প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭
শাহরাস্তিতে ফুটপাতের দখলদারিত্ব ও যানজট দূর হোক

শাহরাস্তি পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী মেহের কালীবাড়ি ও ঠাকুর বাজার উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে বাজার দুটি। কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ নানা প্রয়োজনে এসব এলাকায় মানুষের সমাগম ঘটে। অথচ অপরিকল্পিত যান চলাচল, ফুটপাত দখল এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই জনসমাগম এখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে শাহরাস্তির গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদ।
ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। কিন্তু সেই ফুটপাতই যদি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়, তাহলে পথচারীরা চলবেন কোথায়? বাধ্য হয়ে যখন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। কোনো অভিভাবককে যদি সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয়, তবে তা একটি সভ্য ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, সড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা, ব্যস্ত সময়ে মালামাল ওঠানামা এবং নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার অভাব যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অথচ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন খুব বেশি কিছু নয়; প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। শুধু সভা-সেমিনার কিংবা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এ ক্ষেত্রে শাহরাস্তি পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জরুরি সভা আহ্বান ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে সেই সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। মেহের কালীবাড়ি ও ঠাকুর বাজারের সব অবৈধ ফুটপাত দখল উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহন পার্কিং, যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ এবং পণ্য ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি চালু করা প্রয়োজন। বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
এখানে ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, ক্রেতা ও সাধারণ নাগরিক—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জনসাধারণের চলাচলের অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিস্বার্থে জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমরা মনে করি, শাহরাস্তিকে যানজটমুক্ত ও পথচারীবান্ধব করতে পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেহের কালীবাড়ি ও ঠাকুর বাজারের ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব রক্ষার স্বার্থেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
শাহরাস্তিবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেবল আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ফুটপাত থাকবে পথচারীদের জন্য, সড়ক থাকবে নির্বিঘ্ন যান চলাচলের জন্য। দখলদারিত্ব ও অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটিয়ে মেহের কালীবাড়ি ও ঠাকুর বাজার ফিরে পাক স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য। শাহরাস্তিতে ফুটপাতের দখলদারিত্ব ও যানজট দূর হোক—এটাই এখন সময়ের জোরালো দাবি।





