সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪০

চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফল সফর

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফল সফর

চাঁদপুরের প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ প্রীতি যে আছে সেটা তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হবার ২ মাস ২৯ দিনের মাথায় চাঁদপুর সফরে আসতে রাজি হবার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। বৃষ্টিহীন রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে তাঁর এ সফরকে সফল করতে গৃহীত সকল প্রস্তুতি ছিলো নির্বিঘ্ন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত জনতা তাঁর প্রতিটি কর্মসূচিকে সামগ্রিকতায় উপভোগ করেছে। স্মিতহাস্যে তাঁর সারল্যভরা কথা, আটপৌরে পোশাক সাধারণ্যে বেশ সমাদৃত হয়েছে। এই প্রথম চাঁদপুরে কোনো প্রধানমন্ত্রী এসেছে বাসে চড়ে, ঢাকা থেকে কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথে সড়কের দুধারে দাঁড়ানো নেতা-কর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। তাদেরকে অনবরত হাত নেড়ে নেড়ে অভিবাদন জানাতে জানাতে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অক্লান্ত। শুধু কি তা-ই, প্রতিটি কর্মসূচিস্থলে নেমে হাত তুলে ও হাতের স্পর্শ দিয়ে সমবেত নারী-পুরুষকে করেছেন ধন্য। অতীতে নারী প্রধানমন্ত্রীগণ চাঁদপুরে যাতায়াত করেছেন আকাশপথে। সেজন্যে তখন প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ ছিলো সীমিত। পুরুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষেত্রে সে সুযোগ ছিলো অবারিত। সেজন্যে কী দাবি পূরণ হলো, আর কী পেলো, তার চাইতে প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে দেখতে পেলো, স্পর্শ পেলো, তাঁর কথা শুনতে পেলো--সেটাই জনে জনে তৃপ্তিপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে গেছে।

প্রকৃত অর্থে যিনি যতো বড়ো, তাঁকে হতে হয় অনেক বেশি সাধারণ। এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাঝেই দেখা যাচ্ছে। জিয়া খাল কেটে পরিশ্রান্ত হয়ে যে সাধারণ ভঙ্গিমায় বিশ্রাম নিয়েছেন, সেটা কোটি কোটি মানুষের মন জয় করেছে। পিতার নামে আধা না হয়ে জিয়াউর রহমান নিজের নামে, নিজের কর্মকীর্তিতে হয়েছিলেন শাহজাদা। তাঁর পুত্রের মাঝেও তেমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি সরকারি অফিসে মাথার ওপর তাঁর বিখ্যাত পিতামাতার ছবি কিংবা নিজের ছবি না টানানোর যে রেওয়াজ সৃষ্টি করলেন, সেটা গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসার অনন্য নজির।

চাঁদপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী এতোটা প্রাণবন্ত ছিলেন যে, পাশে বসিয়ে কৃষকের কথা শুনেছেন, পাশে দাঁড় করিয়ে শিক্ষার্থীর কথা শুনেছেন। খাল কাটতে গিয়ে ও মঞ্চে অবস্থানকালে পিঠ চাপড়িয়ে অনেককে দিয়েছেন সাহস ও শক্তি, যেটা ছিলো চোখে পড়ার মতো। মায়াভরা কিংবা দরদমাখা অভিব্যক্তিতে বারবার তাঁকে সমুজ্জ্বল মনে হয়েছে। গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশের মাধ্যমে নয়, ঋজু কথা ও স্পষ্ট ভাষণে তিনি নিরাপস একেবারে সাবলীলভাবে। এমনটি বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে বিরলদৃষ্ট।

চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক তারেক রহমানকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার পারঙ্গমতায় নিজে যেমন সফল হলেন, প্রতিবেশী জেলা কুমিল্লার আপামর জনতার প্রধান দাবি ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’কেও বোনাস হিসেবে পাইয়ে দেওয়ার পথ সুগম করে দিলেন। এটা জনাব মানিকের নিজের নির্বাচনী এলাকার অর্জনের চেয়ে অনেক বেশি অর্জন বলেই মনে হচ্ছে। অবশেষে কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরের কথাই মনে পড়বে। এমপি মানিক সফরের শেষলগ্নে প্রধানমন্ত্রীকে ফ্যাসিস্টদের উপর্যুপরি হামলার শিকার নিজ বাসভবনটিও দেখাতে পেরেছেন, সেটাও কম কিসে। সার্বিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরে এমপি মহোদয় ঈর্ষণীয় সাফল্যে ভুগছেন-এটা বললে কি অত্যুক্তি হবে?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়