মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

হুজুরের দেহতত্ত্ব

প্রসঙ্গ : নবী করিম (দ.)-এর দেহ মোবারক নূর-নাকি মাটি?

অনলাইন ডেস্ক
হুজুরের দেহতত্ত্ব

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

হাদীসখানার পর্যালোচনা : উপরোক্ত কা’ব আহবার (র.)-এর রেওয়ায়েতখানার বিচার বিশ্লেষণ করলে নিচের জ্ঞাতব্য বিষয়গুলো বের হয়ে আসে। যথা : (১) কা’ব আহবার (র.) পূর্বে একজন বড় ইহুদী পণ্ডিত ছিলেন। রাসূল [দ.]-এঁর যুগে তিনি মুসলমান হননি। সুতরাং সাহাবী নন। তিনি হযরত ওমর (রা.)-এঁর খেলাফতকালে মুসলমান হয়ে তাবেয়ীনদের মধ্যে গণ্য হন। সাহাবী’র বর্ণিত হাদীস রাসূলের জবান থেকে শ্রুত হলে তাকে মারফু মুত্তাসিল বলা হয়। আর রাসূলের সূত্র উল্লেখ না থাকলে সাহাবী’র বর্ণিত হাদিসকে মাওকুফ বলা হয়। তাবেয়ী’র বর্ণিত হাদীস, যার মধ্যে সাহাবী ও রাসূলের সূত্র উল্লেখ নেই, তাকে বলা হয় মাকতু। উক্ত হাদীসখানা তাঁর নিজস্ব ভাষ্য। সাহাবী বা রাসূল বর্ণিত হাদীস নয়।

হাদীসের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই এই সূত্র ভালোভাবে জানেন যে, তাবেয়ী’র মাকতু হাদীস যদি রাসূলের বর্ণিত মারফু হাদীসের সাথে গরমিল বা বিপরীত হয়, তাহলে রাসূলের বর্ণিত মারফু হাদীসই গ্রহণযোগ্য হবে। কা’ব আহবারের খামিরার হাদীসখানা তাঁর নিজস্ব ভাষ্য এবং তৃতীয় পর্যায়ের। পূর্বে হযরত জাবের বর্ণিত নূরের হাদীসখানা ১ম পর্যায়ের। গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ১ম পর্যায়ের হাদীসই অগ্রগণ্য। সুতরাং উসূলের বিচারে কা’ব আহবারের হাদীসখানা দুর্বল ও মুরসাল এবং সহীহ সনদেরও খেলাফ। সোজা কথায় তাবেয়ী’র বর্ণিত ‘মাকতু হাদীস’ রাসূলের বর্ণিত ‘মারফু হাদীস’-এর সমকক্ষ হতে পারে না।

(২) আল্লামা যারকানী বলেন, কা’ব আহবার পূর্বে ইহুদী পণ্ডিত ছিলেন। সম্ভবত তিনি পূর্ববর্তী কোন গ্রন্থে ইসরাইলী বা ইহুদী বর্ণনার মাধ্যমে এই তথ্য পেয়ে থাকবেন। এই সম্ভাবনার কারণে ইসরাইলী বা ইহুদী বর্ণনা আমাদের শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে নাÑযদি তা অন্য হাদীসের বিপরীত হয়। কা’ব আহবারের বর্ণিত হাদীসটি হযরত জাবেরের হাদীসের পরিপন্থী। তাই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

(৩) তদুপরি ‘ত্বিনাত’ শব্দটির অর্থ মাটি নয়Ñবরং খামিরা। এই খামিরার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত খামিরা ছিল পৃথিবীর ক্বলব, আলো ও নূর তথা নূরে মুহাম্মদী [দ.] (যারকানী)। সুতরাং জিব্রাইলের সংগৃহীত খামিরাটি মাটি ছিল না, বরং রওজা’র মাটিতে রক্ষিত নূরে মুহাম্মদীর খামিরা (যারকানী)। খামিরা সূরতের এই নূরে মুহাম্মদীকেই পরে বেহেশতেরর ‘তাছনীম’ ঝরনার পানি দিয়ে গুলিয়ে এটাকে আরো অণু-পরমাণুতে পরিণত করা হয়েছিল। যেমন পানি হতে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়, তাই বলে বিদ্যুৎকে পানি বলা যাবে না। নবী করিম [দ.]-এঁর দেহ মোবারক ছিল সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্মতম। এ মর্মে একখানা হাদীস ‘মিলাদে মুহাম্মদী’ ও হাক্বীকতে আহমদী’ নামক বাংলা গ্রন্থে উল্লেখ আছে। বইখানার লেখক ফুরফুরার খলিফা মেদিনীপুরের মরহুম মাওলানা বাশারাত আলী সাহেব।

হাদীসখানা হচ্ছে : ‘নবীগণের শরীর হলো ফিরিশতাদের শরীরের মত নূরানী ও অতিসূক্ষ্ম।’

তাইতো নবী করিম [দ.] সূক্ষ্মতম শরীর ধারণপূর্বক আকাশ ও ফেরেশতা জগত এমনকি আলমে আমর তথা আরশ-কুরছি ভেদ করে নিরাকারের দরবারে কাবা কাওছাইনে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। মাটির দেহ ভারী এবং তা লক্ষ্যভেদী নয়। মাটির শরীর হলে ভস্ম হয়ে যেত।

মোদ্দাকথা উপরের দু’খানা হাদীস পর্যালোচনা করলে ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত প্রথম হাদীসখানা জাল এবং কা’ব আহবারের ভাষ্যটি ইসরাইলী ও ইহুদী সূত্রে প্রাপ্ত যা সরাসরি হাদিসে মারফু’র খেলাফ। তদুপরিÑকা’ব আহবারের হাদীসখানায় বিভিন্ন তাবিল বা ব্যাখ্যা করার অবকাশ রয়েছে। এটা মোহ্কাম বা সংবিধিববদ্ধ নয়। সুতরাং হযরত জাবের (রা.)-এর মারফু হাদীস ত্যাগ করে কাবে আহবারের বর্ণিত মাকতু রেওয়াত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবার নূর ও মাটির সমন্বিত রূপও বলা যাবে না। যেমন বলেছেন অনেক জ্ঞানপাপী মুফতী। হাদীসের বিশ্লেষণ না জানার কারণেই তারা এরূপ ফতোয়া দিয়েছেন। কা’ব আহবার বর্ণিত খামিরাটি ছিল নূরে মুহাম্মদীর ঐ অংশÑযা দ্বারা দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঐ অংশই রওজা মোবারকের স্থানে রক্ষিত ছিল। (যারকানী দেখুন)। (চলবে)।

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়