মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ২৩:০৭

ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব খন্দকার মজিবুর রহমানকে নিয়ে জাতীয় ফুটবল দলের খ্যাতিমান খেলোয়াড়, আমেরিকা প্রবাসী মোস্তফা হোসাইন মুকুলের স্মৃতিচারণ

চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ সকল ক্রীড়ায় তাঁর অবদান অপরিসীম

ক্রীড়াকণ্ঠ প্রতিবেদন
চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ সকল ক্রীড়ায় তাঁর অবদান অপরিসীম
ক্যাপশন :আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘আইসিসি ম্যানস্ টি-20 বিশ্বকাপ ২০২৪’-এর একটি ম্যাচের দর্শক গ্যালারিতে মোস্তফা হোসাইন মুকুল।

দেশের খ্যাতিমান ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোস্তফা হোসাইন মুকুল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীয় ক্রীড়া-নৈপুণ্য দিয়ে যিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে করেছেন সমৃদ্ধ, আর নিজ জেলা চাঁদপুরের নামটিকে করেছেন অনেক বেশি আলোচিত ও আলোকিত। ক্রীড়াঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের পাশাপাশি খুব কম লোকই শিক্ষাঙ্গনে কৃতিত্ব দেখাতে পারে। মোস্তফা হোসাইন মুকুল সেই কম লোকদেরই একজন। তিনি পুরাণবাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর দেশের সবচে’ খ্যাতিমান সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শুধু কি তা-ই? তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান BLUE প্রাপ্ত হন। তিনি জাতীয় যুব ও জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রভূত সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি এখন সুদূর আমেরিকা প্রবাসী। তিনি সেখানে থেকেও একজন ক্রীড়া সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজের সক্রিয় অবস্থানকে জানান দিয়ে চলছেন। তিনি সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আর দেশে থাকাকালীন ছিলেন চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, আর কিছু সময়ের জন্য ঢাকা ও চাঁদপুরের ফুটবল কোচিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। সাধারণ খেলোয়াড় থেকে একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে অনেকেরই অবদান থাকে। চাঁদপুরে তেমনই একজন খন্দকার মজিবুর রহমান, সম্প্রতি যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর প্রতি মোস্তফা হোসাইন মুকুলের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ এতোটাই প্রবল যে, তিনি মৃত্যু সংবাদ শোনার সাথে সাথেই চাঁদপুর কণ্ঠে তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন লক্ষণীয়ভাবে, যাতে ছিলো নিখাদ আন্তরিকতা। আজ চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ক্রীড়াকণ্ঠে করেছেন স্মৃতিচারণ। তিনি বলেছেন, “আমি দীর্ঘসময় প্রবাসে বসবাস করছি, সেই কারণে মজিব ভাইয়ের সাথে আমার কোনো ছবি নেই। তবে মজিব ভাই আমার মনের মধ্যে সব সময় আছেন এবং থাকবেন।” মজিব ভাইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপনসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

IMG 20260519 WA0008
ক্যাপশন : একটি অনুষ্ঠানে ব্যাজ পরিহিত অবস্থায় মোস্তফা হোসাইন মুকুল।

চাঁদপুরের প্রখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক খন্দকার মজিবুর রহমানকে নিয়ে জনাব মোস্তফা হোসাইন মুকুলের স্মৃতিচারণকে ক্রীড়াকণ্ঠের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামোতে সাজানো হয়েছে। এ স্মৃতিচারণ সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন মোস্তফা হোসাইন মুকুলের ছোটভাই, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ গোলাম মোস্তফা বাবু। স্মৃতিচারণটি নিচে তুলে ধরা হলো।

