মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৬

বিরলদৃষ্ট ভয়ঙ্কর নারী প্রতারক!

অনলাইন ডেস্ক
বিরলদৃষ্ট ভয়ঙ্কর নারী প্রতারক!

চলন বলনে জমিদারি ভাব, কথাবার্তা ও আচার- আচরণেও ফুটে উঠে আভিজাত্যের পরিচয়, কিন্তু বাস্তবে সে প্রতারক। এনজিও, প্রাইভেট বিভিন্ন সংস্থা যেখান থেকেই পেরেছেন সুযোগ বুঝে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যুবকদের প্রবাসে পাঠানোর কথা বলে হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিবেশী, স্বজন যার সাথেই সুসম্পর্ক ছিলো, তাদের সাথেই প্রতারণা করে প্রায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে এই প্রতারক মমতাজ বেগম পারুল (৪০)-এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ৮২ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মমতাজ বেগম পারুলকে গ্রেপ্তার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মুন্সি বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। পরে তাকে রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

ভুক্তভোগী এক স্কুল শিক্ষিকা শাহানাজ বেগম পিনু আক্তার জানান, গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় জমি কিনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৮২ লাখ টাকা নেন মমতাজ বেগম পারুল। এক পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হলে বিগত ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘদিন শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালে আদালত তাকে টাকা পরিশোধ করার রায় দেয়। আদালত থেকে দু মাসের সময় নিয়ে মমতাজ টালবাহানা করতে থাকেন। অবশেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রতারণার শিকার তাছলিমা বেগম নামে এক নারী জানান, তাকে গাব্দেরগাঁও এলাকায় ১৭ শতক জমি কিনে দেবে বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৩০হাজার টাকা নিয়েছে মমতাজ বেগম পারুল। শুধু তাই নয়, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তার ব্যবহৃত প্রায় ১৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ফাতেমা বেগম জানান, আমিও পারুল কর্তৃক প্রতারণার শিকার। আমাকে জমি কিনে দেবে বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আমার ব্যবহৃত প্রায় ৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল। কড়ৈতলী এলাকার ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ২০১২ সালে আমার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। সেই টাকা আজ-কাল ফেরত দেই-দিচ্ছি বলে আমাকে হয়রানি করছে। পূর্ব বড়ালি এলাকার হাজেরা বেগম জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না মমতাজ। এ ব্যাপারে তিনিও মামলা দায়ের করেছেন। কালির বাজার এলাকার জেসমিন বেগম জানান, আমার সাথে সখ্যতা গড়ে ২০২৩ সালে ৮২ হাজার টাকা ধার নিয়ে দেই দিচ্ছি করে অদ্যাবধি দিচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখস্থ ফার্মেসির মালিক কিরণ জানান, পরিচয়ের সূত্র ধরে আমার নামে একটি এনজিও থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ঐ টাকা আজও পরিশোধ করছে না। এছাড়া আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত প্রায় ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে মততাজ বেগম পারুলকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপরোল্লিখিত স্তবকগুলো গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত একটি শীর্ষ সংবাদের বিবরণ। এ বিবরণ পাঠক হিসেবে যিনি পড়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই থমকে দাঁড়িয়েছেন এবং পাঠকদের অনেকেই স্বগতোক্তি করে নিশ্চয়ই বলেছেন, ফরিদগঞ্জের মমতাজ বেগম পারুল সাধারণ কোনো প্রতারক নন--তিনি ভয়ঙ্কর এক নারী প্রতারক। তার কতোটা সম্মোহনী শক্তি থাকলে তিনি অন্য অনেক নারীর নিকট নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য (!) হিসেবে তুলে ধরে পটিয়ে তাদের মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছেন, নানান বাহানায় কোটি টাকারও অনেক বেশি করায়ত্ত করেছেন, ঋণদাতাদের চোখে ধুলো দিয়ে ঋণ নিয়ে পরিশোধ ছাড়াই নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন। মাত্র একজনের আইনি পদক্ষেপে তিনি ফেঁসেছেন। প্রতারণার শিকার বাকি অনেক নারী ও কিছু পুরুষ যদি এই সুযোগে পারুলের বিরুদ্ধে এগিয়ে না আসেন, তাহলে জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি প্রতারণা-জালিয়াতির এমন বিস্তার ঘটাতে পারেন, যার ফলে তার নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে, যাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়