প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮
মা ইলিশ রক্ষার অভিযান হোক আরো নিবিড়

জাতীয় অর্থনীতি এবং চাহিদার দিক থেকে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ নিধনের প্রবণতা কোনোভাবেই থামছে না। শনিবার চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হাইমচর থেকে শুরু করে চাঁদপুর সদর ও মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদী এবং শরীয়তপুর সীমান্তবর্তী নৌ-সীমানায় দিন-রাত সমানতালে চলছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার। প্রজনন সুরক্ষার এই সংবেদনশীল সময়ে অসাধু জেলেদের এমন বেপরোয়া আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্বস্তি ও আশার বিষয় হলো, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং নৌ পুলিশ নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। গত ক’দিনের অভিযানে বহু অসাধু জেলেকে হাতেনাতে আটক, বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নৌবাহিনী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানগুলো প্রশাসনের তৎপরতার জোরালো প্রমাণ। তবে এতো কিছুর পরও অসাধু চক্রটিকে পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল দল সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলেরা পুনরায় নদীতে নেমে পড়ছে, যা মা ইলিশের অভয়াশ্রম সুরক্ষাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এই সংকটে কেবল অভিযান পরিচালনা করলেই চলবে না, বরং অভিযানের পরিধি ও কৌশল আরও বাড়াতে হবে। দুর্গম চর ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল ব্যবস্থার ফাঁকফোকর দূর করে সার্বক্ষণিক বা স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে, যেসব অসাধু চক্র ও মহাজন এই অবৈধ কার্যক্রমে মদদ জোগায়, তাদের শিকড় চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে যে, মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই দৃঢ় অবস্থানকে মাঠপর্যায়ে আরও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বেগবান করা প্রয়োজন। জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এবং দেশের চাহিদা টিকিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানকে আরও নিবিড়, বহুমুখী ও কঠোর করা সময়ের দাবি।






