বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬

বিষারা সেতুর কাজ দ্রুত সমাপ্তির উদ্যোগ নেয়া হোক

অনলাইন ডেস্ক
বিষারা সেতুর কাজ দ্রুত সমাপ্তির উদ্যোগ নেয়া হোক

উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা। কিন্তু কোনো প্রকল্প যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, ব্যয় বাড়তে থাকে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বাড়ে, তাহলে সেই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন বিষারা-নবাবপুর সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক তেমনই একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ৮১ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি চালু হওয়ার অপেক্ষায়। মূল সেতুর কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হলেও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্মিত সেতুটি জনগণের প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই মূল সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যেও প্রতীয়মান হয়েছে যে, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেই অ্যাপ্রোচ সড়কের দরপত্র আহ্বান করা উচিত ছিল। একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন মৌলিক প্রস্তুতির ঘাটতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমির মালিকানা, অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ—সবকিছু যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রশাসনিক দায়িত্বেরই অংশ।

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের দাবিকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। দুই শতক জমির ওপর ঘর তুলে কোনো পরিবার বসবাস করলে সেই জমি তার কাছে নিছক একটি সম্পত্তি নয়; সেটিই তার আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের অবলম্বন। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সেই জমি ছেড়ে দিতে বলা হলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। উন্নয়নের নামে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, স্থানীয় বিরোধের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রকল্প অনির্দিষ্টকাল আটকে থাকতে পারে না। বিষারা-নবাবপুর সেতু চালু হলে ওই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণে মানুষের দুর্ভোগ কমবে। তাই সমস্যার দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, এলজিইডি এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমেই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সঠিক পরিমাণ ও মালিকানা নির্ধারণ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে বিশেষ প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কোনো পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এত দীর্ঘসূত্রতার কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে ধীরগতি, পরিকল্পনার ত্রুটি কিংবা প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি—যে কারণেই বিলম্ব হয়ে থাকুক, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি প্রকল্প বছরের পর বছর পড়ে থাকবে, অথচ জনগণ তার সুফল পাবে না—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভূমি জটিলতা আগে থেকেই নিষ্পত্তি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে।

আমরা মনে করি, বিষারা সেতুর বিষয়টি আর আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। জমির মালিকদের ন্যায্য অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের অধিকার রক্ষা করে মানুষের জীবনকে সহজ করে। বিষারা সেতুর ক্ষেত্রেও সেই নীতিরই প্রতিফলন দেখতে চায় এলাকাবাসী।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়