রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৭

নিজের বাড়িতেই পরবাসী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়িকে মারধর ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ফরিদগঞ্জে ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়িকে মারধর ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ
ক্যাপশন: ছবি - ১: অভিযুক্ত গৃহবধূ রুমা। ছবি - ২ : শাশুড়িকে ঘরে অবরুদ্ধ করার পর ঘরের দরজার সামনে অবস্থান করছেন গৃহবধূ রুমা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূর দাম্পত্য কলহের জেরে বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধর ও নিজ বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিজের বাড়িতেই যেন পরবাসী হয়ে পড়েছেন রোকেয়া বেগম নামের ওই বৃদ্ধা। এ ঘটনায় পুত্রবধূ রুমা আক্তারসহ দুজনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তবে শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুত্রবধূ। তিনিও স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য বিরোধের বিষয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের মালের ভাংতি গ্রামের মজিদ খান বাড়িতে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোকেয়া বেগমের প্রবাসী ছেলে এমরানের স্ত্রী রুমা আক্তার শাশুড়িকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অন্যদিকে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে রুমা আক্তারও থানায় পৃথক অভিযোগ করেন। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশি বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওইদিন রুমা আক্তার ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রুমা আক্তার, তার মা ও ভাই ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে আছেন। নিজের বাড়িতে থেকেও এমন হেনস্তার শিকার হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি।

রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, "এর আগেও ছেলের বউ রুমা আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে। আজও লোকজন নিয়ে এসে নিজের বসতঘরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সে ঘটনায় আমাকে কেন এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

প্রবাসে থাকা ছেলে এমরানও মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "স্ত্রীর সঙ্গে আমার দাম্পত্য কলহ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধের কারণে আমার মাকে কেন মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হবে? আমরা কেউ বাড়িতে থাকি না, মা একা থাকেন। অথচ তারা এসে মাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে।"

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রুমা আক্তার জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে তাদের বিয়ে হয় এবং এক মাস পর তার স্বামী প্রবাসে চলে যান। এর দু-তিন মাস পর থেকে স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং তিনি থানায় অভিযোগ করেন। ৩০ অক্টোবর উভয় পক্ষের আলোচনায় বসার কথা থাকলেও অপরপক্ষ উপস্থিত না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে মা, খালা ও ভাইকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন। তবে শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয় এবং বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দ্রুত উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ছেলের সংসারে অশান্তি এবং তার জেরে বৃদ্ধা মায়ের এমন ভোগান্তি এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগমের এখন একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তিনি যেন নিজের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়