রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০

কাণ্ডজ্ঞানহীন আত্মঘাতী আচরণ!

অনলাইন ডেস্ক
কাণ্ডজ্ঞানহীন আত্মঘাতী আচরণ!

মতলব উত্তর উপজেলার এখলাসপুর লঞ্চঘাট এলাকার দক্ষিণ পাশে মেঘনা নদীর তীর রক্ষায় স্থাপিত জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বড়ো আকারের বস্তা) লুটের ঘটনায় পুরো প্রকল্পটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এসব জিও ব্যাগ কেটে ভেতরের বালু ফেলে দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয়রা নদীর তীরে ফেলা জিও ব্যাগ কেটে বালু বের করে খালি বস্তা সংগ্রহ করছে। এতে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় পানি জমে যায়। সেই পানি প্রতিরোধে ব্যবহার করার জন্যে তারা এসব বস্তা নিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জিও ব্যাগগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় তারা তা কাজে লাগাচ্ছে। তবে সচেতন মহল বলছে, এভাবে জিও ব্যাগ সরিয়ে নেয়া হলে নদীর তীর রক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙ্গনের ঝুঁকি বহু গুণে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পুরো এলাকার জন্যে বড়ো ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

সমাজে একটি কথার বহুল প্রচলন আছে, ‘পাগলেও নিজের ভালো/মন্দ বুঝে’ কিংবা ‘পাগলেও নিজের বুঝ ভালো বুঝে’। গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে শীর্ষ সংবাদ হিসেবে উপরের সংবাদটি পড়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মতলব উত্তরের একলাসপুর এলাকার সাধারণ মানুষ পাগলের চেয়েও খারাপ। নদীর ভাঙ্গন থেকে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে নদীতীরকে ভাঙ্গন ঠেকানোর মতো করতে জিও টেক্সটাইল ব্যাগে বালু ঢুকিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অনেকদিন ধরে ফেলে রেখেছিলেন। আর স্থানীয় সাধারণ জনগণ সে ব্যাগ কেটে বালু ফেলে লুট করে নিয়ে গেছে তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহারের জন্যে। কথা হলো, নদীতীর ভাঙ্গন প্রতিরোধী হলেই তো বেড়িবাঁধ রক্ষা হবে ও স্থানীয় জনগণের বাড়ি রক্ষা পাবে। অথচ সেই জনগণ জিও ব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে, যারা নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারার পরিণাম জেনেও না জানার ভান করছেন। এটা যে আত্মঘাতী সেটা কি তারা বোঝেন না? আমাদের মতে, এমন অপরিণামদর্শী জনগণের মধ্যে যারা জিও ব্যাগ প্রকাশ্যে চুরির মতো দুর্বৃত্তপনায় জড়িত, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শায়েস্তা করা দরকার। অন্যথায় জিও ব্যাগ লুটের বিষয়টি অন্যান্য স্থানেও সঞ্চারিত হবে, যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের বদৌলতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, যা আমাদের দেশপ্রেম/স্বীয় স্বার্থ উপলব্ধির ব্যর্থতাকে তুলে ধরবে এবং জাতির চরিত্রকে ম্লানিমাযুক্ত করবে। সেটা কি হওয়া ঠিক হবে? একলাসপুরের লোকজনের আত্মোপলব্ধি ও নিজেদের সংশোধন যদি না হয়, তাহলে তারা জিও ব্যাগ লুটের গ্লানি থেকে শাস্তির পরও মুক্তি পাবে না। কেননা আইন প্রয়োগে সব হয় না, বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগেই সেটা হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়