প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ২৩:০৯
একান্ত আলাপচারিতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন জনু
ইন্টার স্কুল থেকে ফুটবল খেলা শুরু করে আজকের এই পর্যায়ে ঝিমিয়ে পড়া চাঁদপুরের ক্লাবগুলোকে উজ্জীবিত করে ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তুলবো

জয়নাল আবেদিন জনু চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচিত এবং সুপরিচিত নাম। বিশেষ করে ফুটবল খেলোয়াড়দের মাঝে ‘জয়নাল আবেদিন জনু’ নামটির ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ‘কৃতী ফুটবলার’ পরিচয়ে চাঁদপুর পৌরসভায় কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন। বিপুল ভোটে পৌর কমিশনার নির্বাচিত হন। চাঁদপুরের ফুটবল খেলোয়াড়রা দল-মতের ঊর্ধ্বে ওঠে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নামেন জয়নাল আবেদিন জনুকে বিজয়ী করার জন্যে। সফলতাও পেয়েছেন। বিপুল ভোটে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
একসময়ের সেরা গোলকিপার জয়নাল আবেদিন জনু শুধু নিজ জেলাতেই নন, দেশের বিভিন্ন জেলায় চাঁদপুরের হয়ে খেলেছেন, সফলতাও পেয়েছেন। চাঁদপুর স্টেডিয়ামের সেরা গোলকিপার হিসেবে বেশ পরিচিতি ছিলো তাঁর। আশির দশকে তিনি ছিলেন চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের একজন তুখোড় ফুটবলার। ১৯৮৬ সালে ফুটবলে তাঁর পুরা যৌবন। টানা খেলেছেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। চাঁদপুরে খেলতেন আবাহনী ক্রীড়া চক্র, নতুন বাজার ক্রীড়া চক্র, নিতাইগঞ্জ এবং চাঁদের হাটে। চট্টগ্রামে খেলেছেন অনেক। সেখানে বাংলাদেশ টোব্যাকো, হাফিজ জুট মিল এবং দেশসেরা ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নুদের নামে ‘আবেদিন ক্লাবে’র হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। তখন তিনি মিনহাজুল আবেদিন নান্নুদের বাসায়ই থাকতেন।
চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের সেই আলোচিত ‘জয়নাল আবেদিন জনু’ এখন চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। বহু বছর পর তাঁর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্বে আসা। বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ যখন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, জয়নাল আবেদিন জনু তখন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মুনির আহমেদকে বাদ দিয়ে দেওয়ান আরশাদ আলীকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক করার পর দেওয়ান আরশাদ আলীর সাথেও তিনি দু’ বছর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি ‘নানা কারণে’ জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দূরে সরে যান। দীর্ঘ প্রায় দু যুগ পর একসময়ের সেরা গোলকিপার জয়নাল আবেদিন জনু আবার ফিরলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থায়। তাতে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে তথা খেলোয়াড়দের মাঝে বলতে গেলে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফুটবল খেলোয়াড়রা খুব উল্লসিত তাদের প্রিয় ‘জনু ভাই’ জেলার ক্রীড়াঙ্গনের হাল ধরেছেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হবেন পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক। এই নিয়মে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থাও চলছে। অনেক দিন জেলা ক্রীড়া সংস্থা বলতে গেলে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকার পর এডহক কমিটি দেয়া হয়। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সাত সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি হচ্ছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। আর সদস্য সচিব হয়েছেন জয়নাল আবেদিন জনু। এছাড়া পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), উপ-পরিচালক জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার এবং ক্রীড়াবিদ হিসেবে আনোয়ার হোসেন মানিক হচ্ছেন এই এডহক কমিটির সদস্য।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে কথা হয় এডহক কমিটির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন জনুর সাথে। চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে কী ভাবছেন, ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংগঠন ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থা’ কেমন ভূমিকায় থাকবে চাঁদপুরের ক্রীড়া জগতকে সক্রিয়, সতেজ এবং প্রাণচঞ্চল করার জন্যে। এসব বিষয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি ইন্টার স্কুল খেলে আজকের এই অবস্থানে। নতুন নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে ইন্টার স্কুল খেলার বিকল্প নেই। কারণ স্কুল জীবন থেকেই খেলোয়াড় তৈরি হয়। ভালো খেলোয়াড় হতে হলে স্কুল থেকেই তাকে অনুশীলন করতে হবে। তাই আমি প্রত্যেকটা স্কুলে খেলাকে গুরুত্ব দিবো। তাতে দুটি কাজ হবে। ভালো খেলোয়াড় যেমন তৈরি হবে, তেমনি তরুণ যুবকদেরকে মাদক, বখাটেপনা এবং কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখা যাবে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সক্রিয় এবং প্রাণচঞ্চল রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাণ হলো ক্রীড়া ক্লাবগুলো। ক্লাব যতো শক্তিশালী হবে, ক্রীড়া সংস্থা ততো শক্তিশালী, গতিশীল ও কার্যকর হবে। তাই আমার প্রথম কাজ হবে ক্লাবগুলোকে সক্রিয় করে তোলা, নিষ্ক্রিয় এবং ঝিমিয়ে পড়া ক্লাবগুলোকে জাগিয়ে তোলা। ক্লাবগুলো যখন সারা বছর খেলাধুলা নিয়ে থাকবে, টুর্নামেন্ট ছাড়বে, তখন ক্রীড়া সংস্থা এমনিতেই জেগে উঠবে। এ ক্ষেত্রে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে ক্লাবগুলোকে প্রণোদনার ব্যবস্থাও থাকবে।
স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদপুর স্টেডিয়ামকে জাতীয় মানের স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাহেবের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শক্রমে চাঁদপুর স্টেডিয়ামকে জাতীয় মানের স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ। আর স্টেডিয়ামে সারা বছর কোনো না কোনো খেলা থাকবে এই চেষ্টা আমার এবং আমার কমিটির থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সর্বোপরি আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তোলা হবে। এ জন্যে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
উল্লেখ্য, জয়নাল আবেদিন জনু একসময় চাঁদপুর আবাহনী ক্রীড়া চক্রের নয় বছর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নতুন বাজার ক্রীড়া চক্রের সদস্য। তিনি চাঁদপুর শহরের শব্দযন্ত্র শিল্প তথা সাউন্ড ও মাইক সার্ভিসের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ঝলক মাইক এন্ড সাউন্ড সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী। চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার বেগম জামে মসজিদের সন্নিকটে তাঁর এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরোপকারী এবং সমাজ হিতৈষী একজন মানুষ হিসেবে তাঁর বেশ পরিচিতি রয়েছে।







