প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩২
শাহরাস্তি থানা পুলিশ ধর্ষক-পিতাকে ধরতে না পারলে প্রশ্নবিদ্ধই থাকতো

নিজ কন্যা সন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা জসিম উদ্দিনকে ঢাকা থেকে আটক করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকার রায়েরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নরপিশাচ জসিমকে আটক করে ঢাকা থেকে শাহরাস্তিতে নিয়ে আসা হয়েছে। গত ৬ মার্চ স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন মেয়েটির মা শিরিন আক্তার। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। কয়েকদিন পর শিরিন আক্তার পালিয়ে এসে তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সংবাদ পেয়ে জসিম উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের রেখে পালিয়ে যায়। শাহরাস্তি থানা পুলিশ জসিম উদ্দিনকে ধরতে বেশ ক’বার অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) উপপরিদর্শক মিঠুন দাসের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আমরা ধর্ষক-পিতা জসিম উদ্দিনকে আটক করার ক্ষেত্রে শাহরাস্তি থানা পুলিশের সাফল্যকে উল্লেখযোগ্য বিষয় বলে মনে করছি। কেননা চাঞ্চল্যকর ঘটনার মামলায় এমন একজন যৌনলিপ্সুকে ধরতে পারাটা খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলায়নপর আসামিকে ধরার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাকে ধরতে না পারলে শাহরাস্তি থানা পুলিশ প্রশ্নবিদ্ধই থাকতো। আমরা জসিম উদ্দিনের মতো চরম ঘৃণ্য পিতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
তিক্ত হলেও সত্য একটি কথা বলতেই হয়, জসিম উদ্দিনের কন্যা পিতা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হবার মতো পরিণতি বরণ করার পেছনে মায়ের উদাসীনতাই যে দায়ী, সেটা অকপটে বলা যায়। উপযুক্ত মেয়েকে বাবা/সহোদর বড়োভাইয়ের কাছে ঘরে একা রেখে যাওয়াটা কখনোই সঠিক নয়--এটা অনেক মা বুঝতে চান না। সে সকল মায়ের জন্যে শাহরাস্তির ঘটনাটি বাজে দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে। কেননা যৌন-উন্মাদনা অনেক পুরুষকেই অপরিণামদর্শী ও বিবেকহীন পশুর চেয়েও অধম করে দেয়। পিতা কর্তৃক কন্যা, ভাই কর্তৃক বোন, নানা/দাদা কর্তৃক নাতনি ধর্ষণের ঘটনা আমাদের সমাজকে কলুষিত করেই চলছে। এজন্যে উঠতি বয়সী মেয়েদের মা/বাবা কিংবা অন্য অভিভাবককে সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই।




