প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৬
ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে পাসপোর্ট সেবা না দেওয়ার দাবিতে রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট সেবা ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে না দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রিয়াদ প্রবাসী সচেতন নাগরিক সমাজ। ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার ২০২৬) রাতে রিয়াদের হোটেল রামাদায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম একটি ভিনদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য ও জাতীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো, সালেহ আহমেদ ভূঁইয়াসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আয়োজকরা জানান, পাসপোর্ট সেবা কোনো ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর না করার দাবিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীদের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক সুবিধাসহ ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু এই কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হলে প্রবাসীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমান যুগে যুদ্ধ শুধু অস্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়, তথ্যের মাধ্যমেই প্রযুক্তিগত প্রাধান্য বিস্তার করা হয়। একটি দেশের নাগরিকদের ডেটাবেজ মানে সেই দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব। এই তথ্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া ডিজিটাল উপনিবেশ তৈরির শামিল।
বর্তমানে একটি বিদেশি সংস্থাকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের ঝুঁকি বাড়বে। এতে প্রবাসীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। প্রবাসীদের স্বার্থে এই ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাসপোর্টের কাজ ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের বদলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়। এতে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।







