বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮

সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞায় সাধুবাদ

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞায় সাধুবাদ

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে ছবি বা ছবিভিত্তিক প্রচারণার চেয়ে অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। রোববার (৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারিকৃত এক জরুরি পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপ-সচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে এটি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রীডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো। একই সাথে নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনা জারির পর সচেতন মহলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর নেতা, পাতি নেতা এবং উপনেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা ও প্রচারণার উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে আসছিলেন। বিশাল আকৃতির ব্যানার বা বিলবোর্ডে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়ের চেয়ে নেতাদের ছবি ও বন্দনাই বেশি স্থান পেতো। অনেকে আবার প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে এক ধরনের ‘রাজনৈতিক ঢাল’ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই সরকারি এই অনুষ্ঠানগুলোতে ছবির এমন অপব্যবহার ও বাহুল্যকে এক ধরনের বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখতেন। এর ফলে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ঢাকা পড়ে যেতো এবং জনগণের করের টাকায় আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হতো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছবির অপব্যবহার ও নেতাকেন্দ্রিক প্রচারণার সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানগুলো আরও বেশি জনমুখী, তথ্যবহুল ও আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকে মার্জিত রূপ পাবে। পরিপত্রটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সকল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে পাঠিয়ে তা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রটির জন্যে সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই। তোষামোদপ্রবণ কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো অনুষ্ঠানকে, বিশেষ করে সরকার প্রধানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন বাহুল্য কিছু করে আসছিলো বিগত সকল সরকারের আমলে, যাতে সাধারণ মানুষের বিরক্ত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। এমন পরিপত্রের আলোকে উল্লেখিত বিরক্তির হারটা অবশ্যই কমবে বলে আমরা মনে করি। পরিপত্রটি সরকারের মানসিকতার একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করছি। তবে বক্তৃতায় অতিশয়োক্তি বা বাগাড়ম্বর পরিহার করে মূল কাজ বা উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার বিষয়ে নীতিমালা সংক্রান্ত পরিপত্রও জারি করা দরকার। এতে অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক সময় বঁাচবে এবং অপেক্ষার যন্ত্রণা হ্রাস পাবে। আমাদেরকে অতীতের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া অপ্রয়োজনীয় গতানুগতিকতার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রচলিত সেকেলে সংস্কৃতির আবর্ত থেকে নিজেদের মুক্ত করার প্রয়াস চালাতে হবে।আমাদের ছোট-বড় প্রতিটি বিষয় যেনো সমকালের মানসম্পন্ন চর্চার সমান্তরালে হয়, এমন চর্চায় আমাদের সংস্কৃতিতে যেনো পরিবর্তন আসে-এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়