প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩৫
অভাব ও অবহেলায় কাটছে শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহার জীবন

ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছে চরম অবহেলা, অভাব-অনটন আর নিঃসঙ্গতায়। বার্ধক্যের ভারে ন্যূব্জ স্বামীহারা এই নারীর ভাগ্যে জোটে না নিয়মিত খাবার; নেই নিরাপদ এক টুকরো আশ্রয়ও। আপনজন থেকেও যেন কেউ নেই। ফলে প্রতিবেশীদের দয়া-দাক্ষিণ্যেই কোনোমতে খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছেন তিনি।
|আরো খবর
ছালেহা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “ত্রিশ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই। দু ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেয় না। এখন আর শরীর চলে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়েই কাটাতে হয়।”
সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পেতেন। কিন্তু ভাতার বইটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে সরকারি সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে একটি জীর্ণশীর্ণ খুপরি ঘরে। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে ঘরে পানি পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, আগে ছালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে চেয়ে-চিন্তে খেতেন। বয়সের ভারে এখন আর হাঁটাচলা করতে পারেন না। অর্থের অভাবে চিকিৎসার ওষুধ কেনাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি আছেন। তারা ইচ্ছা করলেই এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেউ কখনো এগিয়ে আসেনি। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি দেখাশোনা করি।” তিনি ছালেহা বেগমের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার টেকসই ব্যবস্থাগ্রহণে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানান।