IMG 20260519 WA0007
ক্যাপশন : চাঁদপুরে রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ইন্ক নিউইয়র্ক-এর উদ্যোগে বৃত্তি বিতরণ ও গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সর্বডানে খন্দকার মজিবুর রহমান। তাঁর সাথে ছবিতে (ডান থেকে চতুর্থ) মোস্তফা হোসাইন মুকুল। ছবিতে আরো রয়েছেন বাম থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামরুজ্জামান চৌধুরী (বর্তমানে মরহুম), ঢাকা কনফেকশনারীর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী (বর্তমানে মরহুম), মতলবের মিজানুর রহমান খান, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম (বর্তমানে অসুস্থ), তারপর মোস্তফা হোসাইন মুকুল, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় ও সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের খ্যাতিমান ক্রীড়া সংগঠক খন্দকার মজিবুর রহমান অনেকটা আকস্মিকভাবে হারিয়ে গেলেন। আপনার শোকানুভূতি কেমন?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : মজিব ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সর্বশেষ কবে তাঁর সাথে সশরীরে আপনার সাক্ষাৎ হয়েছিলো কিংবা সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছিলেন? মোদ্দা কথা, শেষ সাক্ষাৎ বা তাঁর সাথে শেষ কথাটুকু কী ছিলো—সেটা কি মনে পড়ে?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : ২০২৩ সালে তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা, এরপরে কেবল ফোনে কথা হয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আমরা যদ্দুর জানি, খন্দকার মজিব ছিলেন আপনার ঘনিষ্ঠজন। এ ঘনিষ্ঠতা কি খেলার মাধ্যমে, না একসঙ্গে পড়ার কারণে? তাঁর সাথে একসাথে ফুটবল/ক্রিকেট না অন্য কিছু খেলেছেন?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : মজিব ভাই আমার সিনিয়র ভাই। তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো অনেক ভালো। তাঁর সাথে অনেক ক্রিকেট খেলেছি

ক্রীড়াকণ্ঠ : খন্দকার মজিব ভালো ক্রীড়াবিদের পাশাপাশি বলিষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠক হয়েছেন। আপনার দৃষ্টিতে এর পেছনে কারো প্রণোদনা, না ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও তাগিদ ছিলো?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : তিনি একজন ভালো ও দক্ষ অর্গানাইজার ছিলেন। চাঁদপুরের খেলাধুলার অগ্রগতিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জীবিত অবস্থায় তিনি প্রাপ্য সম্মান পাননি

ক্রীড়াকণ্ঠ : খন্দকার মজিবকে নিয়ে আপনার উল্লেখযোগ্য সুখস্মৃতিগুলো নিয়ে যদি একটু বলতেন।

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : মুজিব ভাইয়ের অধিনায়কত্বে আমি চাঁদপুর জেলা দলের হয়ে জাতীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলাম। সব থেকে বড় সুখস্মৃতি এটি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে খন্দকার মজিবের কোন অবদানকে আপনি সবচে’ বেশি মূল্যবান বলে ভাবেন?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট বলেন আর ফুটবল বলেন, সেই সাথে অন্যান্য খেলাধুলায় তাঁর অবদান অপরিসীম ও অসাধারণ

ক্রীড়াকণ্ঠ : খন্দকার মজিবকে নিয়ে তাঁর নিজ হাতে গড়া সংগঠন স্মরণসভা কিংবা আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। এটা দুঃখজনক। আপনি কী বলেন? এভাবে ভুলে যাওয়াটা কি ঠিক?

মোস্তফা হোসাইন মুকুল : ওনার প্রিয় সংগঠনে ওনার অবদান অপরিসীম। জীবনের মূল্যবান সময়গুলো এই সংগঠনের পেছনে ওনি ব্যয় করেছেন। এটা যেমন বাস্তব সত্য, ঠিক তেমনি ওনার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনো শোকসভা এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়নি—এটা খুবই দুঃখজনক। দেখেন, আমি দীর্ঘসময় প্রবাস জীবনযাপন করছি, বর্তমানে আমার নিজ শহর চাঁদপুরের কী পরিস্থিতি ও পরিবেশ তা আমার জানা নেই। বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন, এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি জানি ও এতোটুকু বলতে পারি, চাঁদপুরের সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড়দের একটি সংগঠন আছে এবং ক্রিকেট আম্পায়ার সমিতিও আছে। তারা অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু একটা আয়োজন করবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এক্ষেত্রে আমার যতোরকম সহযোগিতা করার, আমি অবশ্যই তা করবো।

সবশেষে মুজিব ভাইয়ের শোকাহত পরিবারের প্রতি রইলো আমার গভীর সমবেদনা। আল্লাহ রাব্বুল আলআমিনের কাছে প্রার্থনা করি, তারা যেন এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন।

মোস্তফা হোসাইন মুকুল তাঁর স্মৃতিচারণের শেষ ভাগে বলেন, খেলাধুলার বাইরেও খন্দকার মজিবুর রহমান একজন ভালো মানুষ ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি আমাদের রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্কের বৃত্তি কমিটির পরিচালক ছিলেন। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ

ডিসিকে / এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়