প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৫
রাজারগাঁও উচ্চ বিদ্যালেয়র ক্রীড়া শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বললেন
শুধু মোবাইল নয়, মাঠের স্বল্পতা ও পড়ালেখার বাড়তি চাপও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার প্রতিবন্ধক

হাজীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে অন্তত দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজারগাঁও ইউনিয়ন। এখানেই অবস্থিত উপজেলার একটি বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিপিএড ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ ক্রীড়া শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রতিদিন পাঁচটি ক্লাস নিয়েও দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা করানোর ক্ষেত্রে তার কোনো ঘাটতি কিংবা অসন্তোষ নেই। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ‘ক্রীড়াকণ্ঠে’র মুখোমুখি হয়ে বলেছেন খোলামেলা কথা। প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামোতে তার কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে আপনার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন বিপিএড পাস করাসহ আপনার অতীত ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্যে, না অন্য কোনো যোগ্যতার কারণে? কতোদিন ধরে আপনি কর্মরত আছেন এখানে?
মো. রফিকুল ইসলাম : আমি আমার প্রতিষ্ঠানে মূলত বিপিএড ডিগ্রি এবং পূর্বের ক্রীড়া নৈপুণ্যের ওপর ভিত্তি করেই ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান এবং মাঠ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতাই আমার প্রধান যোগ্যতা হিসেবে নিয়োগের পূর্বে বিবেচিত হয়। আমি রাজারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৯ বছর ধরে কর্মরত আছি।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানে কি প্রতিদিন ক্লাস শুরুর পূর্বে সমাবেশ বা অ্যাসেম্বলি হয়? সেটা কি আপনি পরিচালনা করেন?
মো. রফিকুল ইসলাম : আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শারীরিক শিক্ষক হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। শিক্ষার্থীদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো, পিটি করানো এবং জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে গাওয়ার বিষয়টি আমি তদারকি করি।
ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আপনি জেলা/উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনা অনুসরণ করেন, না নিজের খেয়াল খুশিমত করেন?
মো. রফিকুল ইসলাম : শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমি মূলত জেলা/ উপজেলা শিক্ষা অফিসের বার্ষিক ক্যালেন্ডার এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রধানের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের রুচি ও স্থানীয় পরিবেশ বুঝে আমি ব্যাক্তিগতভাবেও নানা উদ্যােগ গ্রহণ করি, তবে তা অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার মধ্যে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি বিদ্যালয়ে ক্রীড়াচর্চার ব্যাপারেই বেশি ব্যস্ত থাকেন, না প্রতিদিন শ্রেণী-পাঠদানে ব্যস্ত থাকেন? আপনি প্রতিদিন কতোটি শ্রেণীতে পাঠদান করেন তথা ক্লাস নেন? কোন্ কোন্ শ্রেণীতে কোন্ কোন্ ক্লাস?
মো. রফিকুল ইসলাম : আমি ক্রীড়া চর্চা এবং শ্রেণী-পাঠদান উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে ব্যস্ত থাকি। প্রতিদিন গড়ে আমি ৫টি ক্লাস নেই। সাধারণত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের ক্লাসগুলো আমি পরিচালনা করি।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে কী কী ক্রীড়া সরঞ্জাম আছে? আপনাকে যদি ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠানের ফুটবল/ ক্রিকেট দল নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলা হয়, আপনি সেটা পারবেন কি?
মো. রফিকুল ইসলাম : আমাদের বিদ্যালয়ে ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, ব্যাডমিন্টন এবং এথলেটিক্স সরঞ্জাম রয়েছে। তিন থেকে ৭ দিনের সংক্ষিপ্ত নোটিসে দল নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সম্ভব, কারণ আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে রাখা হয়।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর কখনও কি আন্তঃশ্রেণী ফুটবল/ ক্রিকেট বা অন্য টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন? না করে থাকলে করার পরিকল্পনা আছে কি?
মো. রফিকুল ইসলাম : হ্যাঁ, আমি যোগদানের পর প্রতি বছরই আন্তঃশ্রেণী ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছি। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে। এছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানে দাবা, ক্যারাম ইত্যাদি ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে কি?
মো. রফিকুল ইসলাম : না।
ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াচর্চায় মোবাইল ফোন প্রধান প্রতিবন্ধক, না অন্য কিছু?
মো. রফিকুল ইসলাম : বর্তমান সময়ে ক্রীড়াচর্চায় মোবাইল ফোনে অত্যধিক আসক্তি অন্যতম প্রতিবন্ধক। তবে খেলার মাঠের স্বল্পতা এবং পড়াশোনার বাড়তি চাপও শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আমাদের প্রশ্নমালার বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে বলতে পারেন।
মো. রফিকুল ইসলাম : আমি একজন ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে মনে করি, সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের জন্যে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং আধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।








