প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫
সরকারি বৃত্তিতে যখন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শতভাগ সাফল্য!

হাজীগঞ্জের প্রসিদ্ধ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মৈত্রী শিশু উদ্যান’ শতভাগ সরকারি বৃত্তি প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ১৫ জন অংশগ্রহণ করে সবাই বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৯জন ট্যালেন্টপুল ও ৬ জন সারাধণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। অপরদিকে একই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষায় ১২৮জন অংশগ্রহণ করে ৯৬ জন বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে সারাদেশে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে ৫জন। হাজীগঞ্জ মৈত্রী শিশু উদ্যানের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১৫জন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৫জনই বৃত্তি পেয়েছে। যেটি শতভাগ সাফল্য। এ সাফল্যের পেছনে বিদ্যায়ের অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। আমি সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তীতে গঠিত অন্তবর্তী সরকার কোনো অবস্থাতেই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে অনড় ছিলো। এজন্যে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন আন্দোলন চালালেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনড় অবস্থানেই ছিলো। বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সকল কিন্ডারগার্টেন সহ সকল পর্যায়ের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অবারিত সুযোগ করে দেয়। সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে হাজীগঞ্জের মৈত্রী শিশু উদ্যান নামের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দেশের এমন সকল বিদ্যালয়। এর মধ্যে মৈত্রী উদ্যানের শতভাগ সাফল্য অবশ্যই উল্লেখ করার মতো বিষয়। এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান কোন্ পর্যায়ে রয়েছে সেটি কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তির মধ্য দিয়েও প্রমাণিত হয়। আমরা এ বিদ্যালয়টি পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে হার্দিক অভিনন্দন জানাই।
প্রসঙ্গক্রমে লিখতেই হয়, সারাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি, যেখানে ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী ও প্রায় ৩লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক রয়েছে। অপরদিকে সারাদেশে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের মোট সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৮টি, যেখানে ৯৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সংখ্যায় সাড়ে ১২ হাজার ব্যবধান হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে মাত্র সাড়ে চার লাখ কম শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়ছে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোর এতো বিশাল অবদান প্রফেসর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার না বুঝলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বুঝতে পেরেছে, সেটাতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার ফুরসত আছে। এ তৃপ্তিতে হাজীগঞ্জের মৈত্রী শিশু উদ্যানসহ যে সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি প্রাথমিক বৃত্তিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যে দীপ্তি ছড়িয়েছে, তাদের জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনামূলক কিছু করা যায় কিনা সেটা নিয়ে ভাববার অবকাশ তৈরি হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সদাশয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিক সুদৃষ্টি কামনা করছি।






