প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২২
কচুয়া পিআইও’র খুঁটির জোর কোথায়?

কচুয়া উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে মেহেদী হাসান নামের এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিনিধি ও কচুয়া সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সাকিব সম্প্রতি তার পত্রিকায় ‘কচুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি কচুয়া উপজেলা পরিষদ ভবনে গেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম তাকে তার কক্ষে ডাকেন। পরে কথা বলার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাংবাদিক মেহেদী হাসান ওই কক্ষ ত্যাগ করলে উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় চলে আসলে ওই কর্মকর্তা পরিষদ ভবনের চতুর্থ তলা থেকে দৌড়ে দ্রুত নিচতলায় নেমে আসেন এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক নিয়ে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয়দের হাতে এসেছে বলেও জানা গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। তারা বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যে হুমকিস্বরূপ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান তারা। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্যে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বিষয়টি চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে অবহিত করেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান। তিনি তাঁদের কাছে এ হামলার তদন্তপূর্বক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন। আমরা যদ্দুর জানি, কচুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাকিবুল ইসলাম পিআইওদের সংগঠনের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত যে কোনো সংবাদের লিখিত প্রতিবাদ প্রেরণ করতে পারেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু তিনি সেটা না করে গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে হেনস্তা করা এবং অধীনস্থ কর্মচারীসহ লাঞ্ছিত করার চেষ্টা কোনো প্রকার ঔচিত্যের পর্যায়ে পড়ে না। তিনি সংবাদের ব্যাপারে তার ক্ষোভের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কচুয়া প্রেস ক্লাবসহ অন্য সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে জানাতে পারতেন। গণমাধ্যমে প্রেরিত তার প্রতিবাদ প্রকাশ না পেলে তিনি আইনি ব্যবস্থাগ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারতেন। কিন্তু এসব না করে তিনি পিআইওদের সংগঠনের নেতা হবার বলে কিংবা অন্য কোনো খুঁটির জোরে মেহেদী হাসানের ওপর চড়াও হয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, না আইন হাতে তুলে নেবার চেষ্টা করেছেন, সেটা নিয়ে যেমন আগ্রহীদের কৌতূহল রয়েছে, তেমনি সাংবাদিক সমাজের তীব্র প্রতিবাদ জানানোর অবকাশ তৈরি হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উপজেলা পর্যায়ে পিআইও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও’র হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি। আর কচুয়ার এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও ত্রাণমন্ত্রীর নিকট ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি।





