শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৫২

নদীতে এমন দখলদারিত্ব উদ্বেগজনক

অনলাইন ডেস্ক
নদীতে এমন দখলদারিত্ব উদ্বেগজনক

নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে নদীর অস্তিত্ব। প্রভাবশালীদের দখল, ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে নদীগুলো হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ। চঁাদপুর শহরের ইচলী গুদারা ঘাটে ডাকাতিয়া নদীর বিশাল অংশ দখল করে ভরাটের প্রস্তুতির অভিযোগ এমনই এক উদ্বেগজনক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ইচলী গুদারা ঘাটের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ডাকাতিয়া নদীর একটি বিস্তীর্ণ অংশে জিও ব্যাগ ফেলে বঁাধ নির্মাণের মাধ্যমে ভরাটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় দখল করে ব্যবসা পরিচালনার পর এবার নদীর ভেতরের অংশও দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, জায়গাটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। ফলে প্রকৃত মালিকানা ও জমির সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

এ ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশকে আমরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতিবাচক মনে করি। তবে শুধু কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। নদীর ভেতরে ফেলে রাখা জিও ব্যাগ অপসারণ, জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি নদীভূমি দখলের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দখলদার যে-ই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বৈধ মালিকানার দাবি থাকলে সেটিও যথাযথ নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে চঁাদপুরের মতো নদীবেষ্টিত একটি শহরের জন্য ডাকাতিয়া নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ নদীকে সংকুচিত করার অর্থ শুধু একটি জলপথের ক্ষতি নয়, বরং শহরের পরিবেশ ও জনস্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।

অতীতে নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়নি। দখল উচ্ছেদের পর আবার দখল, নির্দেশনার পরও নতুন করে ভরাটের উদ্যোগÑএ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে হলে প্রশাসনিক নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, ইচলী গুদারা ঘাটে ডাকাতিয়া নদীর কথিত দখলের বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই। বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কোনো প্রভাব, পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন নদীর অধিকার হরণের ঢাল হতে না পারে। নদী বঁাচলে পরিবেশ বঁাচবে, বঁাচবে জনজীবন। তাই ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়