প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭
ঈদ আনন্দ হোক সার্বজনীন

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। এ ঈদ হচ্ছে ঈদুল ফিতর। যার সাথে সম্পর্ক রোজার। মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ দুটি ঈদের একটি হলো ঈদুল ফিতর। আজ ২৯ রমজান। হিজরি বা আরবি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়। খ্রিস্ট মাসের ন্যায় ২৮ বা ৩১ হয় না হিজরি মাস। কারণ হিজরি মাস গণনা হয় চাঁদ দিয়ে। ২৯টি রোজা দিয়েই যদি রমজান মাস শেষ হয়ে যায়, তাহলে আজ সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নবচন্দ্র উদিত হবে। তখন এই রাতটি হবে ঈদুল ফিতরের রাত, আর রাত পোহালেই হবে ঈদের দিন। আর যদি রোজা ৩০টি পূর্ণ হয় তাহলে আগামীকাল শুক্রবার রমজান মাস শেষ হয়ে শনিবার হবে ঈদুল ফিতর। এটা নিশ্চিত যে শুক্রবার অথবা শনিবার হবে ঈদের দিন। এটি শাওয়ালের চাঁদ ওঠার উপর নির্ভর করছে, আর এটি আজ সন্ধ্যায় নির্ধারণ হয়ে যাবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্যে তোহফা, হাদিয়া বা উপহার হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এর অর্থই হচ্ছে রোজা ভাঙ্গা অথবা শেষ করার ঈদ। এক মাসের সিয়াম সাধনায় বান্দা উত্তীর্ণ হয়ে পুত পবিত্র দেহ মন নিয়ে ঈদ উদযাপন করবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রোজাদার বান্দার জন্যে উপঢৌকন। তাই ঈদুল ফিতরের সাথে রমজানের সম্পর্ক আত্মিক, সুনিবিড়। তাই বেরোজাদারের ঈদ পালন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বহীন। রোজা না রেখে (শরয়ী কারণ ছাড়া) ঈদ করার মাঝে ধর্মীয় কোনো তাৎপর্য নেই, এই ঈদ ইবাদত হিসেবেও পরিগণিত হবে না।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঈদুল ফিতর নিয়ে সেই কালজয়ী গান “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”-এর প্রতিটি পঙক্তি, শব্দ বিশ্লেষণ করলে এই ঈদের মাঝে ধর্মীয় তাৎপর্যই ফুটে ওঠে। ঈদের রাতটিও ধর্মীয়ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাত। বছর ঘুরে আবার আসবে রমজান এবং ঈদুল ফিতর। তাই আমরা যেনো ঈদের আনন্দ উদযাপনের আগে রমজানের রোজা পালন তথা সিয়াম সাধনার দিকে যত্নবান হই, মনোনিবেশ করি।
সিয়াম সাধনার দাবি, ঈদুল ফিতরের দাবি হচ্ছে-ঈদ আনন্দ সার্বজনীন হোক। ঈদ আনন্দটা সকলের জন্যে হোক। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি, ধনী-গরিব, ছোট-বড়ো, আশরাফ-আতরাফ এসব সামাজিক বৈষম্য দূরীভূত হয়ে সবাই নির্মল ঈদ আনন্দ উপভোগ করুক-এটাই সিয়াম সাধনা এবং ঈদুল ফিতরের দাবি। দূর হয়ে যাক প্রতিহিংসা, জিঘাংসা। শান্তির নির্মল বাতাস বয়ে যাক সমাজে।







