বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:০২

মতলব উত্তরে এসব হচ্ছেটা কী?

অনলাইন ডেস্ক
মতলব উত্তরে এসব হচ্ছেটা কী?

মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কৃষক মো. জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মো. জাকির হোসেন মিয়াজি রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে জাকির হোসেন মিয়াজির ওপর হামলা চালায় উত্ত্যক্তকারীরা। হামলায় জাকির হোসেন মিয়াজির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন তিনি। তিনি তিন মেয়ে ও দু ছেলেসহ ৫ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিয়াজির দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ক’জন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতো। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন। এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় জাকির হোসেন মিয়াজির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল মকলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজির ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি মামলা দায়ের করেন। নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই ক’জন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে। বড়ো মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবহিত করেনি। এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে। মতলব উত্তরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নূতন সরকার গঠনের পর থেকে একের পর এক এমন সব অঘটন ঘটছে, যা শুধু চাঁদপুর জেলায় নয়, পুরো দেশের আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় পিতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি সচেতন, বিবেকবান ও সংবেদনশীল প্রতিটি মানুষকে মর্মাহত করেছে। নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাকিবাকে একদল উত্ত্যক্তকারী উত্ত্যক্ত করে অতিষ্ঠ করে তুললে তার নিরীহ কৃষক পিতা জাকির প্রতিবাদ করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হন। এটা জানতে পেরে উত্ত্যক্তকারীরা জাকির মিয়াজির ওপর চড়াও হয়, তাকে বেধড়ক পেটায়, যার পরিণতিতে তিনি তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়েও বেঁচে থাকতে পারলেন না। অথচ প্রধান শিক্ষক এ ব্যাপারে তাকে কোনো অভিভাবক কিছু অবহিত করার বিষয়টি অস্বীকার করলেন! এটা কি প্রধান শিক্ষকের মিথ্যাচার, না দায় এড়ানোর অপকৌশল সেটা জানা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের কোনো ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সেটা যেমন অমার্জনীয় হবে এবং তিনি শাস্তিমুক্ত থাকাটা অন্যায় হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনের মাথা ঘামানোর মতো তাগিদ তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সাকিবার উত্ত্যক্তকারীদের আটক এবং সাকিবার ছয় সদস্যের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনিবার্য উপযোগিতাও তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারো উদাসীনতা ও অবজ্ঞা যে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কোন্ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা উপর-নীচ সকল মহলকে ভাবতেই হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়াটা দুঃখজনক। যেমন দুঃখজনক হিন্দু বিয়েতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনায় তাঁর নিশ্চুপ থাকাটা এবং এ সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ গ্রেফতার না হওয়া। আমরা এ দুটি ঘটনার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। স্মর্তব্য, মতলব উত্তর পুরো ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সন্ত্রাসের জনপদ নামে যে কুখ্যাতির আবরণে ঢাকা ছিলো, সে আবরণ সরিয়ে ফেলার মোক্ষম সময় এসেছে। সে সময়টা কাজে লাগানোর আগ্রহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের না থাকলে সেটা আপত্তিকর বলেই বিবেচিত হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়