মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬

ক্ষমা চেয়েই কি পার পেতে পারে শোরুমটি উদ্বোধনের আয়োজকরা?

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষমা চেয়েই কি পার পেতে পারে শোরুমটি উদ্বোধনের আয়োজকরা?

অনুমতি বা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া তারকাদের এনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন, হাজার হাজার মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত জনস্রোত, তীব্র যানজট এবং সাধারণ মানুষের মোবাইল চুরি—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস মোড়ের ‘আমার বাইক’ শোরুমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কেবল একটি ‘আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ’ বা ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্য এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই ধরনের বেপরোয়া ও অদূরদর্শী আয়োজনের দায় কি শুধু এক ফোঁটা ক্ষমা প্রার্থনায় মুছে যায়?

কোনো একটি শহরের ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বৃহৎ জনসমাগম ঘটানোর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া যে কোনো দায়িত্বশীল আয়োজনের প্রাথমিক শর্ত। আয়োজকরা সেই ন্যূনতম আইনি ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন বোধ করেননি। ফলে যা হওয়ার তা-ই ঘটেছে—চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে, আর তা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে বাধ্য হয়েছে পুলিশের চারটি টিম। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময় ও শ্রম এভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি শোরুমের বিশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যয় হওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই ভিড়ের সুযোগে সংঘটিত অপরাধ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল ফোন চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে এবং এ পর্যন্ত নয়টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জননিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে এবং মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা স্পষ্টতই এক ধরনের চরম অবহেলা। আয়োজক প্রতিনিধি কাওছার আলমের ‘কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াত না দেওয়া’ বা ‘মানুষ এসে পড়ার’ যুক্তি একেবারেই পার পাওয়ার মতো অজুহাত হতে পারে না। ইনফ্লুয়েন্সার বা সেলিব্রিটিদের উপস্থিতির কথা প্রচার করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার পর, তৈরি হওয়া পরিস্থিতির দায় এড়ানো শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং হীন মানসিকতার পরিচয় দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাকে পুঁজি করে ব্যবসা চাঙ্গা করার প্রবণতা ইদানীং বেড়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে যদি সামাজিক ও আইনি দায়বদ্ধতার সংমিশ্রণ না ঘটে, তবে তা নাগরিক জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে এমন অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম ঘটিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি ও অপরাধের পথ সুগম করার জন্য শোরুম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কেবল মৌখিক ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়।

জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনিকভাবে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কেবল প্রচারণার লোভে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও স্বাভাবিক চলাচলাকে তোয়াক্কা না করার সাহস না পায়, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়