকায় আমরা নিয়মিত চর্চা করাতে পারি না। তবুও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় আমরা স্থানীয় কোনো জলাশয়ে নির্দিষ্ট কিছু সাঁতার প্রতিযোগিতার ইভেন্ট রাখার চেষ্টা করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে কি? এ গেমসে শিক্ষার্থীরা কেমন আগ্রহী?

মোহাম্মদ হোসেন : আমাদের বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন পিরিয়ডে বা অবসরে ক্যারাম, দাবা খেলতে বেশ আগ্রহী থাকে। বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দাবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ক্রীড়াচর্চায় ঘাটতির ক্ষেত্রে মোবাইল আসক্তিকে আপনি কতোটা দায়ী করেন?

মোহাম্মদ হোসেন : বর্তমান সময়ে ক্রীড়াচর্চায় ঘাটতির পেছনে মোবাইল আসক্তি অনেকাংশেই দায়ী। শিক্ষার্থীরা মাঠের চেয়ে ডিজিটাল ডিভাইসে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। আমি মনে করি, এ সমস্যার জন্যে মোবাইল আসক্তি ৭০-৮০ শতাংশ দায়ী। চাঁদপুর কণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াসহ সকল সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম জোরদার করলে কি মোবাইল আসক্তি দূর করা সম্ভব? এ সকল কার্যক্রম চালুতে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন কি? সেটা কি আর্থিক, উপকরণগত না অন্য কিছু?

মোহাম্মদ হোসেন : অবশ্যই সম্ভব। শিক্ষার্থীদের যদি আমরা খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখতে পারি, তবে তাদের স্ক্রিন টাইম বা মোবাইলের প্রতি আকর্ষণ প্রাকৃতিকভাবেই কমে আসবে। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে অনেক সময় পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জামের অভাব এবং বড়ো খেলার মাঠের সীমাবদ্ধতা অনুভব করি। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপের কারণে অভিভাবকরাও সন্তানদের মাঠে পাঠাতে চান না, যা একটি বড়ো প্রতিবন্ধকতা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ এ প্রবাদের যথার্থতায় ক্রীড়ার ভূমিকা কী?

মোহাম্মদ হোসেন : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’Ñএই প্রবাদটি চিরন্তন সত্য। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্ককে সচল ও প্রফুল্ল রাখে। একজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে ফিট থাকলে তার পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং সে মানসিকভাবেও দৃঢ় থাকে। তাই সুস্থ মনের বিকাশে ক্রীড়ার ভূমিকা অপরিসীম।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে বিবৃত করতে পারেন।

মোহাম্মদ হোসেন : আমার বক্তব্য হলো, শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয়; বরং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সমন্বয়। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং প্রশিক্ষক থাকা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে ফেরাতে স্কুল ও অভিভাবকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়