প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৫
আশাজাগানিয়া পরিকল্পনাটি দ্রুত দৃশ্যমান হোক

চাঁদপুরের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন যে পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে আশাজাগানিয়া। প্রায় ৮ হাজার একর জমিতে এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং কোনো ধরনের ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই খাস জমিতে আধুনিক রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয় এবং শিল্পায়নের সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা সময়োপযোগী ও দূরদর্শী।
এগ্রোভোল্টাইক ব্যবস্থা একই জমিতে কৃষি উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করে। খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চাহিদাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কারণে এ উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অন্যদিকে খাস জমিতে ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ভূমি অধিগ্রহণজনিত জটিলতা ও জনদুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলতে পারে। তবে বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করাই শেষ কথা নয়; বরং ঘোষণাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্পের ঘোষণা আশার সঞ্চার করলেও দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সমন্বয়ের অভাব কিংবা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ঘাটতিতে সেগুলোর অনেকই প্রত্যাশিত গতি পায়নি। চাঁদপুরের ক্ষেত্রেও যেন এমন পরিণতি না হয়, সেদিকে শুরু থেকেই সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
বিশেষ করে ৮হাজার একর জমির এগ্রোভোল্টাইক প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, কৃষিজমির সুরক্ষা, স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একইভাবে ইপিজেডের জন্য খাস জমি নির্বাচন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে।
চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিডা, জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠলে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হবে।
আমরা মনে করি, চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগকে আর কেবল বৈঠক ও ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়ন, সময়সীমা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দ্রুত প্রকাশ করা দরকার। প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরলে মানুষের আস্থাও বাড়বে। চাঁদপুরকে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি নিঃসন্দেহে সাহসী ও আশাব্যঞ্জক। এখন প্রয়োজন সেই আশাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড় করানো। পরিকল্পনাটি যেন ফাইলবন্দি না থাকে—দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই চাঁদপুরের মানুষ এর সুফল দেখতে চায়।







