রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলেরই ভাবা উচিত

অনলাইন ডেস্ক

চঁাদপুরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাবুরহাট। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে চঁাদপুর শহরে প্রবেশ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক, দর্শনার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে এই পথই হয়ে ওঠে চঁাদপুরের প্রথম পরিচয়। অথচ শহরে প্রবেশের সেই গুরুত্বপূর্ণ পথের পাশে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ, তীব্র দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ যেন চঁাদপুরের সৌন্দর্য ও সুনামকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিষয়টি শুধু দুঃখজনক নয়, একই সঙ্গে উদ্বেগজনকও।

একটি শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য তার নাগরিক সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। অথচ বাবুরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে শত শত টন বজর্য জমে থাকা প্রমাণ করে, বজর্য ব্যবস্থাপনায় কোথাও না কোথাও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এর ফলে আশপাশের পরিবেশ ও সংলগ্ন খালও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো, চঁাদপুরে প্রবেশের মুখেই এমন দৃশ্য দেখে বাইরের মানুষের মনে পুরো জেলা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। যে চঁাদপুর ইলিশের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত, যে শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্ব করি, সেই শহরের প্রবেশপথে এমন অপরিচ্ছন্নতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শহরের প্রবেশদ্বার থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই। পৌরসভাকে বজর্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যেখানে-সেখানে বজর্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ করে নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে বজর্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে পরিবেশ দূষণরোধে প্রয়োজনীয় তদারকি ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নিজস্ব জায়গার সুরক্ষা এবং স্থানটির সৌন্দর্যবর্ধনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে শুধু সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সম্মিলিত নাগরিক দায়িত্বও।

চঁাদপুর পৌরসভার প্রশাসক বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়েছেন এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগের কথা বলেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সড়ক ও জনপথ বিভাগও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন প্রয়োজন এসব আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন। চঁাদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

আমরা চাই, বাবুরহাটের ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণ করা হোক, সংলগ্ন খালটি দূষণমুক্ত করে তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক এবং পুরো এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক প্রবেশপথ হিসেবে গড়ে তোলা হোক। সেখানে সবুজায়ন, ফুলের বাগান ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে তা চঁাদপুরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পেঁৗছে দেবে।

মনে রাখতে হবে, একটি শহরের পরিচয় শুধু তার ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা পর্যটন আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; পরিচ্ছন্ন পরিবেশও সেই পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বাবুরহাটের এই দুরবস্থা নিরসনে আর কালক্ষেপণ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষÑসবার সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠুক পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব চঁাদপুর। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলেরই ভাবা উচিত।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়